সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আরও বিপাকে প্রাক্তন আইপিএস ভারতী ঘোষ। তোলাবাজি, হিসাব বহির্ভূত আয়ের হদিশ পেতে ভারতীর ঘোষের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। এবার তদন্তের জাল দ্রুততার সঙ্গে গোটাতে শুরু করেছে সিআইডি। মঙ্গলবারই সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে ভারতী ঘোষের ব্যাংকের দুটি লকারে তল্লাশি চালান সিআইডির গোয়েন্দারা। সেখান থেকে প্রচুর সোনা বাজেয়াপ্ত করার পর বুধবার প্রাক্তন পুলিশকর্তার বাঁশদ্রোণীর ফ্ল্যাট থেকে নগদ দু কোটি টাকা উদ্ধার করলেন গোয়েন্দারা। প্রাথমিক অনুমান, এই টাকার সঙ্গে ভারতীর দেহরক্ষী সুজিত মণ্ডলের যোগ রয়েছে। কোথা থেকে এল এত টাকা? তা জানতে ভারতী ও সুজিত জেরা করা ছাড়া উপায় নেই বলে সূত্রের খবর। তবে কি ভারতীকে শীঘ্রই জালে পুরতে চাইছেন গোয়েন্দারা। পরিস্থিতি সেইদিকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

[ভারতীর ব্যাংক লকার পরীক্ষা সিআইডির, স্বামীকে ভবানী ভবনে জেরা]
প্রসঙ্গত, বেআইনি সোনা লেনদেন মামলায় প্রাক্তন পুলিশকর্তা ভারতী ঘোষের ব্যাংকের দু’টি লকার থেকে প্রচুর সোনার গয়না বাজেয়াপ্ত করে সিআইডি। সিল করে দেওয়া হয় ওই দু’টি লকার। মঙ্গলবার ভারতীর স্বামী এমএভি রাজুকে ভবানী ভবনে ডেকে জেরা করেন সিআইডি আধিকারিকরা। সিআইডির হাতে আসা বিভিন্ন নথি দেখিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। কিছু প্রশ্ন তিনি এড়িয়েও যান। এর পর সিআইডি আধিকারিকরা তাঁকে নিয়ে যান দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে। রাজু ও তাঁর আইনজীবীর সামনেই খোলা হয় লকার। সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, ১১০ ভরির বেশি গয়না উদ্ধার হয়েছে। বেশিরভাগ গয়নায় রয়েছে হলমার্ক। ভারতী ঘোষ দাবি করেছিলেন, তিনি জমিদার বাড়ির মেয়ে। বিয়ের সময় তিনি প্রচুর গয়না উপহার পেয়েছিলেন। সরকারি নথিতে তার উল্লেখ রয়েছে। নয়ের দশকে যখন ভারতী ঘোষের বিয়ে হয়, তখন হলমার্কের প্রচলন হয়নি। তাই প্রত্যেকটি গয়নাই যে বিয়ের, তা বলা যাবে না। উল্লেখ্য, রাজুকে আগেও দু’বার নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠায় সিআইডি। তখন রাজু জানিয়েছিলেন, তিনি অসুস্থ। ফের তাঁকে ভবানী ভবনে ডেকে জেরা করবেন সিআইডি আধিকারিকরা।
[রুবি স্টার চিটফান্ডের দপ্তরে সিবিআই হানা, বাজেয়াপ্ত বহু নথি]
এদিকে, মঙ্গলবার বেআইনি সোনা লেনদেন-কাণ্ডে সিআইডির হাতে ধৃত দাসপুরের প্রাক্তন ওসি প্রদীপ রথকে ঘাটাল মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তাঁকে ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। যদিও প্রদীপবাবুর আইনজীবী জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর মক্কেলকে ফাঁসানো হয়েছে। প্রদীপবাবুকে আগেই এই অভিযোগে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করেছিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া৷ সমস্ত আইনি দিক খতিয়ে দেখে অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি৷ দাসপুরের চক চাঁইপাট গ্রামের জনৈক চন্দন মাঝি প্রদীপবাবু-সহ চারজনের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে প্রায় চারশো গ্রাম সোনা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ করেছিলেন ঘাটাল মহকুমা আদালতে৷ চন্দনবাবুর অভিযোগকে এফআইআর হিসাবে গন্য করে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত৷ অন্যতম অভিযুক্ত সঞ্জয় মাহাতো এখনও অধরা৷ তিনি নোট বাতিলের সময় দাসপুর থানার কনেস্টবল ছিলেন৷ তখন প্রদীপবাবু ছিলেন থানার ওসি৷ তাঁরই নির্দেশে বাকি অভিযুক্তরা দাসপুরের বিভিন্ন গ্রামে সোনা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে সোনা আদায় করেছিল বলে অভিযোগ সিআইডির।
[পরীক্ষায় বসার দাবিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যকে ঘেরাও পড়ুয়াদের]
সর্বশেষ খবর
-
রাষ্ট্রবাদের রাখিবন্ধন, খোল বাজিয়ে মমতার বাড়ি সামনে কীর্তন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!
-
‘আমার কুকুরটা কুকুর আর অন্যেরটা টমি’, কৃতীর পোশাক বিতর্কে কঙ্গনাকে চরম কটাক্ষ কুনিকার
-
মণ্ডপের আশেপাশে চলবে না আমিষ! বাংলার পুজোর আয়োজকদের বার্তা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের
-
ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড কাণ্ডে হাই কোর্টে কালীঘাট তৃণমূল, দ্রুত শুনানির আর্জি, কী বলল আদালত?
-
‘আবর্জনা সাফ করার শপথ নিতে হবে’, রাখিবন্ধনে ‘যাদবপুরের দেশ বিরোধী’দের তোপ মুখ্যমন্ত্রীর