দীর্ঘ পনেরো বছর ক্ষমতার বাইরে। গত বিধানসভা নির্বাচনে শূন্যের গেরো কাটিয়ে একটি আসন ফিরে পেলে ও জনবিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠা যায়নি – ভোটের ফলাফল সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করেছে। গত পাঁচ বছরে একাধিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া সত্ত্বেও কেন মানুষের সঙ্গে সংগঠনের দূরত্ব কমল না, তা নিয়ে আত্মসমালোচনা শুরু হয়েছে বঙ্গ সিপিএমের অন্দরে। পার্টির নেতাদের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকলেও ব্যক্তি-প্রচারের প্রবণতা অন্যতম। সম্প্রতি সিপিএমের সাপ্তাহিক মুখপত্রেও সংগঠনের এই দুর্বলতার কথা স্বীকার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মুখপত্রে বলা হয়েছে, জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোর লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সাংগঠনিক নজরদারিতেও ঘাটতি ছিল। মুখপত্রের ৮ নম্বর পাতায় ‘জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক’ শীর্ষক নিবন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও একক নেতা বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে জনবিচ্ছিন্নতা কিংবা শ্রেণিবিচ্ছিন্নতা কাটানো সম্ভব নয়।যদিও সমালোচনায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ভূমিকার গুরুত্ব অস্বীকার করা হয়নি। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুর্বলতা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।
প্রায় ১১ বছর আগে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল পার্টির সাংগঠনিক প্লেনাম। সেখানে ‘গণ-লাইনসম্পন্ন বিপ্লবী পার্টি’ গড়ে তোলার যে রূপরেখা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল, এক দশকেরও বেশি সময় পরে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলেই কার্যত স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। মুখপত্রে বলা হয়েছে, জনবিচ্ছিন্নতা কাটানোর লক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। সাংগঠনিক নজরদারিতেও ঘাটতি ছিল। মুখপত্রের ৮ নম্বর পাতায় ‘জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক’ শীর্ষক নিবন্ধে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও একক নেতা বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে জনবিচ্ছিন্নতা কিংবা শ্রেণিবিচ্ছিন্নতা কাটানো সম্ভব নয়।
যদিও সমালোচনায় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যক্তির ভূমিকার গুরুত্ব অস্বীকার করা হয়নি। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই দুর্বলতা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। মানুষের পাশে ধারাবাহিকভাবে থেকে তাঁদের আস্থা অর্জন করতে হয়। সেই দায়িত্ব মূলত পার্টির শাখা ও গণসংগঠনগুলির। তাই শাখা সংগঠনকে সক্রিয় করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে সেই কাজে অবহেলা থেকে গিয়েছে বলেও স্বীকার করেছে পার্টি। পাশাপাশি উপরতলার নেতৃত্বের আরও সক্রিয় ও নিবিড় নজরদারির প্রয়োজন ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই জনবিচ্ছিন্নতা কাটানো সম্ভব হচ্ছে না বলে মতপ্রকাশ করা হয়েছে।
প্রায় দু’মাস আগে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। তা নিয়ে সিপিএমের মুখপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আরএসএস ও অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠন সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা করবে। তাই মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করে এই শক্তির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক রাজনৈতিক লড়াই গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আগামী দিনে পার্টির রাজনৈতিক লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্কবার্তা সিপিএমের অন্দরে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অদিতিকে ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, দেবরাজকে বারাসত আদালতে ডিম-হামলা
-
মার ঝাড়ু মার! বিশ্বকাপের মঞ্চেও অমলিন জাপানি সূর্যোদয়
-
কংগ্রেসের সঙ্গে মিশছে শরদ পওয়ারের দল! কথাবার্তা চূড়ান্ত পর্যায়ে! কী শর্তে?
-
উত্তরবঙ্গের ক্ষুদ্র চা চাষিদের কেন্দ্রের পোর্টালে যুক্ত করা হোক, শুভেন্দুকে চিঠি বাগান মালিকদের
-
ধর্ম বদল বিতর্ক তুঙ্গে! নিজেকে ‘নাস্তিক’ দাবি করেও কেন কামাখ্যায় পুজো উরফির?