Hooghly

পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ার ইচ্ছা, ধর্ম বদলে সমীরুদ্দিন হলেন সমীর

মুসলিম থেকে হিন্দু হওয়ার জন্য দীর্ঘ ষোলোটা বসন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে।

অভিরূপ দাস
অভিরূপ দাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১৬:১১

options
link
পঞ্চভূতে বিলীন হওয়ার ইচ্ছা, ধর্ম বদলে সমীরুদ্দিন হলেন সমীর
সমীর রায়। নিজস্ব চিত্র

মৃত্যুর পর আগুনে পুড়ে পঞ্চভূতে বিলীন হতে চান। ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম থেকে হিন্দু হলেন লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আইটি বিভাগের কর্মী বছর ৪৬-এর সমীরুদ্দিন মোল্লা। এক-দুদিন নয়। মুসলিম থেকে হিন্দু হওয়ার জন্য দীর্ঘ ষোলোটা বসন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁকে। এক-দুদিন নয়। মুসলিম থেকে হিন্দু অবশেষে আদালতে এফিডেফিট করে সমীরুদ্দিন মোল্লা এখন সমীর রায়।

Advertisement

কেন হঠাৎ হিন্দু ধর্মে? হিন্দু দর্শন অনুযায়ী মানবদেহ পাঁচটি মূল উপাদান যাকে বলা হয় পঞ্চভূত, এই পঞ্চভূত অর্থাৎ ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম। হিন্দু ধর্মে মনে করা হয়, দাহকাজের মাধ্যমে শরীর পুড়িয়ে এই উপাদানগুলোকে প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় আবার। মৃত্যুর পর তেমন পরিণতি চেয়েছিলেন সমীরুদ্দিন। কিন্তু পুরনো ধর্মে সেটা সম্ভব নয় যে। হুগলি (Hooghly) জেলার চুঁচুড়ার বাসিন্দা সমীরুদ্দিন মোল্লা লেডি ডাফরিন হাসপাতালের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মী।

Advertisement

সমীর জানিয়েছেন, “নতুন ধর্ম থেকে পুরনো ধর্মে ফেরা সহজ নয়। ২০১০ সালে প্রথম আমি আদালতে আবেদন করেছিলাম হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার জন্য। কিন্তু বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। চন্দননগর আদালতের এক বিচারক সে সময় আমায় জানিয়েছিলেন, হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে গেলে হিন্দু ধর্মের কোনও আধ্যাত্মিক, ধর্মপ্রবণ মানুষের কাছ থেকে শংসাপত্র নিতে হবে।” সে সময় সমীরুদ্দিন লেডি ডাফরিন হাসপাতালের ডা. কৃষ্ণ বালার সঙ্গে পরিচয় হয়। ডা. কৃষ্ণা বালা ইসকন মন্দিরের একটি বিভাগের দায়িত্বে।

Advertisement

তাঁর কাছে সাহায্যের জন্য যান সমীরুদ্দিন। কৃষ্ণাদেবী জানিয়েছিলেন,মুখে বললেই হবে না। কিছু সময় তোমার জীবনযাপন পর্যবেক্ষণ করব। সব দেখে তবেই শংসাপত্র। সমীরুদ্দিনের জীবন-ধারণ দেখে অবশেষে শংসাপত্র দিতে রাজি হন ওই চিকিৎসক। সমীরুদ্দিন কথায়, “আমার মা ছিলেন হিন্দু, রূপা অধিকারী। বাবা মুসলমান, আলিবোর্দিন মোল্লা। বিয়ের পর মা ধর্ম পরিবর্তন করে হন পারভিন রোজি।” তাঁর কথায়, “দিদার বাড়ি লক্ষ্মীপুজো বরাবর আমিই করতাম। হিন্দু ধর্মের রীতি নীতি প্রথা আমার বরাবরই ভালো লাগে। চাই জীবন শেষ হওয়ার পর দাহ হোক। কিন্তু আমার নাম অনুযায়ী তা হত না। মাটির তলায় কবর হত। একটা ছেলে পুজো আচ্চা করছে এদিকে মৃত্যুর পর তাকে কবর দেওয়া হচ্ছে, এটা ঠিক দেখাত না।” সে কারণে এমন সিদ্ধান্ত যুবকের। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.