কলহার মুখোপাধ্যায়: পচা মাংস কাণ্ডে পুলিশি নজরে এবার শহরের ঢালি চিকেন ফার্ম। ইতিমধ্যেই এই চিকেন ফার্মের মালিক কওসর আলি ঢালিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মালিক একা নয়, সব মিলিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট চিকেন ফার্মের সবকটি আউটলেটকে। বৃহস্পতিবার নারকেলডাঙায় হিন্দুস্তান কোল্ড স্টোর থেকে ২০ টন মরা পশুর মাংস উদ্ধারের পরই শহর জুড়ে শুরু হয়েছে হইচই। পুলিশের তরফে শহরেরে বিভিন্ন মুরগির মাংসের দোকানে চলছে লাগাতার অভিযান। আর এই অভিযানে নেমেই উঠে এসেছে ঢালি চিকেন সেন্টারের নাম। শুক্রবার সকালে ঢালি চিকেন সেন্টারের এক কর্মী ৭০ কেজি মাংস দিতে যান ওয়াইএফসি নামের একটি খাবারের দোকানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই প্যাকেটজাত মাংস থেকে দুর্গন্ধ বেরিয়েছিল। সেই গন্ধ নাকে যেতেই দোকান লাগোয়া বাসিন্দারা বেরিয়ে এসে ওই ব্যাক্তিকে আটকে দেন। খবর দেওয়া হয় নিকটবর্তী থানায়। ঘটনাস্থল এয়ারপোর্ট আড়াই নম্বর গেট এলাকার পুলিন অ্যাভিনিউ। পুলিশ এসে মাংস-সহ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারপরেই সামনে আসে নিউটাউনের ঢালি চিকেন সেন্টারের নাম। এই চিকেন সেন্টারের ফার্মটি রয়েছে নিউটাউন সিটি সেন্টারের পিছনে। সেখান থেকেই সমস্ত মাংস শহরের বিভিন্ন আউটলেটে সরবরাহ হত।
[কেমিক্যালের গুণে ভাগাড়ের পচা মাংস তাজা হয়ে অনায়াসে পৌঁছাত বিদেশে]
ধৃত ব্যক্তির সাক্ষের ভিত্তিতে ওই ফার্মে হানা দেয় পুলিশ। সেখানে গিয়ে দেখা যায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রয়েছে মুরগিগুলি। রয়েছে ফ্রিজার। মরা মুরগি এনে সেগুলিকে ফ্রিজারে রেখে দেওয়া হত। তারপর চাহিদামতো পিস পিস করে কেটে বিভিন্ন আউটলেটে ও অন্যান্য রেস্টুরেন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হত। এরপরেই ওই চিকেন ফার্ম থেকে মালিক-সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে সকলের নজর গিয়ে পড়ে এয়ারপোর্ট এলাকার ওয়াইএফসি খাবার দোকানে। যেখানে কেএফসি-র আদলে ফ্রাই চিকেন খাওয়ানো হত। পুলিশ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ওই রেস্টুরেন্ট বেআইনি। রেস্টুরেন্টটির কোনও রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কোড নম্বর নেই। প্রশাসনের বিনা অনুমতিতেই চলছে রেস্টুরেন্ট। সেখান থেকেও দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যাবেলা এই ঘটনার পরই চারিদিকে শোরগোল পড়ে যায়। সিল করে দেওয়া হয়েছে রেস্টুরেন্টটি।
[চিকেন আতঙ্কে দূরপাল্লার ট্রেন যাত্রীরা, চিন্তিত আইআরসিটিসি]
অন্যদিকে এই ঘটনার পরেই ঢালি চিকেনের সমস্ত আউটলেটে চলছে পুলিশি অভিযান। উল্টোডাঙার দক্ষিণদাঁড়ির দু’নম্বর গেট লাগোয়া আউটলেটটিতেও চলে অভিযান। ওই দোকানে পুলিশ যেতেই স্থানীয়রা ভিড় করে। জানান গিয়েছে, ক্রেতা দু’কেজি মাংস কিনতে আসলে বিক্রেতা আরও ৫০০ গ্রাম মাংস বিনামূল্যে দিয়ে দেন। এভাবেই চলছে। মাংসের গুণগতমান কিন্তু ভাল নয়। তবে চিকেন সেন্টারে বসে থাকা কৌশলকে কেউই খারাপ বলতে রাজি নন। এদিকে ঢালি চিকেন মরা পশুর মাংস সরবরাহ হয়, খবর পেয়েই আতঙ্কে দিশেহারা এলাকার মানুষ। তাঁরা যে কী খাবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
সর্বশেষ খবর
-
আদিবাসী স্কুলের হস্টেলে ২২ ছাত্রীর শ্লীলতাহানি! অভিযুক্ত স্কুলকর্মী, শোরগোল মহারাষ্ট্রে
-
উন্নয়নের নামে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে হিমালয়, সতর্ক না হলে সমূহ বিপদ
-
ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে একাকী যোদ্ধা! ‘মৃত্যুপুরী’ নেপালে কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন ৯৭-এর বৃদ্ধা?
-
‘আমাকে ওরা মেরে ফেলবে’, প্রসবের আগে আশঙ্কা যুবতীর! সদ্যোজাত ও মায়ের মৃত্যুুতে প্রশ্ন
-
শ্রেয়সের জায়গায় তিলক! ওয়ানডে বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ায় অনিশ্চিত জাদেজাও, কী যুক্তি গম্ভীরদের?