Priyanka Gandhi

‘বৈসরনে নিরাপত্তা ছিল না কেন? পহেলগাঁওয়ের দায় নিতে হবে মোদি-শাহকে’, সংসদে সোচ্চার প্রিয়াঙ্কা

পহেলগাঁওকাণ্ড সব থেকে বড় গোয়েন্দা ব্যর্থতা, মন্তব্য কংগ্রেস নেত্রীর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৫, ১৭:১৫

options
link
‘বৈসরনে নিরাপত্তা ছিল না কেন? পহেলগাঁওয়ের দায় নিতে হবে মোদি-শাহকে’, সংসদে সোচ্চার প্রিয়াঙ্কা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পহেলগাঁও হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে সব থেকে বড় ‘ইন্টেলিজেন্স ফেলিওর’ (গোয়েন্দা ব্যর্থতা) বললেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সংসদে অপরাশেন সিঁদুর নিয়ে আলোচনায় সরাসরি মোদি-শাহ আক্রমণ করেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “কীভাবে জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র নিরাপত্তাহীন থাকল? কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই হত্যাকাণ্ডের দায় নেবেন না?”

Advertisement

সোমবার শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গলে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মৃত্যু হয় তিন জঙ্গির। সোমবার থেকেই সংসদে অপারেশেন সিঁদুর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার অমিত শাহ জানান, গতকাল পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলায় তিন জঙ্গিই সেনার গুলিতে মারা গিয়েছে। ওই জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিরোধীদের একহাত নেন শাহ। এরপর বিরোধী পক্ষের ভাষণে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক ঘণ্টা ধরে বক্তব্য রেখেছেন। ক্ষমতাসীন দলের অন্য সাংসদরাও বক্তব্য রেখেছেন। অপারেশন সিন্দুর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, জাতীয় নিরাপত্তা থেকে ইতিহাস, সবকিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তা হল ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ যখন ২৬ জনকে তাঁদের পরিবারের সামনে হত্যা করা হল, তখন প্রশাসন কোথায় ছিল? এই আক্রমণ কীভাবে হল, কেন হল?”

Advertisement

কংগ্রেস নেত্রী বলেন, “জঙ্গল থেকে জঙ্গিরা বেরিয়ে এল এবং ১ ঘণ্টা ধরে বেছে বেছে হিন্দুদের খুন করা হল! ঘটনার দিন বৈসরনে কেন নিরাপত্তা ছিল না? যেখানে সেটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। পর্যটকদের স্রেফ ভগবানের ভরসায় ছেড়ে দিল সরকার! সীমান্ত ডিঙিয়ে কীভাবে ঢুকল ওই জঙ্গিরা? এটা স্বাধীন ভারতে সব থেকে বড় ইন্টেলিজেন্স ফেলিওর (গোয়েন্দা ব্যর্থতা)।” প্রিয়াঙ্কা মনে করান, মুম্বই হামলার পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্তফা দেন। প্রশ্ন তোলেন, “পহেলগাঁও হামলার দায় নেবেন না কেন প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?”

Advertisement

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ভারতের ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় নাগরিকের। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, নৃশংস এই হামলার পর গত তিন মাস ধরে গা ঢাকা দিয়ে ছিল জঙ্গিরা। তবে সম্প্রতি জঙ্গিদের কাছে থাকা টি৮২ আল্ট্রাসেট কমিউনিকেশন ডিভাইস চালু করে জঙ্গি মুসা। এটি এক ধরনে স্যাটেলাইট ফোন যা পহেলগাঁওয়ে হামলা চালানোর সময় ব্যবহার করে জঙ্গিরা। সেই ফোন ফের চালু হতেই সেনাবাহিনী জঙ্গিদের লোকেশন জেনে যায়। শুরু হয়ে যায় অপারেশন মহাদেবের প্রস্তুতি। গত কয়েকদিন ধরে জঙ্গিদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল সেনাবাহিনী। অপেক্ষা করা হচ্ছিল এমন জায়গায় জঙ্গিরা যাক, যেখানে জঙ্গিদের ঘিরে ফেলে নিকেশ করা হবে। পালানোর কোনও পথ থাকবে না। সেই অপারেশন গতকাল চালানো হয়। যা সফল হয়েছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.