ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী বাছাই হবে একেবারেই জনমতের ভিত্তিতে। নিজেদের প্রার্থী বেছে নিতে পারবেন নিজেরাই। নজিরবিহীন এই পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্যের শাসকদল শুরু করল নয়া কর্মসূচি – ‘তৃণমূলে নবজোয়ার’। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবন থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ”নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ এর আগে বাংলা কেন, ভারতে কখনও কোথাও হয়নি। এটা হবে মানুষের পঞ্চায়েত। ৬০ হাজার গ্রামীণ বুথে মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হবে। গোপন ব্যালটে আপনারা পছন্দের প্রার্থীকে আমি দু’মাস রাস্তায় থাকব। কলকাতায় ফিরব না।”

‘তৃণমূলে নবজোয়ার’ কর্মসূচির একটি অংশ ‘গ্রামবাংলার মতামত’। কোচবিহার (Cooch Behar) থেকে কাকদ্বীপ (Kakdwip) পর্যন্ত চলবে এই জনসংযোগ যাত্রা। সামগ্রিক কর্মসূচির রূপরেখা ঠিক করে দিলেন অভিষেক। একঝলকে দেখে নিন কেমন হতে চলেছে তৃণমূলের নয়া কর্মসূচি –
- ২৪ এপ্রিল – রাতে কলকাতা থেকে কোচবিহার যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু কর্মসূচি। এরপর দিনহাটা, থেকে মাথাভাঙা সফর। এই জেলায় ২ দিন থাকবেন তিনি।
- রোজ সকাল ১০টায় বেরিয়ে ৩,৪টি জনসভা করবেন। সন্ধেবেলা ৬ টায় ক্যাম্পে ফিরবেন। ওই জেলার ক্যাম্পে বুথ সভাপতি পর্যন্ত ডাকা হবে। ৩০০০-৪০০০ মানুষকে ডেকে কথা বলার পর গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন তাঁরা। নাম বা ফোন নম্বর থাকবে না। কাকে প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান, তা গোপন ব্যালটে লিখে দেবেন তাঁরা। তার ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই হবে।
- কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহে আসবেন অভিষেক। তারপর সেখান থেকে বীরভূম দিয়ে তৃণমূলে ‘নবজোয়ার কর্মসূচি’ শুরু হবে দক্ষিণবঙ্গে।
- ২৪ জুন – দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে শেষ হবে এই কর্মসূচি।

এই কর্মসূচিকে কংগ্রেসের (Congress) ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র সঙ্গে তুলনা করা হলেও তা উড়িয়ে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বললেন, ”আমরা কংগ্রেসের মতো পায়ে হেঁটে বাংলা ঘুরব না। সেটা ২ মাসে করা একেবারেই অসম্ভব। আমরা পঞ্চায়েত স্তরে মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বোঝার চেষ্টা করব, তাঁরা প্রার্থী হিসেবে কাকে চান। সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এমন প্রার্থী চাই, যিনি গ্রীষ্ম-শীত-বর্ষা সারাবছর ধরে মানুষের হয়ে কাজ করবে।” অভিষেকের আরও বক্তব্য, ”আমি বুথে বসে ভাবছি, আমার পঞ্চায়েতে দাঁড়ালে দুর্নীতি হবে না, সব পরিষেবা পাব। এটা বড় সুযোগ। এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মানুষকে। দলের সুপারিশের উপর হল মানুষের সুপারিশ। এর মধ্যে মানুষের মতামত নেওয়া হবে। আর এটাই নবজোয়ার।”

সর্বশেষ খবর
-
‘আমরা আসছি’, ভারত সফরের আগে সোশাল মিডিয়ায় বিশেষ বার্তা ব্রাজিল দলের
-
প্রোমোটারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ! কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরল দুর্নীতি দমন শাখা
-
বাংলার পর অসমের মামলাতেও জামিন, ১৩ বছর পর বিরাট স্বস্তিতে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন
-
পুকুরে ভেসেই কাটছিল জীবন! অনন্ত আম্বানির হস্তক্ষেপে মুম্বইয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সেই ইকবাল
-
এবার রাজ্য ও জাতীয় টেবিল টেনিস দলকে স্পনসর করবে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর! বড়সড় ইঙ্গিত মন্ত্রীর