সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতার নেশার দুনিয়ায় নতুন মাদক ‘ম্যাজিক মাশরুম’। যা রক্তে মিশলে রঙিন লাগে চারপাশ। চোখের সামনে খেলা করে রামধনু রং। চার ঘণ্টার “বিন্দাস মেন্টাল স্টেট”। এই মাদক চোরাচালানের দায়ে শনিবার কলকাতা থেকে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। ধৃতদের নাম বিবেক শর্মা, ঋষভ শর্মা ও দীপ চক্রবর্তী। তদন্তে নেমে তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ। জানা গিয়েছে, বিটকয়েনের মাধ্যমে চলত এই মাশরুম কেনাবেচা। ধৃতদের মোবাইলে মিলেছে বিটকয়েন সংক্রান্ত অ্যাপ। ধৃত প্রথম দু’জন বিবিএ পাস। বিবেক এমবিএ পড়তে মুম্বই যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীপ কলকাতার এক নামী ফুড জায়েন্টের মালিকের ছেলে। পেশায় ডিজে। এরাই শহর জুড়ে পড়ুয়াদের এই ম্যাজিক মাশরুম বিক্রি করত। পূর্ব ভারতে এই ধরনের মাদকের হদিশ মিলল এই প্রথম। ধৃতদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বিদেশি ডাকটিকিট আঁটা বেশ কয়েকটি খাম। যা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, নেদারল্যান্ডস থেকে আসতে পারে এই মাদক।
[শহরে মাদক চোরাচালানের রমরমা, অনলাইনে বিকোচ্ছে চরস-কোকেন!]
বর্ষবরণের আগে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গ থেকে মাদক পাচারচক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে বিধাননগরের প্রাক্তন পুরপ্রধানের দৌহিত্র-সহ কলকাতার এক নামকরা ডিজেও ছিল। তারা প্রত্যেকেই এখন জেল হেফাজতে রয়েছে। এরাই কলকাতায় ড্রাগ পাচার সার্কিটের অন্যতম পেডলার। এই দলটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল দীপদের। জেলে চলে যাওয়ার পর এখন এই ব্যবসার বেশিরভাগটা সামলাচ্ছে দীপ, বিবেক ও ঋষভ। এনসিবি জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে হোলির উৎসব চলছিল দপ্তরের আবাসনে। তখন খবর আসে আলিপুরের একটি বাড়িতে বিপুল পরিমাণে ড্রাগ মজুত রাখার কাজ চলছে। তক্ষুনি রওনা দেয় টিম। নিউ আলিপুর পেট্রোল পাম্পের কাছে একটি বাড়িতে হানা দেন নারকোটিক্সের অফিসাররা। বাড়ির ঠিকানা ৮৪ টালিগঞ্জ রোড। সেখানে রেড করে ১৩ গ্রামের মতো এমডিএমএ, এক্সট্যাসি, ২০টি এলএসডি ব্লট ও আড়াই গ্রামের মতো ম্যাজিক মাশরুম ও অন্যান্য প্রচলিত কিছু মাদক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বিবেক ও তার তুতো ভাই ঋষভকে। অফিসে এসে অন্যান্য মাদকগুলির পাশে ম্যাজিক মাশরুম দেখে চক্ষু চড়কগাছ এনসিবি কর্তাদের। এই ড্রাগটির ব্যাপারে অনেক কিছু কানে এলেও কলকাতার বাজারে তা পাওয়া যাবে তা কল্পনাতেও ভাবেননি তদন্তকারী অফিসাররা। এরপর শুরু হয় জেরার পালা। টানা কয়েকঘণ্টা জেরার পরও কিছু বলেনি বিবেক ও ঋষভ। তারপর একটানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে ওই দুই বিবিএ পাস যুবক।
