পুজোয় পুরনো কলকাতার বাবুয়ানিতে মজবে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন

থিমমেকার শিল্পী অনির্বাণ দাসের সৃজনে গড়ে উঠছে মণ্ডপ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯, ১৮:৩৭

options
link
পুজোয় পুরনো কলকাতার বাবুয়ানিতে মজবে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ পড়ুন চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের পুজো প্রস্তুতি৷

Advertisement

শুভময় মণ্ডল: সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষায় তাঁরা ছিলেন চিত্রবসনা, উদরবিলাসী, পরভাষা পারদর্শী, মাতৃভাষাবিরোধী, ইংরেজপ্রভুত্বে বিশ্বাসী, ফূর্তিবাজ, আমুদে। আদি কলকাতার সেই সম্প্রদায় বাবু নামে পরিচিত ছিল। প্রায় ২৫০ বছর আগে থেকে শিক্ষিত, ধনী পুরুষদের নামের আগে বাবু শব্দের ব্যবহার শুরু হয়। তখনও বাবু শব্দের ব্যবহার মোটামুটি ধনী, শিক্ষিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বঙ্গদেশে ইংরেজ শাসন চালু হওয়ার পর ছিন্নমূল মানুষের পাশাপাশি প্রতাপশালী বাবু নামে এক নতুন শ্রেণির উদ্ভব হয়। ব্রিটিশ আমলে সকলেই রাতারাতি বাবু বনে গেলেন। পুরনো ধনী সম্প্রদায় বিদায় নিল। আবির্ভাব হল এক নব্য ধনী সম্প্রদায়ের। এরাই বাবু নামে পরিচিতি পেল। পায়রা উড়িয়ে এবং বাজি পুড়িয়ে ফূর্তি করা বাবুদের বাবুয়ানিই এবার চাক্ষুষ করবেন শহরের পুজোপ্রেমীরা। ভবানীপুরের নামী পুজো চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের এবছরের থিম- বাবুয়ানি। সৃজনে থিমমেকার শিল্পী অনির্বাণ দাস।

Advertisement

20170909_140709

Advertisement

সাধাসিধা জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত মানুষ বাবু হতে পারে না। বাবু হতে গেলে কুকুরের বিয়েতে লাখ টাকা খরচ করা, ফিটনগাড়ি চেপে ভেঁপু বাজিয়ে স্নান করতে যাওয়া, রক্ষিতাদের দালানকোঠা করে দেওয়া, পায়রা ওড়ানো, বিদ্যাসুন্দরের আসর বসানো, শনি-রবিবার রাতে বাঈজি-পতিতাদের নিয়ে আসর বসানো ইত্যাদি করতে হয়। বহু বাবু লোক দেখানো এসব আমোদ করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত পর্যন্ত হয়েছিলেন। মোট কথা, বাবু শুধু ভোগ করতে চান না, খ্যাতি চান। বাবুয়ানির অর্থ হল শৌখিনতা। যার বিত্ত আছে অথচ সৌখিনতা নেই, তিনি আর যাই হোন না কেন বাবু অন্তত নন। সেই পুরনো বাবুদের মেজাজি জীবনযাত্রাই এবার মণ্ডপসজ্জায় তুলে ধরবেন শিল্পী। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারেই থাকবে বাবুয়ানির অন্যতম প্রতীক ফিটনগাড়ি। তারপর আসরের আদলে গোটা মণ্ডপ। সেখানে থাকবে বিশাল সুরাপাত্র, চটি, আরাম কেদারা, গড়গড়া। পুরনো বনেদি বাড়ির আদলে মণ্ডপ। খড়খড়ি জানালা। মূল আকর্ষণ, বাবুদের মদের আসরের উপরে বিশালকার ঝাড়বাতি। বাবুয়ানির যাবতীয় উপকরণই দ্রষ্টব্য এখানে। কাঠ, গ্লাস ফাইবার ও থার্মোকলের ব্যবহারে মণ্ডপ সাজাচ্ছেন শিল্পী।

20170909_141007

থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী অরুণ পাল। আলোর দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী পিনাকী গুহ। গতবছর মঙ্গলালোকে দুর্গাদর্শন করিয়েছিল চক্রবেড়িয়া। শিল্পী তানিয়া ভট্টাচার্যর সৃজনে মণ্ডপসজ্জা ভূয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার আড়াই শতকের পুরনো কলকাতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বাবু সংস্কৃতি পুজোপ্রেমীদের মনে কতটা দাগ কাটে এখন তাই দেখার।

20170909_140900

কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিও-

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.