টেলিগ্রাম চ্যানেলটির নাম ‘পূর্ব আকাশ’। আর এই ‘পূর্ব আকাশ’-এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ থেকে শুরু করে অসম, বাংলা, এমনকী, কেরলেও নেটওয়ার্ক তৈরি করে মগজধোলাই শুরু করেছিল বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন (বাংলাদেশ)। আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশের আরও একটি জঙ্গি সংগঠন ইমাম মাহমুদের কালিফা তথা আইএমকে। মঙ্গলবার সূত্রের খবর অনুযায়ী বাংলার অন্তত ৬টি জায়গায় তল্লাশি চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করলেন গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুন:
ধৃতদের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ থেকে শেখ জুম্মান হোসেন ও সাহারুল হক পুরকাইত, পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট থেকে পিয়ার মহম্মদ শেখ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং অঞ্চল থেকে আবদুর রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধ ঘোষণা, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার চেষ্টা ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এনআইএ জানিয়েছে, এই রাজ্যে কেউ বা ছিল দর্জি সেজে, কেউ বা ইমাম পরিচয়ে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য জেএমবি ও আইএমকে-র সদস্য হিসাবে অনলাইনে মগজধোলাই করা।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারী কুশকারী গ্রামের যুবক মুজিবর রহমানের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও সে পলাতক। এছাড়াও হাওড়ার একটি বাড়িতে এনআইএ তল্লাশি চালিয়ে একজনকে আটক করে জেরা করছে বলে খবর। বাংলাদেশ থেকে জেএমবি ও আইএমকে সংগঠনের জঙ্গিরা অসমের যুবকদের মগজধোলাই করে। তারই ভিত্তিতে এনআইএ গুয়াহাটিতে মামলা রুজু করে। ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। তারই তদন্তের সূত্র ধরে এদিন বাংলা ছাড়াও অসমের দশটি জায়গা ও কেরলেও চলেছে তল্লাশি।
এনআইএ জানিয়েছে, এই রাজ্যে কেউ বা ছিল দর্জি সেজে, কেউ বা ইমাম পরিচয়ে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য জেএমবি ও আইএমকে-র সদস্য হিসাবে অনলাইনে মগজধোলাই করা। এনআইএ-র অভিযোগ, ধৃতরা মূলত অনলাইনে ও ‘পূর্ব আকাশ’ টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের জেএমবি ও আইএমকে হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। কীভাবে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নেটওয়ার্ক ও ক্রমে নাশকতার মতো জঙ্গি কার্যকলাপ করা যায়, তা নিয়ে এনক্রিপটেড চ্যাটের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত। এছাড়াও ‘পূর্ব আকাশ’-এর মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠন নতুন যুবকদের নিয়োগ শুরু করেছিল, যাতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল ধৃতদের। ‘বাইতুল মাল’ পদ্ধতির মাধ্যমে তহবিল তোলা শুরু করেছিল ধৃতরা। চারজনের কাছ থেকেই মোবাইল, সিমকার্ড ও বেশ কিছু জেহাদি নথি উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ। ধৃতদের কলকাতা থেকে গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এনআইএ-র অভিযোগ, ধৃতরা মূলত অনলাইনে ও ‘পূর্ব আকাশ’ টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশের জেএমবি ও আইএমকে হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। কীভাবে ভারতের বিভিন্ন জায়গায় নেটওয়ার্ক ও ক্রমে নাশকতার মতো জঙ্গি কার্যকলাপ করা যায়, তা নিয়ে এনক্রিপটেড চ্যাটের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত।
এনআইএ জানিয়েছে, পেশায় দর্জি শেখ জুম্মান হোসেন বজবজের মিঠেপুকুরের বাসিন্দা। নিজের দর্জির দোকানে রয়েছে একাধিক সেলাইয়ের মেশিন। কিন্তু তার নজর থাকত শুধু মোবাইলের দিকেই। এদিন বিচারভবনে এনআইএ-র বিশেষ আদালতে তোলা হলে তাকে পাঁচদিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। অন্য ধৃত সাহারুল হক পুরকাইত ডায়মন্ড হারবারের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা হলেও সাহারুল বছর কুড়ি ধরে শ্বশুরবাড়ি বজবজ থানার চিংড়িপোতার শেখপাড়ায় থাকত। এনআইএ অভিযানের খবর পেয়ে পালালেও তাকে রঘুনাথপুর থেকে এনআইএ গ্রেপ্তার করে। তাকে বজবজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে এসে তল্লাশি চালানো হয়।
৬৪ বছরের পিয়ার মহম্মদ শেখ পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার পালিশগ্রামের একটি মসজিদের ইমাম। তাঁকে গ্রেপ্তারির পর যে ঘরে ওই ইমাম থাকতেন, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মোবাইল ছাড়াও একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়। তাঁর একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াতের কথা জানা গিয়েছে। প্রায় তিনবছর মসজিদে কাজ করার মধ্যে ছয় মাস ওই ইমাম বাংলাদেশে ছিলেন। তারপর আবার ফিরে আসেন। অন্য ধৃত আব্দুর রফিকের ব্যাপারেও বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এনআইএ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সস্তা জনপ্রিয়তার লোভ! মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও, শ্রীঘরে ইনফ্লুয়েন্সার তরুণী
-
‘বলিউডের দেশাত্মবোধক ছবি নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই, অথচ পাকিস্তানি শিল্পীকে তোল্লাই’, দিলজিৎকে খোঁচা মিকার
-
‘হিরো’ মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল