কাল বাংলায় বাণিজ্য সম্মেলন, আসছেন মুকেশ আম্বানি-সহ বণিকসভার নক্ষত্ররা

শিল্পপতিদের কাছে রাজ্য সরকারের সুনির্দিষ্ট বার্তা, বাংলায় আসুন। বিনিয়োগ করুন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৯, ১৮:০৬

options
link
কাল বাংলায় বাণিজ্য সম্মেলন, আসছেন মুকেশ আম্বানি-সহ বণিকসভার নক্ষত্ররা

স্টাফ রিপোর্টার: এগিয়ে বাংলা!
বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে এটাই তুলে ধরছে রাজ্য সরকার। কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য কর্মসংস্থানে বাংলা শুধু এগোয়নি, দেশের মধ্যে সেরা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের স্পষ্ট বার্তা, দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলি যা পারেনি, তাই করে দেখিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আগামিকাল থেকে শুরু হচ্ছে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট। চলবে শুক্রবার পর্যন্ত। শিল্প সম্মেলনের আসর বসবে নিউটাউনের বিশ্ববঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে। দেশ-বিদেশের শিল্পপতিরা হাজির থাকবেন এই সম্মেলনে। শিল্পপতিদের কাছে রাজ্য সরকারের সুনির্দিষ্ট বার্তা, বাংলায় আসুন। বিনিয়োগ করুন।

Advertisement

এর আগের শিল্প সম্মেলনগুলিতে দেখা গিয়েছে, কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে শিল্পপতিদের কাছ থেকে। এবার লগ্নির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য বাজেট পেশের সময় রাজ্যের শিল্প ও অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, গত চারটি বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে মোট ৯,৪৮,৫৬৯ কোটি টাকা লগ্নি করার প্রস্তাব এসেছে। ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার এই বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন নিয়ে এক বার্তায় উল্লেখ করেছে, সমৃদ্ধির নজির গড়ছে বাংলা। দ্রুত গতিতে বাংলায় কীভাবে উন্নয়ন হচ্ছে, সেটাই দেশ-বিদেশের শিল্পপতিদের সামনে তুলে ধরতে চায় রাজ্য। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ঋণপ্রদান থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃষ্টান স্থাপন করেছে বাংলা। বাংলা মানে এগিয়ে যাওয়া। কীভাবে বাংলা এগিয়েছে, তার তথ্যও দিয়েছে রাজ্য। সরকার জানিয়েছেন, জিএসডিপি বৃদ্ধির হারে ১ নম্বরে রাজ্য। শিল্প বৃদ্ধির হার ১৬.২৯ শতাংশ। দেশের হারের তুলনায় ৩ গুণেরও বেশি। গত সাত বছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ২.৫ গুণের বেশি। রাজ্যের জিভিএ বৃদ্ধি দেশের সার্বিক বৃদ্ধির থেকে ৬৫ শতাংশ বেশি। এছাড়াও কৃষি, অরণ্য ও মৎস্য চাষে বৃদ্ধি দেশের সার্বিক বৃদ্ধির থেকে ২৪৭ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি দেশের তুলনায় রাজ্যে ১৯৪ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে শিল্পক্ষেত্রে। পরিষেবাক্ষেত্রে বৃদ্ধি দেশের সার্বিক বৃদ্ধির থেকে ২৬ শতাংশ বেশি। ২০১৮-১৯ সালে জিডিপি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার কোটিতে পৌঁছচ্ছে। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা এক নম্বরে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিস্থিতির কথা এর আগে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিল্পপতিদের কাছে বাংলায় লগ্নির বার্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিল্প সম্মেলন করেছেন ইতালি, জার্মানি, ইউরোপের দেশগুলিতে। যাতে সাড়া দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পপতিরা বাংলায় বিনিয়োগের বার্তা দিয়েছেন। হাত বাড়িয়েছেন। এবার উদ্যোগপতিদের কাছ থেকে আরও বেশি অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব আসবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার ও বাংলার শিল্পমহল। এবারের শিল্প সম্মেলনে ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, ব্রিটেন-সহ দেশের ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন। এছাড়াও থাকবেন রিলায়েন্স গোষ্ঠী, গোদরেজ গোষ্ঠী, হিরো মোটর, ভারতী এয়ারটেল, জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর-সহ দেশের স্বনামধন্য শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধাররা। এই শিল্প সম্মেলনে চার হাজারের বেশি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন বলে মনে করছে রাজ্য। সেখানে কয়েক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব আসবে, তা প্রায় চূড়ান্ত।

Advertisement

তার আগে রাজ্য বাজেটে ফুটে উঠেছে শিল্পায়নের ছবি। গত বছরের জানুয়ারিতে হয়েছে বিজনেস সামিট। এসেছিল ৩২টি দেশের শিল্পোদ্যোগী। বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রায় ১৪৫.৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফ্লিপকার্ট যেমন বিনিয়োগ করছে, তেমনই পরিকাঠামোর দিক মাথায় রেখে তাজপুরে বন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। হলদিয়া পেট্রোকেমেরও পুনরুজ্জীবন হয়েছে। গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই, মেসার্স গেইল-এর সঙ্গে যৌথ বাণিজ্যের শর্তে বেঙ্গল গ্যাস নাম নিয়ে প্রযুক্তিগত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে অংশ নিচ্ছে। ২০১৯-২০ সালের মধ্যে ৭৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন বসিয়ে ও ৬টি সিএনজি স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের কাজ করবে বলে স্থির হয়েছে। শুধু বৃহৎ শিল্প নয়, কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রেখে গত সাত বছর ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারিতে এখন মোট ক্লাস্টারের সংখ্যা ৫২০টি। বাড়ছে ঋণের পরিমাণ। চলতি আর্থিক বছরে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০২৮৭ কোটি টাকা যা একই সময়ে গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। তন্তুজ আয় বাড়িয়েছে ২৮ শতাংশ। নভেম্বর পর্যন্ত হিসাবে বাণিজ্যিক আয় ১৮১.৩৫ কোটি টাকা। ১৯৭৬ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানে চলা মঞ্জুষার গত আর্থিক বছরে লাভ ছিল ৫.৮৭ কোটি টাকা। সেখানে মোট বরাদ্দ ১০৩৩ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র-মাঝারিতে ২০১১ সালের ৩৬ লক্ষ ৩৪ হাজার ইউনিট থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে হয়েছে ৯০ লক্ষের বেশি। এই বিপুল বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বৃহৎ শিল্পে ২০১৮-১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগমের সহযোগিতায় ৮টি নতুন শিল্পক্ষেত্রে জমি নির্ধারিত হয়েছে। ৫৮৩.৫৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে ১৮১৩ জন লোকের কর্ম সুনিশ্চিত। পুনরুজ্জীবিত হয়েছে মিৎসুবিশি, সেখানে কর্মসংস্থান আড়াই হাজার।

ছবি: রাজীব দে

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.