জেরার জানায়, তারা বিট কয়েনের মাধ্যমে ‘ডার্ক ওয়েব’ থেকে মাদক কেনে। পুরো ব্যবসাটাই হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। তারপর সেই মাদকের সিংহভাগ বিক্রি করে দীপ চক্রবর্তীর কাছে। দীপ সেই মাদক ছড়িয়ে দেয় কলকাতার বাজারে। বিবেক জানিয়েছে, এই শহরের স্কুল-কলেজ, নাইট ক্লাব ও পার্টি সার্কিটে এই মাদক সাপ্লাই করে দীপ ও তার কোর গ্রুপ। এরপরই তাদের নিয়ে গিয়ে একটি গোপন এলাকা থেকে দীপকে পাকড়াও করে এনসিবি। নারকোটিক্সের দপ্তরে টানা সাত ঘণ্টার জেরাতেও মুখ খোলানো যায়নি দীপের। তারপর ইন্টারনেটে বিক্রিবাটার কাগজপত্র সামনে রাখার পর একটু একটু করে তথ্য দেওয়া শুরু করে সে। এনসিবি-র এক কর্তা জানিয়েছেন, দীপ প্রথম দিকে মুখ খুলতে চায়নি। তবে একটানা সাত ঘণ্টা জেরার পর ভেঙে পড়ে। তারপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
[শহরে নিষিদ্ধ মাদক ম্যাজিক মাশরুমের হদিশ, গ্রেপ্তার ৩]
এনসিবি-র পূর্বাঞ্চলের অধিকর্তা দিলীপ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “এই তিন যুবক নিজেদের অপরাধের কথা কবুল করেছে। তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস অ্যাক্টে মামলা শুরু করা হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য,“মাদকের বাজারে ম্যাজিক মাশরুমের অস্তিত্ব আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এই মাদকের চল দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি জায়গায় রয়েছে। তবে কলকাতায় তার আমদানি ছিল না। কোন রুটে এগুলি কলকাতায় ঢুকছে তা খুঁজে বার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” এনসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে, বালি, মেক্সিকো, এবং ইউরোপের কয়েকটি জায়গায় এই ড্রাগ জনপ্রিয়। ভারতে কোদাইকানাল ও উটিতে এর চল রয়েছে। কলকাতায় তেমন প্রচলন নেই। এবার এই শহরেও হানা দিল ম্যাজিক মাশরুম। বাজার চলতি দাম গ্রাম প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা। কিছু মাশরুমে মারাত্মক নেশা হয়। আচ্ছন্ন করে দেয় ৬ ঘণ্টারও বেশি সময়। দীর্ঘদিন নেশা করলে মস্তিষ্ক বিকল হওয়ার সম্ভাবনা।
নারকোটিক্সের পরিভাষায় নাম সাইলোসাইবিন বা সাইকেডেলিক মাশরুম। কাদের হাত ধরে শহরে ঢুকল এই মাদক? এনসিবি সূত্রে জানা গিয়েছে দীপের মা কলকাতার একটি অভিজাত বেঙ্গলি কুইজিন রেস্তেরাঁর মালিক এবং কলামিস্ট। বাবা সাংবাদিকতা নিয়ে পাঠ দেন একটি সংস্থায়। বিবেকের বাবার নাটবল্টুর কারখানা রয়েছে হাওড়ায়। বিবেক ও ঋষভ দু’জনেই মেধাবী ছাত্র। দীপের ডিজে হিসাবে সম্প্রতি নামডাক হয়েছে। এদের হাত দিয়েই কলকাতার বাজারে ছড়িয়ে পড়ত মাদক। তবে এদের নেপথ্যে কারা রয়েছে তা খুঁজে বের করাই এখন এনসিবি-র কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
[সস্তায় ফোনের পর এবার কি দেশে বিকল্প মুদ্রা আনছে রিলায়েন্স?]
সর্বশেষ খবর
-
চাপের মুখে ভারতের সাহায্য নিতে রাজি নেপাল, আটকে পড়া ভারতীয়দের হাল-হকিকত জানাল দিল্লি
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য