১৪ বছর পর স্রেফ একটি ইলেক্টিক বিলই বন্ধ থাকা দরজা খুলে দিল ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক এক পার্টি অফিসের। যে অফিসের চেয়ার একটা সময় অলঙ্কৃত করতেন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক নিশীথরঞ্জন রায়, প্রাক্তন ফুলরেণু গুহ, প্রণব মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থশংকর রায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মতো তাবড় ব্যক্তিত্ব, ভবানীপুর জগুবাবুর বাজারে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের একযুগ বন্ধ থাকা এই পার্টি অফিসটি শুক্রবার বিকেলে নবআঙ্গিকে খুলছে। শুধু তাই নয়, নামকরণ হচ্ছে-প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ভবন।
আরও পড়ুন:
৭০ আশুতোষ মুখার্জি রোডের তিনতলা বাড়ি। ভবনের উপরের দুটি তলে ষাটের দশক থেকে চলে আসা জাতীয় কংগ্রেসের জেলা অফিস। ভবানীপুর জগুবাবুর বাজার পার্শ্বস্থ নেতাজিভবন মেট্রো স্টেশন লাগোয়া অফিসে একসময় বসতেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রখ্যাত ঐতিহাসিক অধ্যাপক নিশীথরঞ্জন রায়। পরে নানা সময়ে অফিসে বসে দেশ-বিদেশের কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ফুলরেণু গুহ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। ১৯৭১ সালে প্রখ্যাত বামপন্থী নেতা গণেশ ঘোষকে পরাজিত করে মাত্র ২৬ বছর বয়সে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে এই পার্টি অফিসে নিয়মিত বসতেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। তখনই দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের এই বহুল পরিচিত অফিসটি সংস্কার ও বৈদ্যুতায়ণের কাজ হয়। প্রিয়রঞ্জনই পরে দোতলায় মদন মিত্রকে দিয়ে রাজীব গান্ধী মেমোরিয়াল সোসাইটির অফিস খুললেও নিজে তিনতলায় বসতেন। কিন্তু তারপরে যে বা যাঁরাই জেলা কংগ্রেস সভাপতি হয়েছেন, অফিসে বসেছেন, প্রিয়রঞ্জনের নামে প্রতিমাসে বিদ্যুতের বিল আসছে। সিইএসসির এই বিলটিই ৪ মে বাংলায় পালাবদলের পর ১৪ বছর তালা বন্ধ থাকা ঐতিহাসিক অফিস খুলতে সাহায্য করল বলে স্বীকার করছেন জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ।

ফুলরেণু-সিদ্ধার্থ-প্রিয়রঞ্জনের স্মৃতি বিজড়িত প্রায় ৭০ বছরের পুরানো অফিসে বসে প্রদীপ বলেন, ২০১২ সালে মালাদি-নির্বেদ রায়রা কংগ্রেসে থাকার সময় শেষ অফিস খোলা হয়েছিল। তারপরে অফিস এমনকী তারক বসু স্মৃতি লাইব্রেরিও বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস অফিসের সমস্ত আসবাব ও পাখা চুরি হয়ে যায়। একফাঁকে হুগলির বাসিন্দা ওই বাড়ির মালিক ভবানীপুরের অবাঙালি প্রোমোটরকে পুরোটা বিক্রি করে দেন। পালাবদলের পর ৬ মে আচমকাই অফিসে বড় তালা মেরে দেন প্রোমোটর। খবর পেয়ে কংগ্রেসকর্মীরা ছুটে এসে সেই তালা ভেঙে দেন। ভবানীপুর থানার পুলিশ এসে প্রদীপ প্রসাদের কাছে কংগ্রেসের অফিসের প্রমাণ চায়। সঙ্গে সঙ্গে প্রিয়রঞ্জনের নামে বছরের পর বছর আসা ইলেক্ট্রিক বিল ও পুরসভার রেকর্ডে থাকা অফিসের তথ্য জমা দেন।
প্রদীপের কথায়, ‘‘ভোটে দলের দেওয়া টাকা কিছু খরচ হয়নি। সেই টাকা দিয়ে প্রিয়দার নামে এই অফিস নতুন করে সাজিয়ে তুলেছি। আসলে এই বাংলার অন্যতম সেরা বক্তা প্রিয়দার কথা সেদিন শুনতে আসা বহু নেতার স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। এখনও এই অফিসের কথা উঠলে অনেক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাও প্রিয়রঞ্জনের নামে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। সবাইকে তাই প্রিয়রাজন ভবনে আসতে অনুরোধ করছি। ’’ রাখিবন্ধনের বিকেলে নতুন ভবন উদ্বোধনে থাকার কথা প্রিয়দাশমুন্সির ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়র, প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ও এআইসিসির পর্যবেক্ষক প্রকাশ যোশীর। প্রিয়রঞ্জন জায়া দীপা দাসমুন্সিও উদ্বোধন কর্মসূচিতে থাকতে পারেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগে সাজবে কলকাতা, রাস্তা রং নিয়ে দোটানায় ইঞ্জিনিয়ারাই!
-
‘আমার তো ১৪,১০০ কোটি উদ্ধার হয়েছে’, সুভাষ চন্দ্রের পথে ঋণ মকুব চাইছেন মালিয়াও!
-
পুজোর প্রসাদ তৈরিতেও চাই লাইসেন্স, চলবে না ভেজাল, উৎসবের আগে বড় ঘোষণা
-
ভারত-চিনকেও উদ্ধারকাজে ‘না’ নেপালের, ৫০০ মৃত্যুর পরও কেন বিদেশি সাহায্যে আপত্তি কাঠমান্ডুর?
-
রূপটানে হলুদ চিরন্তন, এই ৩ উপায়ে পুজোর আগেই হয়ে উঠুন উজ্জ্বল ত্বকের অধিকারী