এবার সল্টলেকে রাম রহিমের ছায়া, আশ্রমের আড়ালে অবাধ যৌনাচারের অভিযোগ

শিষ্য-শিষ্যাদের নাকি যৌনাচার করতে বলত স্বঘোষিত গুরু। দেখুন ভিডিও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮, ১৭:৫৯

options
link
এবার সল্টলেকে রাম রহিমের ছায়া, আশ্রমের আড়ালে অবাধ যৌনাচারের অভিযোগ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আশ্রমের আড়ালে রমরমিয়ে চলছিল যৌনাচার। নাবালিকাদের জোর করে আটকে রেখে তাঁদের শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এমনই অভিযোগ এবার উঠল খাস কলকাতার সল্টলেক এলাকায়। স্মরণ করিয়ে দিল গত বছরের ধর্ষক বাবা গুরমিত রাম রহিমের স্মৃতি। এবার পুলিশের নজরে আরেক স্বঘোষিত গুরু বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত। নাবালিকা শিষ্যাদের জোর করে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই শনিবার সল্টলেকের সিএল ব্লকের ২৪৯ নম্বর বাড়িতে হানা দেন বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ১১ জন মহিলা ও ১ জন পুরুষকে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মোবাইল, কমপিউটার, হার্ডডিস্ক ও সিসিটিভি ফুটেজ।

Advertisement

অভিযোগ, বহুদিন ধরেই এই কাণ্ডকারখানা চালিয়ে যাচ্ছে বীরেন্দ্র দেব। ঈশ্বরীয় আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয় নামে সংস্থা চালাচ্ছিল। কেবল সল্টলেকে নয় সারা দেশে এই একই নামে আরও ১৪টি এমন বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তার। যেখানে নাবালিকাদের জোর করে আটকে রাখা হয়। কখনও দরিদ্র বাবা-মাকে ভুল বুঝিয়ে, আবার কখনও রাস্তা থেকে অনাথ শিশু তুলে এনে। তাঁদের আশ্রমে রেখে শারীরিক অত্যাচারও চালানো হত বলে অভিযোগ। এই নাবালকরা প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেলে নাকি তাঁদের দয়ে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয় যে তাঁরা স্বেচ্ছায় বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। সেখানে তাঁদের মতো করে ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হত।

Advertisement

[শিয়ালদহে পাকড়াও আলিপুর জেল থেকে পলাতক বাংলাদেশি বন্দি]

Advertisement

সল্টলেকের যে বাড়িতে এই কাণ্ডকারখানা চলছিল, সেই বাড়ির মালিক জানান, প্রথমে তিনিও এই সংগঠনের সদস্য ছিলেন। কিন্তু পরে বীরেন্দ্র দেবের সঙ্গে মতপার্থ্যক হওয়ায় সরে আসেন। আশ্রমে নাকি স্বঘোষিত গুরু যৌনচার করার কথা বলত।

শোনা যাচ্ছে, এই প্রথম নয় এর আগেও এমন অভিযোগ বীরেন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে উঠেছিল। দিল্লি হাই কোর্টে তার নামে ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়। এমনকী যে বিশ্ববিদ্যালয় সে চালাচ্ছে তাঁর কোনও সরকারি অনুমতি বা অনুমোদনও নেই। সল্টলেকের এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই ধর্ষক বাবা গুরমিত রাম রহিমের সাদৃশ্য খুঁজে পাচ্ছেন। বাবার ডেরাতেও এই একইরকম কার্যকলাপ চলত। গত আগস্টেই হরিয়ানার রাম রহিমকে তারই ২ জন মহিলা অনুগামীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে এখনও এ দেশে এ ধরনের বহু ভণ্ড বাবার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যারা ঈশ্বরের নামের আড়ালে যৌন ব্যবসা চালাচ্ছে। এ ধরনের ভণ্ড সাধু বা গুরুরা যেমন ক্ষমতাশালী হয় তেমনই এদের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও যথেষ্ট যোগাযোগ থাকে। বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিতের ক্ষেত্রেও তেমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখনও পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি এই স্বঘোষিত গুরু।

[আংটিতেই লুকিয়ে ডায়েরিয়ার জীবাণু, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.