Calcutta High Court

অবৈধ ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত আইনি সুবিধা নয়, বলল কলকাতা হাই কোর্ট

বিচারপতিরা জানিয়েছে, ফ্ল্যাট বিক্রেতার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রেতার আইনি অধিকার বেশি হতে পারে না।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মে ৩১, ২০২৬, ২১:৩০

options
link
অবৈধ ফ্ল্যাট কিনলে ক্রেতাকে অতিরিক্ত আইনি সুবিধা নয়, বলল কলকাতা হাই কোর্ট
কলকাতা হাই কোর্ট। ফাইল ছবি

অবৈধ বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট কিনলে অতিরিক্ত আইনি সুরক্ষা পাবেন না ক্রেতারা। হাওড়া পুরসভা এলাকায় একটি অবৈধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলায় একথা জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই মামলার শুনানিতে রবিবার ছুটির দিনে বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের বিশেষ বেঞ্চ বসে। বিচারপতিরা জানিয়েছে, ফ্ল্যাট বিক্রেতার চেয়ে সংশ্লিষ্ট ক্রেতার আইনি অধিকার বেশি হতে পারে না।

Advertisement

সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ চলছে। সেই আবহেই সংশ্লিষ্ট একটি নির্মাণ পুরসভা অনুমোদিত ‘প্ল্যান পাশ’ মেনে তৈরি কি না, তা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই নিয়ে হাই কোর্টে মামলা দায়ের হয়। আদালত ওই বিষয়ে পুরসভাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। তদন্তে উঠে আসে, গোটা বিল্ডিং নির্মাণে পুরসভার নিয়ম মানা হয়নি। তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ করার অনুমোদন থাকলেও চারতলা বিল্ডিং তোলা হয়। অর্থাৎ, অতিরিক্ত একতলা বেআইনিভাবে নির্মিত হয়েছে। এরপরই হাই কোর্ট ওই অবৈধ তলাটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।

Advertisement

পুরসভা প্রথমে বাড়ির মালিককে অবৈধ অংশ ভাঙতে বলে। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। পরে অবৈধ অংশ ভাঙার কাজ শুরু করে পুরসভা। তবে পুরোটা ভাঙা হয়নি। এরই মধ্যে গত বছর মামলাকারী মৌসুমী রায় এবং তাঁর পরিবার চারতলার ওই ফ্ল্যাটটি কেনেন। তাঁদের বক্তব্য, গত বছর নভেম্বর মাসে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি হয়েছে। এখন সেই ফ্ল্যাটটি ফের ভাঙতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। আগাম কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। দাবি, তাঁদের বক্তব্য না শুনেই এখন বিল্ডিংয়ের উপরের অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদিও হাই কোর্ট জানিয়েছে, এটা ঠিক যে মামলাকারীরা অনেক পরে ওই সম্পত্তি কিনেছেন। তবুও ওই জমির উপর তাঁদের আইনি অধিকার তৈরি হয় না। আইনি অধিকার জমির মালিকেরই রয়েছে। মামলাকারীরা স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের যে দাবি করেছেন, আদালত তা-ও খণ্ডন করে দেয়। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, প্রতিটি সরকারি সিদ্ধান্তের আগে ব্যক্তিগত শুনানি করা বাধ্যতামূলক নয়। কোনও পক্ষের বক্তব্য শুনলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে এমন প্রমাণ দেখাতে হবে। শেষমেশ আদালত মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দেয়। বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মেনে ওই ভবনের চারতলা ভাঙতে পারবে পুরসভা।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.