21 July Shahid Diwas

‘উসকানি ছাড়া গুলিচালনা, অপ্রয়োজনীয়’, ২১ জুলাইয়ের ফাইল খুলে কমিশনের রিপোর্ট পড়লেন শুভেন্দু

৩৩ বছর আগে কী ঘটেছিল? চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট বের করে তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী।

কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২০, ২০২৬, ১৮:০৫

options
link
‘উসকানি ছাড়া গুলিচালনা, অপ্রয়োজনীয়’, ২১ জুলাইয়ের ফাইল খুলে কমিশনের রিপোর্ট পড়লেন শুভেন্দু

বহু প্রতীক্ষীত ২১ জুলাই নিয়ে তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৩৩ তম শহিদ দিবসের ঠিক আগের বিকেলে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত জাস্টিস চ্যাটার্জির রিপোর্টটি পড়ে শোনালেন তিনি। এতদিন ধামাচাপা পড়ে থাকা রিপোর্ট থেকে যে সমস্ত তথ্য বেরিয়ে এল, তা যথেষ্ট বিস্ফোরক নিঃসন্দেহে। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই আন্দোলনকারী যুব কংগ্রেস নেতাদের উপর গুলি চালানো হয়েছিল সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায়, কাল্পনিক আশঙ্কায়! রিপোর্টে এমনই উল্লেখ রয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

রিপোর্টের বয়ান অনুযায়ী, ‘তদন্ত সাপেক্ষে কমিশন মনে করছে, ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে গুলি চালানো ছিল অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও উসকানিবিহীন। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণ হয়নি। মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই গুলি যেখানে গুলি চলেছিল, তা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেকটা দূরে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কা। মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং – যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।’

রিপোর্টের বয়ান অনুযায়ী, ‘তদন্ত সাপেক্ষে কমিশন মনে করছে, ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে গুলি চালানো ছিল অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও উসকানিবিহীন। পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর যথার্থতা প্রমাণ হয়নি। মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই গুলি যেখানে গুলি চলেছিল, তা রাইটার্স বিল্ডিং থেকে অনেকটা দূরে। রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বিক্ষোভ আছড়ে পড়তে পারে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক আশঙ্কা। মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং – যেখানে যেখানে গুলি চলেছিল, তা পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়।’

Advertisement

এদিন সকালেই  ২১ জুলাই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনবেন বলে বিধানসভায় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইমতো বিকেলে ফাইলটি হাতে নিয়ে তিনি বিধানসভায় আসেন। বলেন, ”১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কী হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখনও ঠিকমতো জানে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তদন্ত কমিশন তৈরি করলেও তার রিপোর্ট কখনও প্রকাশ্যে আনেননি।আমি এই রিপোর্ট পড়ে শোনাচ্ছি। কারণ, বিধানসভা চলাকালীন আমি অন্য কোথাও এই রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারতাম না। সেদিনের ঘটনায় পুলিশ কমিশনারের রিপোর্ট, আধিকারিকদের রিপোর্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যে তদন্ত কমিশন তৈরি হয়েছিল, সেখানে আজ যিনি  নিজেকে সবচেয়ে বড় আন্দোলনকারী বলেন, তৎকালীন কংগ্রেস যুবনেত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই কখনও তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। হয়ত বারণ করা ছিল।” 

Advertisement

রিপোর্টে উল্লেখ, এই ঘটনায় যে ৪৪ জনকে সাক্ষী হিসেবে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তও। শুভেন্দুর অভিযোগ, পরবর্তীতে বেশ কিছু ফাইল পাওয়া যায়নি। তা খুঁজতে সাহায্য করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাঁর কটাক্ষ, ওসব ফাইল প্রকাশ্যে এলে হয়ত তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী (মণীশ গুপ্ত) ফেঁসে যেতেন। মণীশ গুপ্তকে আড়ালে রাখতেই যে মমতার সরকার এনিয়ে আর কোনও তৎপরতা দেখাননি বলেই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।   

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.