সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ইতিহাস গড়ল কলকাতা। সফল হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন হল শহরে। তবে কিছু লজ্জাও থেকে গেল। কারণ হৃদযন্ত্র বয়ে আনতে হল অন্য শহর থেকে। কলকাতা কি নিজে এ ব্যাপারে স্বাবলম্বী হতে পারে না? সফল প্রতিস্থাপনের পর এ আক্ষেপই শোনা গেল চিকিৎসকদের গলায়। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আরজিও জানালেন তাঁরা।
[ ১৮ মিনিটেই বিমানবন্দর থেকে হৃদযন্ত্র এল হাসপাতালে, চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফল চালক ]
বেঙ্গালুরু থেকে হৃদপিণ্ড এল কলকাতায়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সাজো সাজো রব শহরের রাস্তায়। গ্রিন করিডর তৈরি করে বিমানবন্দর থেকে হৃদযন্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালে। তবে সব প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা দিলচাঁদ সিংয়ের শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে হৃদযন্ত্র। এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ফর্টিস হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ডাঃ তাপস রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে এবার ইতিহাস গড়ল কলকাতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডাঃ বালা, ডাঃ মন্দানা ও অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য শল্য চিকিৎসকরাও। এদিন তাপসবাবু বলেন, “হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশনে এবার ইতিহাস হল রাজ্যে। অন্য কোনও শহর থেকে হৃদযন্ত্র এনে, আর একটা শহরের হাসপাতালে এর আগে কখনও প্রতিস্থাপন হয়নি। তবে লজ্জার ব্যাপারও আছে। কারণ অন্য শহর থেকে আমাদের হৃদযন্ত্র আনতে হল। প্রথমবার এ কাজ হল। তবে সকলের কাছে আমাদের আবেদন, অঙ্গদানের ব্যাপারে ক্যাম্পেন শুরু করুন। মানুষকে সচেতন করে তুলুন, যাতে পরবর্তীকালে আর বাইরে থেকে এভাবে হৃদপিণ্ড আনতে না হয়।”
এদিন চিকিৎসকরা জানালেন প্রায় ৩৫,০০০ মানুষের হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশনের দরকার পড়ে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তার উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই। ফলে এবার বাইরে থেকেই হৃদযন্ত্র আনতে হল। নজিরবিহীন প্রয়াস, কিন্তু বরাবর এ কাজ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল যখন এটিকে বিজনেস মডেল হিসেবে চালু করবে, তখন খরচ আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র পাওয়া যেমন জরুরি। তেমনই সরকারি পদক্ষেপও প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ জানানো হয়, তামিলনাড়ুতে বিপিএল তালিকাভুক্ত কারও হার্ট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা সাহায্য করে রাজ্য সরকার। এদিন তাপসবাবু বলেন, আমরা নিশ্চয়ই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করব। শুধু হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশন নয়, এর পরেও অনেক খরচ থাকে। হার্ট প্রতিস্থাপনের পর নিয়মিত কিছু ওষুধ খেতে হয়। যার খরচ প্রায় মাসে কুড়ি হাজার টাকার মতো। রাজ্যের একজন গরিব মানুষের পক্ষে সেই ব্যয়ভারও বহন করা সম্ভব নয়। সুতরাং সরকার যদি অপারেশন পরবর্তী এই ব্যয়ের খানিকটা অংশের ভার নেয়, তবে প্রতিস্থাপন পদ্ধতি অনেকটা সহজ হবে। এ ব্যাপারেই আজকের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানালেন চিকিৎসকরা।
[ বেঙ্গালুরু থেকে উড়িয়ে আনা হল হৃদপিণ্ড, অঙ্গদানে নয়া ইতিহাস কলকাতার ]
পাশাপাশি তাঁদের দাবি, এটা সবে শুরু। চাহিদা অনেক বেশি। তাই অঙ্গদানে জোর দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। রাজ্যের মানুষ এ ব্যাপারে যত সচেতন হবে, চিকিৎসা পরিষেবা ততই এগিয়ে যাবে। আপাতত সুস্থ আছেন দিলচাঁদ সিং। প্রতিস্থাপিত হৃদযন্ত্র কাজ করা শুরু করেছে। তবে ৯৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে।
সর্বশেষ খবর
-
পুজোর আগেই হেঁশেলে আগুন! ফের বাড়ল গ্যাসের দাম, কলকাতায় সিলিন্ডার পিছু কত দর?
-
কলকাতায় অপরাধের ‘হটস্পট’ কোনগুলি? ওসিদের কী নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার?
-
সিকিম ঘুরতে যাচ্ছেন পুজোতে? বড় বদল পর্যটনে, জেনে নিন নয়া নিয়ম-নীতি
-
‘৯০ শতাংশ ভোটার সরে যেতে দ্বিধা করবে না’, বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণে’ সতর্কবার্তা সংঘ মুখপত্রে
-
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, ছড়াল টলিউড অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি! ধৃত ‘প্রাক্তন’ প্রেমিক