সেতু ভেঙে পাসপোর্ট ‘মাটির তলা’য়, স্বপ্নভঙ্গ বিদেশযাত্রার

তবু স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান অবধেশ পাণ্ডে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮, ০৮:৫৬

options
link
সেতু ভেঙে পাসপোর্ট ‘মাটির তলা’য়, স্বপ্নভঙ্গ বিদেশযাত্রার

অর্ণব আইচ: ব্রিজ ভেঙে পাসপোর্ট গেল মাটির তলায়। তার সঙ্গে ভেঙে গেল বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন। তবু স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান অবধেশ পাণ্ডে। তাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হতেই তিনি ছুটে গিয়েছেন। নিজেই কাজে হাত লাগিয়েছেন। যদি মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায় পাসপোর্ট আর অতি সাধের অ্যানড্রয়েড মোবাইলটি।

Advertisement

[নবান্নে বৈঠক সেরেই আহতদের দেখতে এসএসকেএমে মুখ্যমন্ত্রী]

অবধেশের পরিবার রয়েছে উত্তরপ্রদেশে। বহু বছর ধরেই তিনি কলকাতায় জেসিবি চালকের কাজ করছেন। বছর দেড়েক আগে মেট্রোরেলের ঠিকাদারের আওতায় কাজ শুরু করেন। তবু অভাব ছিল। এর মধ্যেই জানতে পারেন যে, বিদেশে গিয়ে কাজ করলে রোজগার করা যায় অনেক টাকা। বিশেষ করে মধ্য প্রাচ্যের কোনও দেশে গেলে। তাই তড়িঘড়ি করিয়ে নিয়েছিলেন পাসপোর্ট। কিনেছিলেন অ্যানড্রয়েড মোবাইল। মোবাইলে সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন। মঙ্গলবার বিকেলেও মাঝেরহাট ব্রিজের তলায় মেসের ঘরে শুয়ে মোবাইলে সিনেমা দেখছিলেন। হঠাৎই বাজ পড়ার মতো শব্দ। চোখের পলক ফেলতে না ফেলতে প্রায় অন্ধকার। দুনিয়াটা যেন মাথার কাছে নেমে এল। দেওয়াল ঘেঁষে ছিলেন বলে চাঙড় তাঁর উপর এসে পড়ল না। একটু ফাঁক ছিল বলেই বেঁচে গেলেন তিনি। চিৎকার শুনে কোনওমতে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেই আতঙ্ক এখনও ছাড়েনি তাঁকে। তখন প্রাণের ভয়ে আর মোবাইল-পাসপোর্টের কথা মনে আসেনি। চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার মাঝেরহাটে ফিরেছেন অবধেশ। ফিরেই সঙ্গীদের প্রশ্ন করেছেন, কোথায় রয়েছে তাঁর জিনিসগুলি? কিন্তু কেইবা হদিশ দেবে তাঁর জিনিসের।

Advertisement

[একজনকে টেন্ডার পাইয়ে দিতেই সেতুর কাজে ঢিলেমি, বিস্ফোরক অভিযোগ দিলীপ ঘোষের]

Advertisement

অবধেশের এটুকু মনে আছে যে, একটি ব্যাগে ছিল তাঁর পাসপোর্ট, আধার কার্ড, হাজার দু’য়েক টাকা ও আরও কিছু নথিপত্র। সেই ব্যাগ যে চলে গিয়েছে ‘মাটির তলা’য়। ব্যাগের সঙ্গে পাসপোর্ট, মোবাইল, টাকা এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। তাই বেঁচে ফিরে এসেও মন খারাপ অবধেশের। মাঝেরহাটে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। বিকেলে বৃষ্টি একটু থামতেই জনা দু’য়েক সঙ্গী জোগাড় করে মাথায় পরে নিয়েছেন হেলমেট। ডিউটির সময় যেমন পোশাক পরেন, সেই পোশাক পরেই ছুটে গিয়েছেন ধ্বংসস্তূপের দিকে। মাটি আর কংক্রিটের টুকরো সরিয়ে যদি ব্যাগটি একবার পাওয়া যায়। এতদিনে হয়তো নষ্ট হয়ে গিয়েছে সাধের মোবাইল। যদি পাওয়া যায় পাসপোর্ট। একবার পাসপোর্ট খুঁজে পেলে এবার আর কলকাতায় থাকা নয়। সরাসরি বিদেশে যাওয়ার সুযোগ খুঁজবেন। কিন্তু পাসপোর্ট খুঁজে না পাওয়া গেলে সে মস্ত সমস্যা। তাই শেষ চেষ্টা হিসাবে এখনও ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে পাসপোর্টের খোঁজ চালাচ্ছেন অবধেশ।

[‘রাইটস’-র রিপোর্টে উদ্বেগ, দুর্বলতার নিরিখে প্রথম বঙ্কিম সেতু]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.