Taki Municipality Case

টাকি পুরসভায় পাহাড় প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতি! বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

সম্প্রতি টাকি পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রদ্যুৎ দাস।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২, ২০২৬, ১৫:২৩

options
link
টাকি পুরসভায় পাহাড় প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতি! বড় নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
ফাইল ছবি।

আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে টাকি পুরসভার সদ্য ইস্তফা দেওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাসের আনা মামলায় হলফনামা তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। এনিয়ে মামলায় পক্ষভুক্ত টাকি পুরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পুর প্রশাসন অর্থাৎ এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং পৌর ও নগর উন্নয়ন দপ্তর (ডিএলভি) কে আলাদা হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে নগরোন্নয়ন দপ্তরকে যথাযথ পদক্ষেপ করতে হবে বলেও নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের।

Advertisement

এই টাকা টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্ট ও ‘ফ্রেইন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে কি করে ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। এছাড়াও টাকি পুরসভার একাধিক টেন্ডার দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।

জঙ্গল ও ট্রেন পরিষ্কারের জন্য ২০২৮-২২ অর্থবর্ষে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ। যা নিয়ে শুনানিতে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। শুধু মাত্র জঙ্গল ও ট্রেন পরিষ্কারের জন্য এত টাকা ! একই সঙ্গে, আম্ফান ত্রাণ তহবিলের প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। এই টাকা টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্ট ও ‘ফ্রেইন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে কি করে ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। এছাড়াও টাকি পুরসভার একাধিক টেন্ডার দুর্নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। যদিও এনিয়ে কোনও প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি টাকি পুরসভার আইনজীবী! তার প্রেক্ষিতেই মামলার পরবর্তী শুনানিতে মামলায় পক্ষভুক্ত প্রত্যেকের কাছে আলাদা আলাদা করে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায়, স্বশরীরে হাজির হয়ে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

Advertisement

সম্প্রতি টাকি পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রদ্যুৎ দাস। আদালতে তাঁর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজীর দাবি ছিল, নথি অনুযায়ী, সেসময় প্রবীর চট্টোপাধ্যায় নামে একজন ‘লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক’, তাঁর অ্যাকাউন্টে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা ঢোকে! কিন্তু যে সময়ের ঘটনা সেই সময় স্থায়ী বড় বাবু থাকা সত্ত্বেও একজন ক্লার্কের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢোকা পৌর আইন অনুযায়ী বেআইনি বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, একাধিক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে মামলায়। সম্প্রতি, পুরসভা এলাকায় দোকান দেওয়ার নামে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়েও চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজীকে কাঠগড়ায় তুলে একাধিক নথি পেশ করা হয়েছে আদালতে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন বিজেপি নেতা ডাঃ শৌর্য্য বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, শুধু বসিরহাটই নয়, বাদুড়িয়া ও টাকি পুরসভার ক্ষেত্রেও ভয়ংকর দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকদিন আগে বাদুড়িয়া থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। এই তিন পুরসভায় দুর্নীতিগ্রস্থ চেয়ারম্যান সহ অভিযুক্ত কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনের আওতায় এনে ‘শাস্তি’ দেওয়া উচিত ছিল প্রশাসনের। কিন্তু, তা হয়নি। অবিলম্বে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরকে এবিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.