অর্ণব আইচ: মেয়েকে ফেরত চেয়ে পুলিশের কাছে আরজি জানালেন বাবা।
বুধবার প্রেস ক্লাবে গার্ডেনরিচের বাসিন্দা বললেন, “পুলিশের কাছে একটিই আরজি, তারা মেয়েকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিক।” এদিন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠী জানান, গত জুন মাসে গার্ডেনরিচ থেকে নিখোঁজ হওয়া মেয়েটিকে উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে লালবাজারের গোয়েন্দাদের টিম। গার্ডেনরিচ থানার আধিকারিকরাও তদন্ত করছেন। মেয়েটির সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় চলছে তল্লাশি।
[পুলিশের নাকের ডগায় আদালত চত্বরে অস্ত্র হাতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব]
গার্ডেনরিচের নাবালিকা নিখোঁজ কাণ্ডে শুরু হয়েছে পুলিশের তদন্ত। এদিন ওই নাবালিকার বাবা জানান, তাঁর ১৬ বছরের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত বছরের ৭ জুন সে তার এক বন্ধুর বাড়ি যায়। বাড়িতে না ফেরায় গার্ডেনরিচ থানায় মিসিং ডায়েরি হয়। সেদিন গভীর রাতেই পুলিশ তাকে বাবার হাতে তুলে দেয়। চার বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে মেয়েটি। তখন থেকেই জেঠিমার কাছে মানুষ হয় সে। জেঠিমা তাকে আগলে রাখলেও ৯ জুন থেকে নাবালিকাকে আর পাওয়া যায়নি। বাবার দাবি, তাঁর মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ জুন গার্ডেনরিচ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩ ধারায় অপহরণের মামলা শুরু হয়। গত নভেম্বর মাসে ফতেপুর মোড়ে ওই নাবালিকার দু’বছরের ছোট কিশোরী ভাইঝি দেখে, একটি স্কুটি করে যাচ্ছে এক যুবক। স্কুটির পিছনে বসে ওই নাবালিকা। পিসির নাম ধরে সে ডাকে। কিন্তু পিসি সাড়া দেয়নি। স্কুটিটি বেরিয়ে যায়। তাদের কারও হেলমেট ছিল না বলে তার চিনতে সুবিধা হয়। ওই যুবককে ভাইঝি মিন্টু বলে শনাক্ত করে। মিন্টুর বাড়ি মেটিয়াবুরুজ এলাকায়। নিখোঁজ নাবালিকার বাবা জানান, মার্চ মাসের ২১, ২২ ও ২৪ তারিখে মিন্টুর বাড়িতে পুলিশ যায়। তিনি ও অন্য আত্মীয়রাও গিয়েছিলেন পুলিশের সঙ্গে। কিন্তু মিন্টুর মা-বাবা পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলে বাড়িতে নেই। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, মিন্টুর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু মিন্টু বা ওই নাবালিকা কাউকেই পাওয়া যায়নি।
[শহরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে রমরমা বেটিং চক্র, গোয়েন্দাদের জালে ৩ ‘বুকি’]
নিখোঁজ কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে লালবাজারে মিন্টুকে ডেকে পাঠানো হয়। তাকে জেরা করা হয়। ডাকা হয় নাবালিকার বাবা, ভাইঝি ও অন্যদের। ভাইঝি মিন্টু ও তার বন্ধুর মধ্যে মিন্টুকে শনাক্ত করে। কিন্তু মিন্টু পুলিশকে জানায়, সে ওই নাবালিকাকে অপহরণ করেনি। নাবালিকা তার কাছেও নেই। নাবালিকার বাবা ও ভাইঝিকে কয়েকটি মহিলার দেহের ছবি দেখানো হয়। কিন্তু সেগুলির মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে তাঁরা তাঁদের মেয়েকে শনাক্ত করতে পারেননি। এদিন আইনজীবী উদয়চাঁদ ঝা জানান, মেয়েটি ভালবেসে মিন্টুর সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সে যে নাবালিকা। তাই তাকে খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধার করা প্রয়োজন। মেয়েটির বাবা জানান, পুলিশ তাঁর মেয়েকে উদ্ধার করে হোমে পাঠালেও তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু মেয়েকে দেখলে তিনি শান্তি পাবেন।
সর্বশেষ খবর
-
১০৮ জন উদ্ধার হলেও এখনও নেপালে নিখোঁজ ২৭৫ ভারতীয়, জানাল বিদেশমন্ত্রক
-
গাড়ি থামিয়ে জোর করে টাকা আদায়! সাসপেন্ড কলকাতা পুলিশের দুই কর্মী
-
অশোকনগরে শুরু তেল উৎপাদন, তৃণমূলকে দুষে শমীক লিখলেন, ‘শক্তিশালী হোক বাংলার অর্থনীতি’
-
স্মার্টওয়াচ অতীত, শরীরের খুঁটিনাটি হিসেব রাখবে অত্যাধুনিক ‘টেম্পল’, কবে আসছে ভারতের বাজারে?
-
পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপের