Calcutta High Court

গ্রেপ্তারির পর কেন কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে রাস্তায়? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট

রাজ্যে পালাবদলের পর দেখা যাচ্ছে, একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাচ্ছে পুলিশ! কেন পুলিশ এই কাজ করছে? এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। আজ, শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতেই আদালত একাধিক পর্যবেক্ষণ করেছে।

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুন ৫, ২০২৬, ১৬:০৪

options
link
গ্রেপ্তারির পর কেন কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে রাস্তায়? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট

আসামি বা অভিযুক্তের ওপর অনেক রাগ থাকতে পারে, বিক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু আসামিকে অপমান কাম্য নয়। এটা করা উচিতও নয়। অন্তত সংবিধান সেকথা বলে না। গ্রেপ্তারের পর কোমরে দড়ি নিয়ে রাস্তায় ঘোরানোর আপত্তি জানিয়ে আইনজীবী ওমর ফারুক গাজির আনা জনস্বার্থ মামলায় স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট।  একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরাচ্ছে পুলিশ! কেন পুলিশ এই কাজ করছে? এই বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়েছে। আজ, শুক্রবার ওই মামলার শুনানিতেই আদালত একাধিক পর্যবেক্ষণ করেছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে।

Advertisement

সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যে একাধিক জায়গায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, কোথাও অভিযুক্তকে থানা থেকে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো হয়েছে। আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে থানা থেকে। সাধারণ বাসিন্দারা সেসব ভিডিও মোবাইলে তুলছেন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় গত দুই সপ্তাহে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একজন অভিযুক্তকে এভাবে কেন ঘোরানো হবে? বিভিন্ন মহলে সেই প্রশ্ন উঠছে। সেই ইস্যুতে পুলিশের ভূমিকা ও এই পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। 

Advertisement

কলকাতা হাই কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ, আসামি বা অভিযুক্তের ওপর অনেক রাগ থাকতে পারে, বিক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু আসামিকে অপমান কাম্য নয়। এটা করা করা উচিতও নয়।

হাই কোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চে শুক্রবার এই মামলাগুলির শুনানি হয়। সেখানেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, “পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আইন মেনে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করতে পারে। দোষ প্রমাণিত হলে তাঁকে ফাঁসিতেও চড়াতে পারে। কিন্তু গ্রেপ্তারের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে অভিযুক্তদের সম্মানহানি করতে পারে না।” পুলিশ এভাবে কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানোয় ওইসব ব্যক্তির সম্মানহানি হচ্ছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ। ইচ্ছে করে এটা যেন না করা হয়, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কলকাতা হাই কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ, আসামি বা অভিযুক্তের ওপর অনেক রাগ থাকতে পারে, বিক্ষোভ থাকতে পারে। কিন্তু আসামিকে অপমান কাম্য নয়। এটা করা করা উচিতও নয়। অন্তত সংবিধান সেকথা বলে না। রাজ্যের তিন-চারটি ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ওই রিপোর্ট রাজ্যকে দিতে হবে। হাই কোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে, সেই কথাও এদিন জানানো হয়েছে। 

অন্যদিকে, হাওড়ার শিবপুর, সাঁকরাইল, গোলাবাড়ি এলাকাতেও একইভাবে কোমরে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে হাই কোর্টে মামলা হয়েছে। এদিন সেই মামলারও শুনানি হয়েছে। আইনজীবী জয়ন্ত সামন্ত এই মামলায় সওয়াল করেন। কীভাবে অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া যায়? সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.