‘ঘুমিয়ে পড়েছিলাম’, মেধাবী সায়ন্তনের মৃত্যুতে বয়ান অ্যাপ ক্যাব চালকের

অ্যাপ ক্যাব চালক থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ- প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই গাফিলতির অভিযোগ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০১৮, ১৯:৩১

options
link
‘ঘুমিয়ে পড়েছিলাম’, মেধাবী সায়ন্তনের মৃত্যুতে বয়ান অ্যাপ ক্যাব চালকের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। চোখ লেগে গিয়েছিল। চোখ খুলতেই সামনে দেখি ডিভাইডার। তখন আর ব্রেক মারার সময় পাইনি।’ পথ দুর্ঘটনায় আইআইইএসটি শিবপুরের ছাত্র সায়ন্তন বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ হিসাবে এই কথাই বলছে অভিযুক্ত অ্যাপ ক্যাবের চালক। তাঁর দাবি, ঘুমের ঘোরেই সকালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র সায়ন্তনের তিন বন্ধু ও অভিযুক্ত চালক- প্রত্যেকেই এদিন সকালের দুর্ঘটনায় জখম হয়ে এখন হাসপাতালে। প্রশ্ন উঠছে, কেন অ্যাপ ক্যাবের মতো লাক্সারি চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কোনও সেন্ট্রাল মনিটরিং সিস্টেম নেই?

Advertisement

[যাত্রী প্রত্যাখ্যানে হলুদ ট্যাক্সিকেও টেক্কা দিচ্ছে ওলা-উবের]

একটা নয়, সায়ন্তনের মৃত্যুতে বেশ কয়েকটি ধাপেই গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন তাঁর বাবা। রবিবার সকালে লাক্সারি ক্যাবে চেপে রাজারহাটে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন সায়ন্তন-সহ চার পড়ুয়াই। ঘুমের ঘরে ক্যাবের চালক ইএম বাইপাসের কাছে মেট্রোপলিটন বাস স্টপের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারেন ডিভাইডারে। গুরুতর জখম হন চার ছাত্রই। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় সায়ন্তনের। কিন্তু তাঁর পরিবারের দাবি, আহত অবস্থাতে সায়ন্তনকে প্রথমেই চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু মেলেনি। রবিবার বলে কোনও সিনিয়র ডাক্তার হাসপাতালে ছিলেন না, তাই চিকিৎসা হবে না বলে জানিয়ে দেয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার পীতবরণ চক্রবর্তী এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও যাঁরা সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নেন, তাঁরা কিন্তু এই দাবি উড়িয়ে দিতে নারাজ। রবিবার বা অন্য কোনও ছুটির দিনে সরকারি হাসপাতালগুলি মূলত জুনিয়র ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপরই নির্ভর করে চলে বলে জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

Advertisement

[অভিশপ্ত বাইপাসে ফের মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা, মৃত শিবপুর আইআইইএসটির ছাত্র]

সন্তানের মৃত্যুর খবর প্রথমটায় কেউ তাঁর বাবাকে জানাতেই চাইছিলেন না। সায়ন্তন মেধাবী পড়ুয়া। তাঁর বাবা বলছেন, ‘সিনিয়র ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা হবে না। এমনটাই জানায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল। চিকিৎসা না করে কেন ছাড়া হল সায়ন্তনকে, মনে হয় এই প্রশ্নটা ওঠা উচিত।’ ছাত্রদের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাতসকালেই ছুটে আসেন শিবপুর আইআইইএসটির রেজিস্ট্রার। তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অ্যাপ ক্যাবের ড্রাইভারের বিরুদ্ধে। বস্তুত, একাংশের চালকদের আচরণ নিয়ে এখন জেরবার অ্যাপ ক্যাবের যাত্রীরা। যাঁরা নিয়মিত অ্যাপ ক্যাবে চড়েন, তাঁরা জানেন, ট্রিপ শেষ করার তাড়াহুড়োয় যাত্রী পরিষেবা নিয়ে এক শ্রেণির চালকরা স্রেফ ছেলেখেলা করেন। জোরে গাড়ি ছোটান, রাতে বেশি ভাড়ার লোভে ঘুম চোখে গাড়ি চালান, অন্য রাজ্য থেকে সটান এই রাজ্যে এসে নিয়মের তোয়াক্কা না করেই যে কোনও রাস্তায় গাড়ি ঢুকিয়ে দেন-সহ গুচ্ছের অভিযোগ রোজই শহরের দুটি শীর্ষ স্থানীয় অ্যাপ ক্যাবের দপ্তরে জমা পড়ে। আজকের ঘটনার পর কর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। সরকারের তরফে বারবার অ্যাপ ক্যাবে সিসিটিভি লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও বেশি খরচের ভয়ে এড়িয়ে গিয়েছে সংস্থাগুলি। তার উপর রয়েছে চালকদের অতিরিক্ত টাকার প্রতি লোভ। বেশি বোনাস পাওয়ার লালসায় বেশ কিছু চালক রাতে না ঘুমিয়ে অতিরিক্ত গাড়ি চালান। স্বাভাবিকভাবেই গাড়ি চালাতে গিয়ে তাঁদের চোখে ঘুম চলে আসে। চালকদের আবার অভিযোগ, অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলিই নাকি প্রতিদিন ট্রিপের হিসাব বেঁধে দেয়। ফলে মরি কি বাঁচি, পেট্রলের খরচ তুলতে গাড়ি চালাতেই হয়।

Advertisement

সব শেষে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি গাফিলতি কোনও একটি স্তরে নয়, উঠেছে নানা স্তরে? অ্যাপ ক্যাব সংস্থা, চালক থেকে হাসপাতাল- প্রত্যেকেই যদি সাধারণ মানুষের জীবন সম্পর্কে আর একটু সচেতন হত, তবে কি বেঁচে যেতেন না সায়ন্তন? একজন মায়ের কোল খালি হওয়ার হাত থেকে কি রেহাই পেত না? আমাদের শহরে কি একজন সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য এইটুকুই? এক নয়, আজ দিনভর শহরে তিনটি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দু’জন। হেস্টিংস মোড়ের বিদ্যাসাগর সেতুর কাছে ট্রাকের ধাক্কায় এক অ্যাপ ক্যাব চালকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পাননি খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও। সল্টলেকে ভিআইপি রোড ও বাইপাসের সংযোগস্থলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উলটে যায় তাঁর কনভয়ের একটি গাড়ি। ঘটনায় গুরুতর আহত ৪ জন। তবে পিছনের গাড়িতে থাকায় রক্ষা পেয়েছেন মন্ত্রী।

[সল্টলেক-রাজারহাটে গীতাঞ্জলির শো রুমে জোর তল্লাশি ইডির]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.