Mamata Banerjee

রাজ্য-রাষ্ট্রপতি ‘সংঘাত’ ইস্যুতে ‘যা বলার আমি বলব’, সতীর্থদের বার্তা মমতার

রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে কেন যেতে পারেননি তার ব্যাখ্যা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মার্চ ৮, ২০২৬, ১৬:৫৭

options
link
রাজ্য-রাষ্ট্রপতি ‘সংঘাত’ ইস্যুতে ‘যা বলার আমি বলব’, সতীর্থদের বার্তা মমতার
ফাইল ছবি।

সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাষ্ট্রপতির মতো দেশের সর্বোচ্চ সম্মানীয় পদকে হাতিয়ার করে ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি! দ্রৌপদী মুর্মুর বঙ্গ সফরে শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত না থাকার ঘটনাকে হাতিয়ার করে শুরু হয়েছে কুৎসা। যাতে যোগ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন তিনি। এমনকী বিজেপির ছোট-বড় নেতারাও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন। যদিও শনিবারই তা পুরোপুরি খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘কোনও প্রটোকল ভঙ্গ হয়নি।’ কিন্তু এরপরেও থামছে না বিতর্ক! এই অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ, ”রাষ্ট্রপতিকে আক্রমণ করে কেউ কোনও কথা বলবে না। আমি যতটুকু বলার বলে দেব।” শুধু তাই নয়, কেন রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি তাও এদিন ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান।

Advertisement

রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল বদল, তাঁর আগমনে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে রাষ্ট্রপতির অসন্তোষ প্রকাশ – এসব নিয়ে শনিবার দিনভর উত্তপ্ত হয় বাংলার রাজনীতি। এমনকী আজ রবিবারও এই বিষয়ে শুরু হয়েছে তোপ পালটা তোপ! এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দিল্লির একটি সভা থেকে এই ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। এরপরেই মেট্রো চ্যানেলে চলা ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আপনি (পড়ুন-রাষ্ট্রপতি) কী করে বললেন কেউ যায়নি? মানুষের জন্য আমি ধরনায় । ওখানে তো শিলিগুড়ির মেয়র ছিলেন।” তাঁর কথায়, ”এই অনুষ্ঠান বেসরকারি সংস্থা অ্যারেঞ্জ করেছে। কী ক্ষমতা তাঁদের তারা জানেন। এজন্য আমরা দায়ী?” শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানটি এয়ারপোর্ট অথিরিটির জায়গাতে হয়েছে বলেও দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ফলে রাজ্য সরকারকে যে কোনওভাবেই দোষারোপ করা যায় না তা এদিন তথ্য দিয়ে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

শুধু তাই নয়, এদিন ধরনামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার পালটা অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে একটি ছবিও সামনে আনেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর পাশে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি মুর্মু আর চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রী মোদি! রবিবার ধর্মতলার ধরনামঞ্চ থেকে এই ছবি দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন, ”দেখুন ছবিটা। সম্মাণনীয় রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আর প্রধানমন্ত্রী বসে আছেন। কে কাকে অপমান করছে?”

Advertisement

বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এসেছেন, অথচ তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি মুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনও মন্ত্রী – একথা উল্লেখ করে শনিবার রাষ্ট্রপতি নিজে প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ তোলেন। মন্তব্য করেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি। যাই হোক, এটা ব্যাপার নয় কোনও।” রাষ্ট্রপতির এহেন মন্তব্যের পরই শুরু হয় বিতর্কের ঝড়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন