সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: চ্যালেঞ্জ ছিল বড়সড়। বড় একটা কাজে যে শামিল হয়েছেন তা জানতেন উজ্জ্বল দাস। ফর্টিস হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স চালক তিনি। বেঙ্গালুরু থেকে যে হৃদপিণ্ড এসেছে, বিমানবন্দর থেকে তা হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব বর্তেছিল তাঁর কাঁধেই। অ্যাম্বুল্যান্সের স্টিয়ারিংয়ে হাত ছিল তাঁরই। কোনওরকম ভুলচুক করেননি উজ্জ্বলবাবু। মাত্র আঠেরো মিনিটেই কুড়ি কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে তা পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে।
[ বেঙ্গালুরু থেকে উড়িয়ে আনা হল হৃদপিণ্ড, অঙ্গদানে নয়া ইতিহাস কলকাতার ]
ইতিহাস কলকাতায়। হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন পূর্ব ভারতে এই প্রথম। দূরূহ কাজ সন্দেহ নেই। বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা বরুণ ডিকে দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। ব্রেন ডেথ হওয়ার পর তাঁর হৃদপিণ্ডটি সংরক্ষণ করা হয়। এদিকে কলকাতায় ফর্টিস হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়েই ভরতি ছিলেন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দিলচাঁদ সিং। হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয় তাঁর। ভাগ্যক্রমে বরুণবাবুর সঙ্গে রক্তের গ্রুপ মিলেও যায়। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের। শক্ত কাজ, তবে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন সকলেই। কলকাতার চিকিৎসক মহল ইতিহাসের মাইলস্টোনের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ব্যবস্থা অনুযায়ী সকাল ১০.৫৩ নাগাদ বেঙ্গালুরু থেকে হৃদযন্ত্রটি কলকাতা বিমানবন্দরে আনা হয়। ১১.০৯ মিনিটে তা নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন চালক উজ্জ্বল দাস। স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখার আগে থেকেই তিনি জানতেন চ্যালেঞ্জ কতখানি বড়। দক্ষ উজ্জ্বলবাবু নিজের দায়িত্ব শুধু পালনই করেননি, করেছেন অসম্ভব দ্রুততায়। প্রায় ২২ কিমি পথ তিনি ১৮ মিনিটেই অতিক্রম করেছেন। আর তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে কলকাতা পুলিশ ও বিধাননগর কমিশনারেট। গ্রিন করিডর তৈরি করা হয়। সব সিগন্যাল সবুজ। ফলে মাত্র আঠেরো মিনিটের মধ্যেই অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায় ফর্টিসে। শুরু হয় প্রতিস্থাপন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, অপারেশন সফলও হয়েছে। তবে আরও ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা।
[ বিষ খাইয়ে খুন দাদাকে, তিন বছর পর অভিযোগ জানালেন সাঁতারু মাসুদুরের বোন ]
টেনশন ছিল। চ্যালেঞ্জ ছিল। সব পেরিয়ে এখন খুশি চাকদহের বাসিন্দা উজ্জ্বলবাবু। ফর্টিসের শুরু থেকেই এখানে চাকরি করছেন তিনি। কত সংকটজনক রোগীকেই না হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন। গত পরশুই এক সংকটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে এনেছেন। তবে তখন তো যানজট ছিল। কিন্তু আজ যেভাবে পুলিশ গ্রিন করিডর তৈরি করে দিয়েছে তাতে অভিভূত ৩৯ বছরের উজ্জ্বলবাবু। এখন তাঁর শুধু একটাই কামনা, অপারেশন যদি সফল হয়, রোগী যদি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তবে সেটাই হবে তাঁর সবথেকে বড় প্রাপ্তি।
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগেই হেঁশেলে আগুন! ফের বাড়ল গ্যাসের দাম, কলকাতায় সিলিন্ডার পিছু কত দর?
-
কলকাতায় অপরাধের ‘হটস্পট’ কোনগুলি? ওসিদের কী নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার?
-
সিকিম ঘুরতে যাচ্ছেন পুজোতে? বড় বদল পর্যটনে, জেনে নিন নয়া নিয়ম-নীতি
-
‘৯০ শতাংশ ভোটার সরে যেতে দ্বিধা করবে না’, বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণে’ সতর্কবার্তা সংঘ মুখপত্রে
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ছড়াল টলিউড অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি! ধৃত ‘প্রাক্তন’ প্রেমিক