ব্রিটিশ আমলে যে কারখানার চিমনি থেকে বেরোনো ধোঁয়া জোগাত নীলচক্ষু সাহেবদের যুদ্ধ জয়ের রসদ, আজ সেই কারখানার যন্ত্রধ্বনিই ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিচ্ছে সন্ত্রাস দমনের মোক্ষম হাতিয়ার। উত্তর কলকাতার কাশীপুর গান অ্যান্ড শেল ফ্যাক্টরি (জিএসএফ) কেবল একটি কারখানা নয়, বরং ভারতের প্রতিরক্ষা ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। সোমবার ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের আবহে ফিরে এল সেই ঐতিহ্যের স্মৃতি।
আরও পড়ুন:

ফ্যাক্টরির মুখ্য মহাপ্রবন্ধক (সিজিএম) সুবীর কুমার সাহা জাতীয় পতাকা উন্মোচন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। কুচকাওয়াজে অংশ নেন ডিফেন্স সিকিউরিটি কর্পস (ডিএসসি) ও নিরাপত্তারক্ষীরা। সিজিএম তাঁর ভাষণে মনে করিয়ে দেন, এই কারখানা একসময় ব্রিটিশদের অস্ত্র সরবরাহ করত। আজ সময় বদলেছে। এখন এখান থেকে তৈরি অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীদের সাহস জোগাচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের যে অনমনীয় অবস্থান, তার নেপথ্যে রয়েছে এই ফ্যাক্টরির কর্মীদের ঘাম।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অভিযানে ভারতীয় বাহিনীর সাফল্যে পর্দার আড়ালে বড় ভূমিকা পালন করেছে এই ধরনের প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলি। নির্ভুল নিশানার গোলা আর ঘাতক অস্ত্রের গুণমানই সেনাদের লক্ষ্যভেদে সাহায্য করে। এদিন সিজিএম দেশমাতৃকার জন্য শহিদ হওয়া বীর জওয়ানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বর্তমান পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সঠিক সময়ে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।

উৎকর্ষ বজায় রাখায় এদিন যোগ্য কর্মীদের হাতে ঘড়ি ও নগদ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতার নিরিখে সেরা বিভাগ লাভ করে ‘চ্যালেঞ্জ শিল্ড’। কর্মীদের নিষ্ঠা ও দলগত সংহতির প্রশংসা করে সিজিএম জানান, গুণগত মান বজায় রাখাই তাঁদের প্রধান অঙ্গীকার। এদিন কাশীপুরের এই প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে প্রজাতন্ত্র দিবস এক অনন্য মাত্রা পেল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অনুশীলন সমিতি থেকে হিন্দুস্তান রিপাবলিকান আর্মির সদস্য! ফিরে দেখা ঝাড়গ্রামের বিস্মৃতপ্রায় বিপ্লবীকে
-
‘তোমার ইমেজটাই নষ্ট করে দেব’, বচ্চনবধূ ঐশ্বর্যকে ‘হুঁশিয়ারি’ বলি পরিচালকের!
-
নজরে ‘চিকেনস নেক’, নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি খতিয়ে দেখতে স্বাধীনতা দিবসের পরেই শিলিগুড়িতে শাহ!
-
সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণের বিরোধিতার ‘শাস্তি’, প্রতিবাদীরা পাবে না ‘আইনজীবী’ স্বীকৃতি!
-
ভবিষ্যতের ভুল আগেই এড়ানো সম্ভব, শৈশবেই দেওয়া হোক আর্থিক শিক্ষার পাঠ