গৌতম ব্রহ্ম: বেপরোয়া লরির ধাক্কায় ভেঙেছিল হাত-পা। সাত টুকরো হওয়া সেই হাড় জুড়তে হাঁটুর নিচে তিন দফায় ম্যারাথন অস্ত্রোপচার হয়েছে। হাড় জুড়লেও মন ভেঙেছে। অবসাদের চোরাবালিতে ডুবতে শুরু করেছিলেন বিরাটির তাপস দে। নাওয়া খাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কোনও কিছুতেই মন বসাতে পারছিলেন না। হবে না কেন ? একে তো দুর্ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতি, চিকিৎসার খরচ। তার উপর ঘোরতর সংশয়। আবার কি আগের মতো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব ? সুস্থ হতে পারব ? পরিস্থিতি এমন হয় যে অবসাদ কাটাতে কড়া ডোজের ‘অ্যান্টি ডিপ্রেশান্ট’ দিতে হয় তাপসবাবুকে। তাতেও তেমন কাজ হচ্ছিল না। চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ডাক্তারবাবুরা।
[‘১’ টিপতেই ফোন হ্যাক, মোবাইলে আধার লিংকের নামে প্রতারণা]
কে জানত তাপসবাবুর বাড়িতেই রয়েছে অবসাদ সারানোর ওষুধ ? তাপসবাবু এখন প্রায় সুস্থ। নিজের পায়ে হাঁটছেনও। ফিরে পেয়েছেন হারানো মনের জোরও। বাঁশির সুরে বাবার হারিয়ে যাওয়া মনের জোর ফিরিয়ে এনেছেন ছেলে। ওষুধের মতোই এখন নিয়ম করে বাঁশি শুনছেন তাপসবাবু। তাতেই হয়েছে অবসাদমুক্তি। শনিবার তাপসবাবুর তৃতীয় অপারেশনটি হয়। হাসপাতালে এসেই বাবাকে বাঁশি শুনিয়েছেন ছেলে। রবিবারও শোনালেন। ঘটনার সূত্রপাত মাস সাতেক আগে। হাবড়ায় সাইকেল চালিয়ে একটি কাজে যাচ্ছিলেন। এই সময় একটি লরির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন তাপসবাবু। বরাতজোরে বেঁচেও যান। কিন্তু হাঁটুর নিচে দু’টো পা ভেঙে যায়। একটি পা চার টুকরো। অন্যটি তিন। ভেঙে যায় হাতের কব্জিও।
তাপসবাবুকে ওইদিনই বাগুইআটির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে আসা হয়। ভরতি করা হয় বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন তথা কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ ডা. সুনীল ঠাকুর ও তাঁর ছেলে ডা. সুমন্ত ঠাকুরের অধীনে। এঁরাই তিন দফার অস্ত্রোপচারে তাপসবাবুর ভাঙা পা জোড়া লাগান। কিন্তু তাতে কী? ততদিনে অবসাদের ধাক্কায় তাপসবাবুর মন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। নিজের পায়ে উঠে দাঁড়ানোর মানসিক জোরটাই হারিয়ে ফেলেছিলেন তাপসবাবু। বিছানা থেকে নামতেই চাইতেন না। কারও সঙ্গে কথা বলতে চাইতেন না। শুধু বলতেন, “আমার দ্বারা আর কিছু হবে না। আমি আর সুস্থ হব না। নিজের পায়ে কোনওদিন দাঁড়াতে পারব না।”
[অন্তর্বাসের ভিতর ৪ লক্ষ টাকার জাল নোট, ময়দান চত্বর থেকে পাকড়াও পাচারকারী]
প্রমাদ গোনেন সুমন্তবাবু। মনের জোর না হলে মাল্টিপল ফ্র্যাকচারের রোগী নিজের পায়ে দাঁড়াবেন কী করে? অনেক ভেবে মিউজিক থেরাপির সাহায্য নেন তিনি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এসে থেরাপি করেন তাপসবাবুর। তারপরই জানা যায় তাপসবাবুর ছেলে সোহম ভাল বাঁশি বাজাতে পারেন। সুমন্তবাবু জানালেন, “ছেলেকে বলি দু’বেলা নিয়ম করে বাবাকে বাঁশি শোনাতে। কিন্তু সেই সুর যে এতটা কাজ করবে ভাবিনি। অবসাদ কাটানোর সব ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাপসবাবু এখন নিজের পায়ে হাঁটছেনও।” বিশিষ্ট বংশীবাদক পাঞ্চজন্য দে জানালেন, “দারুণ ব্যাপার। বাঁশির ‘হিলিং পাওয়ার’ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। বিদেশে তো বাঁশির সুর শুনে অনেকে কাজ করেন। ধ্যান করেন।” মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. অরিন্দম বিশ্বাসও মেনে নিলেন, “পছন্দের গান, সুর মানুষের মনকে সতেজ করতে দারুণ সাহায্য করে। মনের উৎফুল্লতা বাড়িয়ে আরোগ্য লাভের পথ প্রশস্ত করে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”
সর্বশেষ খবর
-
তফসিলি জাতিভুক্ত এবিভিপি নেতা নিখিলকে মারধর, কুকথা! রিপোর্ট চাইল এসসি কমিশন
-
কামব্যাক সঞ্জু-বুমরাহর, আফগানদের বিরুদ্ধে ঘোষিত ভারতের টি-২০ দল, জায়গা হল বৈভবের?
-
মহুয়াকে ‘গো ব্যাক’, গাড়িতে চড়-চাপড়, কালো পতাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ! তুমুল উত্তেজনা চাপড়ায়
-
প্রকৃতির রুদ্ররূপ, নেপালে বিপর্যয় এবং জরুরি কিছু প্রশ্ন
-
সাড়ে ৬ কোটিতে মিলবে না ছাড়! ২২ হাজার কোটির ঋণ মকুব মামলায় নয়া চাপে সুভাষ চন্দ্র