কফিনবন্দি হয়েই শহরে শেষ মিছিলে শামিল ‘প্রিয়দা’

চোখের জলে প্রিয়নেতাকে প্রিয়বিদায় জানাল কলকাতা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯, ১২:৪১

options
link
কফিনবন্দি হয়েই শহরে শেষ মিছিলে শামিল ‘প্রিয়দা’

স্টাফ রিপোর্টার: কলকাতায় বহু মিছিল হয়েছে। তিনি সামনে থেকেছেন মিছিলে। অনেক রাজনীতির পালাবদল হয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা পা মিলিয়েছিলেন উদ্দীপ্ত হয়ে। সেইসব মিছিলে স্লোগান উঠেছিল, ‘তোমার প্রিয়, আমার প্রিয়। প্রিয় নেতা প্রিয়রঞ্জন জিন্দাবাদ।’

Advertisement

মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিলেও থাকলেন তিনি। তাঁর কফিনবন্দি দেহকে সামনে রেখেই শোকে ভেঙে পড়ল প্রিয়-অনুরাগীরা। প্রিয়র দেহ নিয়ে শববাহী গাড়ি এগিয়েছে, পিছনে পড়ে রয়েছেন হাজারো মানুষ, শ’দুয়েক গাড়ির সারি। চোখের জলে প্রিয়নেতাকে প্রিয়বিদায় জানাল কলকাতা।
গত রাতেই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কংগ্রেস নেতা প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির নিথর দেহ কফিনবন্দি করে আনা হয়েছিল কলকাতায়। পিস হাভেনে রাখা হয়েছিল দেহ। সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রিয়রঞ্জনের দেহ নিয়ে আসা হয় বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেসের দফতরে। মালা দেন রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দলমত নির্বিশেষে শ্রদ্ধা জানান প্রত্যেকে। লনে ডায়াস তৈরি করা হয়েছিল। সকাল থেকেই হাজারো মানুষ বিধানভবনের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। কারও হাতে ছিল দোপাটি ফুল, কারও হাতে রজনীগন্ধার মালা। যুব কংগ্রেসের পতাকা নিয়েও এসেছিলেন অনেকে। প্রিয়র দেহ আসার পর অনেকেই হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন। বিশৃঙ্খলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। মৃতদেহের পাশে ছিলেন প্রিয়-ঘরনি দীপা দাশমুন্সি, পুত্র মিছিল। আবেগতাড়িত অভিমানী দীপা বলেন, “শান্তিতে আপনাদের দাদাকে যেতে দিন। আপনাদের মতো আমিও আমার নেতাকে হারিয়েছি। একটু শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। ৯ বছর ধরে অনেকেই তাঁকে দেখতে যাননি। তবে এখন সব দলের মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এটাই তাঁর প্রতি বড় শ্রদ্ধার্ঘ্য।”

Advertisement

Priyaranjan-3_web

Advertisement

[প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত, প্রতিক্রিয়া মুখ্যমন্ত্রীর]

বারবার মাইক হাতে নিতে হয়েছে দীপা দাশমুন্সিকে। কংগ্রেসের দফতরে এসেছিলেন বিজেপির নেতারাও। প্রথমেই মরদেহে মালা দেন রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরি, সোমেন মিত্র। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন বামফ্রন্টের বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র, মহম্মদ সেলিম, ক্ষিতি গোস্বামী, রবীন দেব, নরেন চট্টোপাধ্যায়রা। প্রমোদ দাশগুপ্তের স্মরণসভায় মাতিয়ে দিয়েছিলেন যখন প্রিয়, সেই সময়ও তাঁর প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন বিরোধীরা। এদিনই তাঁরা শ্রদ্ধা জানালেন। ছিলেন তৃণমূলের সৌগত রায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, নির্মল ঘোষ, অতীন ঘোষ, অনিন্দ রাউত, বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য, জয়প্রকাশ মজুমদার। মোহনবাগান ক্লাবের পতাকা মরদেহে মুড়ে দেওয়া হয়। সিএবির বিশ্বরূপ দেও শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। প্রিয়-শিষ্য দেবপ্রসাদ রায়, কুমুদ ভট্টাচার্যের মতো অনেকেই এসেছিলেন। আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় তাঁদের। সাড়ে দশটার কিছু পরে বিধান ভবন থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা হাই কোর্টে। হাই কোর্টের সামনের লনে বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। অরুনাভ ঘোষ-সহ আইনজীবীরা প্রয়াত একসময়ের সহকর্মীর দেহে মালা দেন। মরদেহ কাঁধে তুলেছিলেন অসিত মিত্র, রমেন পাণ্ডে, সন্তোষ পাঠকরা।

Priyaranjan-2_web

Priyaranjan-1_web

[ইন্দিরা থেকে সোনিয়া, কংগ্রেস রাজনীতিতে সত্যিকারের ‘প্রিয়পাত্র’]

সাড়ে এগারোটার কিছু পরে প্রিয়রঞ্জনের দেহ তঁার রানী ভবানী রোডের বাড়িতে আনা হয়। এখানেই কখনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে ফিরেছেন। বাইরে অপেক্ষা করেছে জনতা। আজও সেখানে এলেন তিনি। জনতার ভিড় উপচে পড়ল আজও। এতদিন আসতেন হুডখোলা জিপে চেপে। এদিন এলেন কফিনবন্দি হয়ে। মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিচারণায় বললেন, “তিনি ছিলেন অন্তরের নেতা।” নির্বেদ রায়, পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার, পেট্রোলিয়াম ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের তুষার সেনও শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষের মতো। বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে রাজ্যের কপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তেমনই দমদম বিমানবন্দরে প্রাইভেট ও সেনাবাহিনীর কপ্টার মজুত ছিল। বেহালা থেকে কপ্টারে যান পরিবারের সদস্যরা। সেনার বড় কপ্টারে যায় প্রিয়র দেহ। প্রিয় বাড়িকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে প্রিয়রঞ্জনের নিথর দেহ যখন হেলিকপ্টারে করে রায়গঞ্জে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন বেলা গড়িয়েছে। তাঁর আন্দোলনের পীঠস্থান ছেড়ে চলে গেলেন প্রিয়রঞ্জন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.