তৃণমূল কংগ্রেসে এখন মুষলপর্ব। দলের অন্দরের কোন্দল এবার খোলাখুলি নিজেরাই সামনে নিয়ে আসছে নেতৃত্ব। সেই তালিকায় যুক্ত হল নবতম ‘বেসুরো’ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Sudip Bandyopadhyay) উদ্দেশে সোশাল মিডিয়ায় দলের আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্রর (Mahua Moitra) নজিরবিহীন আক্রমণ। তিনি মনে করালেন চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সুদীপের গ্রেপ্তারির কথা। কারাবাস এড়াতে তিনি সেসময় অসুস্থতার ‘ভান’ করেছিলেন বলে অভিযোগ তুলে মহুয়ার খোঁচা, ‘এবার অসুস্থ হয়ে দিল্লির হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গদ্দারি করতে গেলেন!’ কৃষ্ণনগরের সাংসদের এহেন কটাক্ষ নিয়ে অবশ্য এখনও ‘বেসুরো’ শিবির বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন:
চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালির আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওড়িশা নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ইডির আদালতে বিচারপর্ব চলাকালীন তৃণমূল সাংসদকে ভুবনেশ্বরের কারাবাসে রাখা হয়। তবে কিছুদিন পর সুদীপ গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে ছিলেন। সেসময় তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরে অবশ্য এই মামলায় জামিনে মুক্ত হন সুদীপ।
চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালির আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ২০১৭ সালে ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওড়িশা নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ইডির আদালতে বিচারপর্ব চলাকালীন তৃণমূল সাংসদকে ভুবনেশ্বরের কারাবাসে রাখা হয়। তবে কিছুদিন পর সুদীপ গুরুতর অসুস্থ হয়ে বেশিরভাগ সময় হাসপাতালে ছিলেন। সেসময় তাঁকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরে অবশ্য এই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন তৃণমূলের পুরনো নেতা। ফের সাংসদ হন।
এবার ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর প্রায় ছিন্নভিন্ন দশা। পরিষদীয়, সংসদীয় দলে দ্বিধাবিভক্ত। রবিবার দিল্লিতে ২০ জন বেসুরো সাংসদ স্পিকারকে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি নতুন দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সম্ভবত সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই নিজের এক্স হ্যান্ডলে সুদীপকে ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে রীতিমতো কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। মহুয়ার বক্তব্য, ‘২০১৭এ আপনি রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অসুস্থতার ভান করে তৎকালীন বিজেডি সরকারকে কাজে লাগিয়ে জেল থেকে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। এখন আবার সেই অসুস্থতা অজুহাতে দিল্লি গেলেন গদ্দারি করতে! তাপস রায় আর কুণাল ঘোষই আপনাকে ঠিক চিনেছিল, আমরা ভুল ছিলাম।’
Dada @SudipBAITC you were arrested in 2017. jailed in Rose Valley scam. Faked illness then & took BJD govt’s help to move from jail to hospital . Again now you faked illness to fly to Delhi to do gaddari! Tapas Roy & Kunal Ghosh were right about you. We were wrong!
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) June 14, 2026
আসলে উত্তর কলকাতায় তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাপস রায়ের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় এই ইস্যুতে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন তাপস রায়। সেবারের ভোটে কলকাতা উত্তরের দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন। তাপস রায়কে হারিয়ে ফের সাংসদ হন সুদীপ। কিন্তু তাঁদের ওই চোরা দ্বন্দ্ব মেটেনি এখনও। তাতে মাঝেমধ্যেই উসকানি দিতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে, যিনি এবার বিধায়ক হয়েছেন। সকলেরই নানা অভিযোগ ছিল সুদীপের বিরুদ্ধে। তাই মহুয়া নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন তাপস রায় ও কুণাল ঘোষের নাম।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল
-
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর
-
গাড়িতে বোমা, প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করে ‘সহমরণে’র ফাঁদ, তারপর…
-
‘ককটেল ২’ মুক্তির পরই কৃতীর প্রেমে ইতি? কবীরের বাহুলগ্না অন্য নারী! ভাইরাল ছবি