প্রশাসন হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। কাজ করতে হবে নিরপেক্ষতার সঙ্গে। রাজ্যের ডব্লবিসিএস (এক্সিকিউটিভ) অফিসারদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই এই বার্তা দিয়ে তাঁর সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, বিগত সরকারের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বুঝিয়ে দেন, তাঁর সরকার কোনওরকম রাজনৈতিক অভিসন্ধিতে প্রশাসনিক অফিসারদের ব্যবহার করবে না। আগের সরকারের মতো অফিসারদের রাজনৈতিক ক্যাডারে পরিণত করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিভাজন যেন না করা হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মূল বক্তব্য, অতীতে যে ধরনের প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তেমনই অফিসারদের পেশাগত মর্যাদা ও তাঁদের সিনিয়রিটির মর্যাদা দিতে কোনও কার্পন্য করবে না সরকার। প্রশাসনিক আচরণ এবং পেশাদারি সম্পর্ক বজায় রাখা তাঁর সরকারের দায়িত্ব। অফিসারদের মন খুলে পরামর্শ দেওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
বুধবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে ডব্লবিসিএস (এক্সিকিউটিভ)-দের সামনে অতীতের প্রশাসনিক সংস্কৃতি পালটানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, অতীতে ভয় বা চাপের কারণে নিচুতলার আধিকারিকরা অনেক সময়ই কাজ করতে পারেননি। আবার অনেকক্ষেত্রে অনেকেই যা ইচ্ছা তাই করতেন। এই সরকারের আমলে তা চলবে না। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। শুভেন্দুর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে তাঁরা কাজ করেছেন। ফলে এখন তাঁদের তা ঝেড়ে ফেলতে হবে। জনকল্যাণে কাজ করাই এই সরকারের লক্ষ্য। সেই কাজ করবেন অফিসাররাই। এ পক্ষ, ও পক্ষ নয়, কাজ করতে হবে আমজনতার জন্যই।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যে কাজ করবে, তিনিই প্রশাসনের কাছে সেরা। তাঁদের কাজের মূল্যয়নের পদ্ধতিতেও বদল আনা হবে। এ প্রসঙ্গে এসিআর-এর সরলীকরণের কথাও অফিসারদের জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও রাজ্য সরকারে যে হেল্থ স্কিম রয়েছে, সেটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের হেল্থ স্কিমের মতো করে তৈরি করা হবে। জানুয়ারি মাস থেকেই পে কমিশন চালুর চেষ্টাও রাজ্য সরকার করছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ডব্লবিসিএস (এক্সিকিউটিভ)-দের বদলির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা এককালীন বিশেষ ভাতা তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার বিষয়টিও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রশাসনিক রীতি-নীতি মেনে কাজ হবে। আর্থিক অনিয়মে রাজ্য সরকার কড়া অবস্থান নেবে। সরকারি প্রকল্পের টাকা ব্যবহার করার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি। এছাড়াও সরকারি প্রকল্পে যেন কোনও দুর্নীতি না হয়, তার জন্য কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মমতার তিরস্কার, শুভেন্দুর পুরস্কার! দময়ন্তী সেন-সহ ৬ আইপিএসকে স্বাধীনতা দিবসে সম্মান মুখ্যমন্ত্রীর
-
কলকাতা মেডিক্যালে মহিলা কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা! নেপথ্যে কী কারণ?
-
কার্যালয়ে কার্তুজ, গোপন ডেরায় ইসিএলের নথি! দেড় মাস পর পুলিশের জালে বিধায়ক পুত্র ‘বাহুবলী’ প্রেমপাল
-
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ‘তিজ’ উদযাপনে কাকলি-শতাব্দী-রচনারা, মেহেন্দি-সেলফিতে হুল্লোড়, শামিল কঙ্গনাও
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে