Mamata Banerjee

বিলম্বিত বোধোদয়! একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে প্রস্তাব দিতে পারেন মমতা

গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি বিরোধী ভোট একত্রিত করতে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে এসেছিলেন রাহুল গান্ধীরা। সেই তত্ত্ব মানতে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কয়েকটি শরিক দল। যাদের একেবারে সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল।

Advertisement
সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: জুন ৩, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
বিলম্বিত বোধোদয়! একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে প্রস্তাব দিতে পারেন মমতা

বিলম্বিত বোধোদয় তৃণমূল কংগ্রেসের! রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেসের যে ফর্মুলা নস্যাৎ করে দিয়েছিল বাংলার সদ্য প্রাক্তন শাসকদল, এবার তারাই আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দিতে চলেছে আগামী সপ্তাহের ‘ইন্ডিয়া’ বৈঠকে। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ৮ জুন হতে চলেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির বৈঠক। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রত্যেক দলের শীর্ষনেতৃত্বের। সূত্রের খবর, তৃণমূলের তরফে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্বয়ং। সোনারপুর ঘটনার পর সুস্থ হয়ে উঠলে যেতে পারেন অভিষেকও। সেই বৈঠকেই এই প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে মমতা-অভিষেকের তরফে। তাঁদের যুক্তি হবে, আপাতত বিজেপিকে ঠেকাতে এর বাইরে আর কোনও পথ খোলা নেই। এর পিছনে সাম্প্রতিক অতীতে হয়ে যাওয়া বিভিন্ন নির্বাচনের নানা অঙ্কও তুলে ধরা হবে।

Advertisement

দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ৮ জুন হতে চলেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলির বৈঠক। যেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রত্যেক দলের শীর্ষনেতৃত্বের। সূত্রের খবর, তৃণমূলের তরফে থাকতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। সোনারপুর ঘটনার পর সুস্থ হয়ে উঠলে যেতে পারেন অভিষেকও।

গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি বিরোধী ভোট একত্রিত করতে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে এসেছিলেন রাহুল গান্ধীরা। সেই তত্ত্ব মানতে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কয়েকটি শরিক দল। যাদের একেবারে সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় ৪২টির মধ্যে ১০টি আসন চেয়েছিল কংগ্রেস। যাতে অভিষেকরা বলেছিলেন, ‘১৯-এর নির্বাচনে রাজ্যে মাত্র দু’টি আসন জেতা কংগ্রেস কোন যুক্তিতে ১০টি আসন চাইছে? পাল্টা কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, সেক্ষেত্রে তৃণমূলেরও তো জেতা ২২টির বেশি আসনে প্রার্থী দেওয়া উচিত নয়। এখানেই হিসাবে থামেনি দু’দলের ঠান্ডা লড়াই। বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরিকে হারানো কার্যত চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির হারের জেরে আরও তলানিতে চলে যায় দু’দলের সম্পর্ক। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও কংগ্রেসের তরফে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু আসন সমঝোতায় রাজি হননি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। 

Advertisement

গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি বিরোধী ভোট একত্রিত করতে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে এসেছিলেন রাহুল গান্ধীরা। সেই তত্ত্ব মানতে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কয়েকটি শরিক দল। যাদের একেবারে সামনের সারিতে ছিল তৃণমূল।

তৃণমূলের পথে হেঁটেই সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি, ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মতো দলগুলিও কংগ্রেসের প্রস্তাবে সেভাবে সাড়া না দিয়ে দরাদরি করেছে। কংগ্রেসও আসন সমঝোতায় দেরি করায় গত নির্বাচনে কার্যত একজোট হতে পারেনি ‘ইন্ডিয়া’। বাংলায় ভরাডুবির পর কার্যত তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে চলেছে মমতা-অভিষেকদের হাত থেকে। তামিলনাড়তেও ভরাডুবি হয়েছে ডিএমকে-র। দেশের একমাত্র রাজ্যে উড়তে থাকা লাল পতাকা নেমে গিয়েছে কেরলে। যার জেরে বিজেপি বিরোধী জোটে ফের শক্তিশালী হচ্ছে কংগ্রেস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কংগ্রেস কার্যকরী সমিতির এক সদস্যের বক্তব্য, “কথায় আছে না, ঠেলায় না পড়লে বেড়াল গাছে ওঠে না! তৃণমূলের অবস্থা হয়েছে তাই। সেই রাহুলজির প্রস্তাবই মানতে হচ্ছে। যতদিন নিজেদের ক্ষমতার দন্ত ছিল, ততদিন ‘ইন্ডিয়া’-কে দুর্বল করে গিয়েছে। এখন ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ায় বাস্তবটা বুঝতে পেরেছে। ফের প্রমাণ হয়ে গেল, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে বাকিদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.