ক্ষীরোদ ভট্টাচার্য: শত্রুর প্রতি নির্মম প্রতিশোধ। আবার অনুগামীদের জন্য অসীম ভালোবাসা-ইতিহাসের বিস্ময় চেঙ্গিজ খান! মঙ্গোলিয়ান সম্রাটের শরীরে কিছু বিশেষ চিহ্ন ছিল। সেই চিহ্ন দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলার সদ্যোজাতদের মধ্যে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, চেঙ্গিজের জিনই কি প্রভাব বাড়াচ্ছে রাজ্যে? তাই যদি না হবে, সদ্যোজাতদের শরীরে এমন চিহ্ন হবে কেন?
মঙ্গোলিয়ান স্পট মানে পিঠে বা কোমরে কিংবা কাঁধে কিছু জন্মচিহ্ন। জড়ুলের থেকে বড়। নীলচে, কালচে নীল অথবা গাঢ় ধূসর বড়সড় ছোপ । ডাক্তারি পরিভাষায় ‘মঙ্গোলিয়ান স্পট’কে বলে ‘কনজেনিটাল ডার্মাল মেলানোসাইটোসিস’। মেডিক্যাল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.কল্পনা দত্তের “কথায়, আদতে ভ্রূণাবস্থায় মেলানিনের ত্রুটিপূর্ণ বিপাক থেকেই এই নিরীহ দাগের জন্ম যা পৃথিবীর আলো দেখার পর ১-৬ বছর বয়সের মধ্যে নিজে থেকেই মিলিয়ে যায়।” জার্মান বংশোদ্ভূত জাপানি নৃতত্ত্ববিদ আরউইন বালজ ১৮৮৩-তে প্রথম এই স্পটটির কারণ ব্যাখ্যা ও নামকরণ করেন মঙ্গোলীয়দের নামে।
[আরও পড়ুন: মেডিক্যাল মামলায় গোটা বিচারপ্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ, দুই বিচারপতির সংঘাতে সুপ্রিম নির্দেশ]
১২২৭ খ্রিস্টাব্দে চেঙ্গিজের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যভবনের তথ্য বলছে, মঙ্গোলীয়দের ৯৫% বা তার বেশি নবজাতকই এমন দাগ নিয়ে জন্মায়। কিন্তু ভারতে তা মেলে ১০-৩০% ক্ষেত্রে বড়জোর। মঙ্গোলিয়ার লোকগাথা অনুযায়ী, চেঙ্গিজ খানের জিনের ছাপই বয়ে বেড়াচ্ছে সে দেশের সদ্যোজাতরা। তাঁরও নাকি ছিল এই জন্মদাগ। সোনারপুরের স্বপন-সোনালির ছমাসের মেয়ের পিঠে কোমরে এমন দাগ নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই মেডিক্যাল কলেজে আসবেন বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এমন জন্মদাগ পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক জেলার শিশুদের মধ্যে এমন জন্মদাগের আধিক্য কেন? বাবা-মায়েদের প্রশ্ন, দুধের বাছার পিঠে-কোমরে থাকা নীলচে দাগটা কোনও রোগের পূর্বাভাস নয়তো? অন্য কোনও অসুখের ইঙ্গিতবাহী নাকি নিছকই দাগ– কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া জেলায় একরত্তিদের দেহে এমন চিহ্ন দেখে মঙ্গোলিয়ান স্পট বলে চিহ্নিত করেছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ইদানীং মা-বাবাদের এই দাগ নিয়ে কৌতূহল ও প্রশ্নের বহর বেড়ে গিয়েছে বহুগুণ। ফলে ডাক্তারদেরও আজকাল মঙ্গোলিয়ান স্পট চোখে পড়ছে বেশি বেশি করে। স্টেট ব্লাড সেলের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল কলেজের হেমাটোলজির অধ্যাপক ডা. বিপ্লবেন্দু তালুকদারের কথায়, ‘‘মঙ্গলরা দীর্ঘদিন ভারতে রাজত্ব করেছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই জিনের পরিবর্তন ঘটেছে। তারই ফলশ্রুতি এই দাগ। তবে সময়ের সঙ্গে এই দাগ মিলিয়ে যায়।’’
[আরও পড়ুন: জ্ঞানবাপীতে ‘শিবলিঙ্গ’, ভাঙা মূর্তি! সমীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ মসজিদ কমিটির]
সর্বশেষ খবর
-
স্বমেজাজে কিম! মার্কিন সামরিক মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পিয়ংইয়ং, রেগে আগুন দক্ষিণ কোরিয়া
-
পশ্চিম সিকিমে ফের ভূমিধস, অবরুদ্ধ রিম্বি-খেচুপরি সড়ক, আতঙ্কে স্থানীয়রা
-
২০ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামে ইতি! স্বামী মদনের ডাকে বাংলায় আত্মসমর্পণের পথে মাওবাদী জবাও
-
‘পালালেও লুকোতে পারবে না’, কাশ্মীরে সেনা অভিযানে খতম জইশ জঙ্গি, উদ্ধার অত্যাধুনিক M4 রাইফেল
-
প্রদীপকে সরিয়ে মিতা! জেলা সভাপতি বদল হতেই অশান্তির ‘কালো মেঘ’ প্রদেশ কংগ্রেসে