বিশ্ববিদ্যালয়ের অশান্তির আঁচ যাদবপুরের রাস্তায়। গোলপার্ক থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা। সেই মিছিলেই পা মেলালেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তাঁর হুঙ্কার, ‘দেশবিরোধী কথা বরদাস্ত করা হবে না। ইনশাআল্লা, আজাদি-এসব বলা চলে না।’ যাবদপুর দেশবিরোধী তৈরির ‘কারখানা’ বলেও তোপ দাগলেন তিনি। পালটা বিধায়ককে নিশানা করলেন বামনেত্রীর তথা শিক্ষিকা নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বিধায়কের যা আচরণ তাতে সরকার কার বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করবে?”
আরও পড়ুন:
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “এবিভিপি আলাদা সংগঠন, ওরা বিজেপির নির্দেশে কাজ করে না, এটা এসএফআই বা ছাত্র পরিষদ নয়। তাই কিছু বলার থাকলে ওদের নেতারা বলবেন। আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু হলে তা নিয়ে পুলিশমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী বলবেন।”

অশান্তির সূত্রপাত বুধবার রাতে। বাম ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে বুধবার জিবি মিটিং ডাকা হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University)। তা নিয়েই এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অশান্তি বাঁধে। এবিভিপি’র সদস্যদের কথায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি-র মিটিং ডাকা হয় কীভাবে? এর প্রতিবাদ করাতেই ৭০ থেকে ৮০ জন তাঁদের উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের সংর্ঘষে রাতেই রণক্ষেত্রের আকার নেয় যাদবপুরের ক্যাম্পাস। জখম হন দু’পক্ষের পড়ুয়ারাই। এসএফআই, ডিএসও এবং অন্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি, এবিভিপির তরফেই প্রথম হামলা চালানো হয়। এমনকি বাইরে থেকে লোকজন এনেও তাঁদের উপর আক্রমণ চালানো হয়। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্য়ায়ের ঘনিষ্ঠ এক যুবক ছিলেন বলেও দাবি বামেদের। এখানেই শেষ নয়, তাঁদের আরও অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে পড়ুয়াদের আটকে রেখে বাইরে আগুন জ্বালিয়ে এবিভিপি। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান এলাকার বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পথে নেমেছে এবিভিপি ও এসএফআই। এবিভিপি গোলপার্ক থেকে মিছিল করে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটে। সেই মিছিলেই রয়েছেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। এদিন মিছিল থেকে তিনি বলেন, “যাদবপুর রাষ্ট্রবিরোধী মেশিনারি তৈরির…। বারবার দেশবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী আন্দোলন আমরা করতে দেব না। রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলা যাবে না। আমরা প্রথমে দেশের নাগরিক, তাই দেশের হয়ে কথা বলতে হবে। ইনশাআল্লা, আজাদি বলা যাবে না।”

তবে এই অশান্তি প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “এবিভিপি আলাদা সংগঠন, ওরা বিজেপির নির্দেশে কাজ করে না, এটা এসএফআই বা ছাত্র পরিষদ নয়। তাই কিছু বলার থাকলে ওদের নেতারা বলবেন। আর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু হলে তা নিয়ে পুলিশমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী বলবেন।” এদিন পথে নেমেছে এফএফআইও। যাদবপুরের ৮বি-তে জমায়েত করে তাঁরা। তবে এবিভিপির মিছিলের কারণে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এসএফআইয়ের সেই জমায়েতেই ছিলেন শিক্ষিকা তথা বাম নেত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। শর্বরীকে আক্রমণ করে তিনি বললেন, “জিবি বৈঠকে ছাত্রদের মধ্যে অশান্তি হতেই পারে। তাতে বিধায়ক গিয়ে সামাল দিতে পারতেন। তা না করে উনি উসকানি দিলেন! আমি সরকারকে প্রশ্ন করব, তাহলে কার বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইন প্রয়োগ করা হবে?” নন্দিনীদেবীর বক্তব্যে মাথাচাড়া দিয়েছে একটা প্রশ্ন। তা হল তথ্য বলছে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তা সত্ত্বেও জিবি-র মিটিং ডাকা হল কীভাবে? তবে কী অশান্তির ছক কষেই এই মিটিংয়ের আয়োজন? সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহল মহল।
সর্বশেষ খবর
-
পাহাড়ে শুয়ে-বসে মেঘ দেখাটাই চাকরি, বেতন মাসে সাড়ে ৮ লাখ, আবেদন করবেন?
-
ফিরল সৌরভের ন্যাটওয়েস্ট জয়ের স্মৃতি, ২৪ বছর পর লর্ডসে জার্সি খুলে সেলিব্রেশন ভারতীয় দলের
-
‘হর হর মোদি’, রাম রূপে প্রধানমন্ত্রী! রাজধানীর প্রেসক্লাবে ‘মোদি চালিশা’র অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্ক
-
ঝাড়খণ্ডের আদালতে পড়ুয়াদের জয়! সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
-
ট্রাম্প ‘নরম’ হতে চাইলেও কিম স্বমেজাজেই! মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ার পরই ‘রহস্যময়’ মিসাইল ছুড়ল পিয়ংইয়ং