Mamata Banerjee

‘নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে,’ বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা

মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মলয় কুণ্ডু
মলয় কুণ্ডু

শেষ আপডেট: মার্চ ৫, ২০২৬, ১৩:৫০

options
link
‘নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে,’ বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা
বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবসে শ্রদ্ধা মমতার।

গত কয়েকদিন আগেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এখনও পর্যন্ত কমবেশি প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। অভিযোগ উঠছে, উত্তর ২৪ পরগণা, নদিয়া-সহ একাধিক জেলায় বহু মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এমনকী বহু নামকে রাখা হয়েছে ‘বিচারাধীন’ পর্যায়ে। যা নিয়ে মতুয়াদের মধ্যে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক-উদ্বেগ। এমনকী দেশ ছাড়া হওয়ার শঙ্কাও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থায় মতুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, ‘কেন্দ্রের বিজেপি (BJP) সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই-বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেবার নামে রাজনীতির খেলা চলছে।’ তবে বাংলার মানুষের গায়ে কোনও আঁচ পড়তে দেবে না বলেও বার্তা প্রশাসনিক প্রধানের।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার মতুয়া সমাজের ও মতুয়া মহাসংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবীর তিরোধান দিবস। তাঁকে শ্রদ্ধা এবং প্রণাম জানিয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখছেন, ‘শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের প্রদর্শিত পথে মতুয়া মহাসংঘ বাংলার সামাজিক সংস্কার ও নবজাগরণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। দলিত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার প্রসার এবং জাতপাতহীন এক মানবিক সমাজ গড়ার যে আন্দোলন এই মহাসংঘ শুরু করেছিল, বড়মা সারাজীবন সেই আদর্শকেই লালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে মতুয়া মহাসংঘ সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

Advertisement

শুধু তাই নয়, বড়মার সঙ্গে তাঁর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক ছিল তাও এদিন তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। শুধু তাই নয়, বড় মা’র মাতৃস্নেহের পরশ কীভাবে পেয়েছিলেন সেই স্মৃতিচারণও করেছেন তিনি। মমতা লিখছেন, ‘বড়মার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিগত, আত্মিক। তাঁর মাতৃস্নেহের পরশ আমি নিবিড়ভাবে পেয়েছিলাম – এ আমার জীবনের পরম পাওয়া। তাঁর চিকিৎসাসহ যেকোনো দরকারে তিনি যখনই আমাকে ডেকেছেন, আমি ছুটে গেছি তাঁর কাছে। এটা আমার গর্ব, আমাদের সরকার তাঁর অসামান্য সামাজিক অবদানের জন্য বড়মা’কে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত করেছিল।’

Advertisement

পাশাপাশি মতুয়াদের কল্যাণে রাজ্য সরকার যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তাও এদিন সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন প্রশাসনিক প্রধান। তাঁর কথায়, ‘মতুয়া সমাজের সার্বিক কল্যাণের জন্যও আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মতুয়া বিকাশ পর্ষদ ও নমঃশূদ্র বিকাশ পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। পূর্ণব্রহ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরকে সম্মান জানিয়ে তাঁর জন্মদিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঠাকুরনগরে, ঠাকুরবাড়ির কাছাকাছি হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কৃষ্ণনগরে গড়ে তোলা হচ্ছে হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন ক্যাম্পাস। গাইঘাটায় পি আর ঠাকুর সরকারি কলেজ করা হয়েছে।’ এছাড়াও ‘জলতৃপ্তি’ জল প্রকল্প, কুঠিপাড়া নাগবাড়ী ব্রিজ, আইটিআই এবং পলিটেকনিক কলেজ-সহ যে সমস্ত কাজ করা হয়েছে তাও এদিন সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘ঠাকুরনগরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।’

তবে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, যেভাবে এসআইআর তালিকায় মতুয়াদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে একেবারে গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখছেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের চক্রান্তে আজ এক অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে মতুয়া ভাই-বোনদের ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।”

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘SIR করে ইচ্ছে করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, আজ তাঁদের নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।’ তবে এই অন্যায় তিনি যে মেনে নেবেন না তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান। এমনকী এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে বলেও বার্তা প্রশাসনিক প্রধানের। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘আমার মতুয়া ভাইবোন সহ বাংলার মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.