মা-বাবাকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল বছর সতেরোর কিশোর। বন্ধুর নতুন বাইকের বেপরোয়া গতিতে সব শেষ। আর ঘরে ফেরেনি বেলেঘাটার বাসিন্দা আকাশ। তবে তাঁর দান করা অঙ্গে প্রাণ ফিরে পেল চারজন।
আরও পড়ুন:
বেলেঘাটার বাসিন্দা আকাশরা। গত ২০ আগস্ট বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়েই বেরিয়ে গিয়েছিল কিশোর। আকাশের বাবা বলেন, “ভোর রাতে ছেলে বেরিয়ে যায়। আমরা ঘুণাক্ষরেও কিছু টের পাইনি। বাইক নিয়ে সোজা নিউটাউনে চলে যায় আকাশ-সহ আরও তিন বন্ধু। ঘুম ভাঙে পুলিশের ফোনে। নিউটাউন থানা এলাকা থেকে পুলিশ ফোন করে জানায়, ছেলের দুর্ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত যেতে হবে।” আকাশের বাবা জানিয়েছেন, ওখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল আকাশকে। সেখান থেকে ভেন্টিলেশন অ্যাম্বুল্যান্স করে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। ট্রমা কেয়ারে চলছিল চিকিৎসা। শনিবার আকাশের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। এরপরই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
এসএসকেএম হাসপাতালে আঠাশ বছরের কিডনি বিকল এক রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে মৃত কিশোরের কিডনি। অন্য কিডনিটি বসেছে ফর্টিস হাসপাতালে মৃত্যু শয্যায় শুয়ে থাকা বছর আটচল্লিশের আরও এক কিডনি রোগীর দেহে। তাঁর ত্বক সংরক্ষণ করা হয়েছে এসএসকেএমে। আগামীতে কোনও পুড়ে যাওয়া ক্ষত ঢাকতে কাজে লাগবে সেই ত্বক। মৃত কিশোরের চোখের কর্ণিয়াও সংরক্ষণ করা হয়েছে। যা থেকে দৃষ্টি ফিরে পাবেন একাধিক দৃষ্টিহীন। আকাশের বাবা, রেভারেন্ড দেবাশিস দত্ত বলেন, “আমার দু’টো পরিবার ছিল। একটা নিজের। অন্যটা চার্চের। আজ থেকে ওই মানুষগুলো আমার তৃতীয় পরিবার। যাঁরা আমার ছেলের অঙ্গে প্রাণ ফিরে পেল।” এসএসকেএম হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইনচার্জ ডা. রজত চৌধুরী মৃতের পরিবারকে বোঝান, নষ্ট করে ফেলার অর্থ নেই। বরং আকাশের কিডনি, চোখের কর্ণিয়া কাজে আসতে আরে অনেক মৃত্যুপথযাত্রীর। সেই কথায় সম্মতি দেয় আকাশের পরিবার।
সর্বশেষ খবর
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর, স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ ৫ জনের রক্তে লাল হল মাটি!
-
‘বেঁচে আছে তো?’ বেড়াতে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে নিঁখোজ কলকাতার ৬! উৎকণ্ঠায় পরিবার
-
মুহূর্তে ‘জলরাক্ষস’ গ্রাস করল স্ত্রী-পুত্রকে! নেপালের ব্যবসায়ীর দু’চোখে এখনও আতঙ্ক ও বিষাদ
-
ক্যামাক স্ট্রিটে ফের ঝুলল ‘বেআইনি’ হোর্ডিং! ‘যতদূর যেতে হয়, যাব’ পুলিশের সঙ্গে গাজোয়ারির পর হুঁশিয়ারি অভিষেকের
-
মহারাষ্ট্র পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ‘ফাঁস’! ব্যর্থ প্রেমকাহিনিতেই প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি