Ayush Treatment

গলায় খাবার আটকে মৃত্যু রুখতে বিশেষ প্রশিক্ষণ, ‘হেইমলিখ কৌশল’ শিখলেন ৩০ ডাক্তার

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ জন আয়ুশ মেডিক্যাল অফিসার ক্লাস করেন। ম‌ানবপুতুলের সাহায্য নিয়ে সিপিআর, হাইমলিখ টেকনিকের মাধ্যমে শ্বাসরোধজনিত সমস্যা মোকাবিলা, এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, প্রাথমিক ট্রমা কেয়ার এবং জরুরি রোগী মূল্যায়নের পদ্ধতি শেখানো হয়।

গৌতম ব্রহ্ম
গৌতম ব্রহ্ম

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১৮:৪৮

options
link
গলায় খাবার আটকে মৃত্যু রুখতে বিশেষ প্রশিক্ষণ, ‘হেইমলিখ কৌশল’ শিখলেন ৩০ ডাক্তার
হেইমলিখ কৌশল। প্রতীকী ছবি।

১৯৬০ সালের ৮ নভেম্বর। টোকিওতে, একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার সময় খাবারের একটি টুকরো শ্বাসনালিতে আটকে মারা যান এয়ার মার্শাল সুব্রত মুখোপাধ‌্যায়, মাত্র ৪৯ বছর বয়সে। টোকিওতে একটি বিমান পরিষেবা উদ্বোধনের পর তিনি এয়ার কমোডর প্রতাপচন্দ্র লাল এবং অন্যান্য সঙ্গে ডিনার করতে গিয়েছিলেন। সম্প্রতি বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে গলায় ট‌্যাবলেট আটকে মৃত্যু হয়েছিল খড়গপুর আইআইটির এক পড়ুয়ার। দু’দিন আগে গলায় মাংসের টুকরো আটকেও প্রাণ সংশয় হওয়া এক ব‌্যক্তিকে বাঁচিয়েছে পিজি হাসপাতাল। এমন অনেক উদাহরণ আছে।

Advertisement

অথচ সামান্য একটি প্রকৌশল জানা থাকলেই এমন বহু অকালমৃত্যু আটকানো যেত। কিন্তু সমস্যা হল এমবিবিএস, বিএএমএস, বিএইচএমএস– ডাক্তারির কোনও পাঠ‌্যক্রমেই ‘হেইমলিখ টেকনিক’ (Heimlich Technique) শেখানো হয় না। ফলে, অনেক ডাক্তারও গলায় খাবার আটকে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছেন। এবার শাপমুক্তির চেষ্টায় তিনদিনের ক্লাসের আয়োজন করল স্বাস্থ্য দফতর। প্রথম দু’দিন অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট ও বেসিক লাইফ সাপোর্টের ক্লাস হল আর জি কর হাসপাতালে। শেষ দিন স্বাস্থ্যভবনের ‘ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ‌্যান্ড ফ‌্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এ। তবে শুধু হেইমলিখ প্রকৌশল নয়, কার্ডিও-পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)-সহ আরও কিছু জীবনদায়ী বিষয় শেখানো হল জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ডাক্তারদের দক্ষ করতে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই পর্যায়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ জন আয়ুশ মেডিক্যাল অফিসার ক্লাস করেন। ম‌ানবপুতুলের সাহায্য নিয়ে সিপিআর, হাইমলিখ টেকনিকের মাধ্যমে শ্বাসরোধজনিত সমস্যা মোকাবিলা, এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, প্রাথমিক ট্রমা কেয়ার এবং জরুরি রোগী মূল্যায়নের পদ্ধতি শেখানো হয়। ‘ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ‌্যান্ড ফ‌্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এর অধিকর্তা ডা. কৌস্তভ নায়েক এই তথ্য জানিয়ে বলেন, আয়ুশ চিকিৎসকেরা প্রান্তিক স্তরের স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ফলে আয়ুশ চিকিৎসকরা আরও ভালোভাবে জরুরি পরিষেবা দিতে পারবেন।

Advertisement

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকেরা জানান, এই প্রশিক্ষণ তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে সমগ্র রাজ্যে জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও মজবুত করা যায়। সাপে কাটা চিকিৎসা নিয়েও এমবিবিএস পাঠক্রমে তেমন কিছু না থাকায় এই বিষয়েও টানা ওয়ার্কশপ চলছে রাজ‌্যজুড়ে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.