হৃদপিণ্ডে গঠনগত সমস্যা, ২৫ সপ্তাহে গর্ভপাত চেয়ে আরজি অন্তঃসত্ত্বার

প্রসবের সময়ে মায়ের জীবনের ঝুঁকি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০১৯, ০৮:৫৮

options
link
হৃদপিণ্ডে গঠনগত সমস্যা, ২৫ সপ্তাহে গর্ভপাত চেয়ে আরজি অন্তঃসত্ত্বার

স্টাফ রিপোর্টার : দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কের পর এবার উত্তর কলকাতার বেলেঘাটা। গর্ভপাত করাতে চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ২৫ সপ্তাহের এক অন্তঃসত্ত্বা। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, গর্ভস্থ ভ্রূণের হৃদপিণ্ড ঠিকমতো তৈরি হয়নি। তাই শিশুর জন্ম হলেও, তার বাঁচার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। উলটে মায়ের জীবনহানির আশংকা রয়েছে। সে কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই মহিলা। তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে। আপাতত এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডকে ওই বধূর শারীরিক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ২৫ জানুয়ারি মেডিক্যাল বোর্ডের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরই এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে হাই কোর্ট।

Advertisement

 

Advertisement

মামলার বয়ান অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে বেলেঘাটার এই দম্পতির বিয়ে হয়। তাদের ১৪ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। এরপর ২০১৮-র জুলাইয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য অন্তঃসত্ত্বা হন বেলেঘাটার এই গৃহবধূ। কিন্তু, একাধিক পরীক্ষানিরীক্ষার পর সম্প্রতি জানা যায়, গর্ভস্থ ভ্রূণের হৃদপিণ্ডের গঠন ঠিকঠাক নয়। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা আছে। এই মুহূর্তে ভ্রূণের বয়স ২৫ সপ্তাহ। এই পরিস্থিতিতে ওই মহিলাকে গর্ভপাতের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আইন অনুযায়ী, গর্ভপাতের জন্য নির্ধারিত সময় তথা ভ্রূণের বয়স ২০ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। হবু মা’কে সুস্থ রাখার চেষ্টায় গত ১৪ জানুয়ারি নীলরতন সরকার হাসপাতালের তরফে তাঁর হয়ে গর্ভপাতের জন্য আবেদন করা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। যথারীতি সেই আবেদন নাকচ হয়। এরপর এসএসকেএমে যান অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। প্রত্যাশামতো সেখানেও তেমন কিছু না হওয়ায়, সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

Advertisement

                                             [নেতাজিকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা, নতুন গান লক্ষ্মীরতনের]

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী কল্লোল বসু এবং অপলক বসু জানান, ভ্রূণটির বয়স ২৫ সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন আগেই জানা গিয়েছে, ভ্রূণটি ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। নাকের হাড় নেই, হৃদপিণ্ড গড়ে ওঠেনি। এছাড়া পেটের সমস্যাও রয়েছে। জন্ম হলে, সুস্থভাবে বাঁচার সম্ভাবনা কম। বরং প্রসবের সময় মায়ের প্রাণহানির আশংকাও থাকছে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা গর্ভপাতের পরামর্শ দিচ্ছেন। এরপরই বিচারপতি চক্রবর্তী এসএসকেএমে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে ওই মহিলার ভ্রূণ পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সপ্তাহখানেক আগে এরকমই একটি সমস্যা নিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন যোধপুর পার্কের এক দম্পতি। ২৪ সপ্তাহেও ভ্রূণের মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো না হওয়ায় জটিলতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকরা একই পরামর্শ দিয়েছিলেন। মানবিকতার স্বার্থে এবং হবু মা’কে বাঁচাতে ব্যতিক্রমীভাবে আইন লংঘন করে গর্ভপাতে অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারকরা। বেলেঘাটার মহিলাও কি সুবিচার পাবেন? ২৫ তারিখের পরই তা জানা যাবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.