Abhishek Banerjee

সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারান অভিষেক! মমতার বাড়ি থেকে বেরলেন মুখ লুকিয়ে

রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে রবিবার ফের হাজিরা দিতে বলা হয়েছে অভিষেককে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২৬, ১৪:০৯

options
link
সব প্রশ্নের জবাব ‘জানি না’, সিআইডি জেরায় মেজাজ হারান অভিষেক! মমতার বাড়ি থেকে বেরলেন মুখ লুকিয়ে
সব প্রশ্নের জবাব 'জানি না', সিআইডি জেরায় মেজাজ হারান অভিষেক!

তিনবার হাজিরা এড়িয়ে শেষে হাই কোর্টের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সই জাল কাণ্ডে ভবানীভবনে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সূত্রের খবর, রেজোলিউশন কপি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের জবাবেই তৃণমূল ‘সেনাপতি’ বলেছেন, “জানি না।” এক পর্যায়ে মেজাজও হারান তিনি। সাড়ে এগারোটা নাগাদ বেরিয়ে যান কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। সেখানে বৈঠকের পর ছাতায় মুখ লুকিয়ে নিজের বাড়িতে যান অভিষেক। 

Advertisement

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সিআইডি দপ্তরে প্রথমে ছয়-সাত জন অফিসার অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারপর একসঙ্গে ১০ জন আধিকারিক প্রশ্নের ঝুলি নিয়ে হাজির হন তাঁর সামনে। ছিলেন সিআইডির এডিজি সুপ্রতিম সরকারও। জানা গিয়েছে, একাধিক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে অভিষেককে। বৈঠকে না থাকার পরও বিধায়কদের সই কীভাবে চিঠিতে রইল? কে বা কারা সই করেছেন? কেন করেছেন? রেজোলিউশন কপি কোথায়? এ ছাড়াও একাধিক কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। জানা যাচ্ছে, অধিকাংশ প্রশ্নের জবাবেই নাকি অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেছেন, জানি না। হারিয়েছেন মেজাজও। স্বাভাবিকভাবেই এই জিজ্ঞাসাবাদে খুশি নিন সিআইডি আধিকারিকরা। সেই কারণেই রবিবার ফের তলব করা হয়েছে তাঁকে। রেজোলিউশন সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে তাঁকে।

Advertisement

রাতে ভবানীভবন থেকে বেরিয়ে সোজা কালীঘাটে দলনেত্রী বাড়িতে চলে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতার উপস্থিতিতে হয় বৈঠক। বারোটা বেজে দশ মিনিট নাগাদ দলনেত্রীর বাড়ি থেকে বেরন অভিষেক। তবে ছাতায় মুখ ঢেকে। তাঁকে দেখতে পাননি কেউ। জিজ্ঞাসাবাদ-বৈঠক নিয়ে কোনও মন্তব্যও করেননি তিনি। 

Advertisement

কী এই সই জাল কাণ্ড? সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি। 

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.