কলহার মুখোপাধ্যায়: পটলের দোরমা!
কচি পটলের একদিকের মাথা কেটে ভিতরের বিচি শুদ্ধু শাঁস বের করে নেওয়া হয়। তারপর পছন্দমতো পুর ভরে ফের মাথা জুড়ে দিলেই হল। ভাজা বা ঝোল যাই হোক, মুখে তুললে লা-জবাব। এখানেও তা-ই হয়েছে। শুধু পুরের জায়গায় ভরা হয়েছে নোট। স্পষ্ট করে বললে, বিদেশি টাকা। ইউরো আর মার্কিন ডলার। অবশ্যই ভেজে বা ঝোলে ফেলে খাওয়ার জন্য নয়। নজরদারি এড়িয়ে পাচারই ছিল উদ্দেশ্য। যা শেষ পর্যন্ত সিদ্ধ হয়নি। সোমবার রাতে কলকাতা বিমানবন্দরের শুল্ক-জালে ধরা পড়ে ফাঁস হয়ে গেল পাচারকারীদের জারিজুরি। সব মিলিয়ে উদ্ধার হল ভারতীয় মুদ্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা মূল্যের বিদেশি নোট।
[রোমিওদের রুখতে শহরে নামছে প্রমীলা পুলিশের বিশেষ বাইক বাহিনী]
তবে অভিনব এই পাচারপন্থা দুঁদে শুল্ক কর্তাদেরও থ বানিয়ে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, সোনা হোক বা টাকা কিংবা মাদক, নানাভাবে পাচার করার চেষ্টা হয়। বেল্টের ভিতরে, জুতোর সোলের মধ্যে গোপন খুপরি বানিয়ে, জ্যাকেটের লাইনিংয়ের ভিতরে। এমনকী শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে একাধিক পাচারকারী। কিন্তু পটল-চেরা নোটের হদিশ এদেশের পাচার ইতিহাসে নিঃসন্দেহে আলাদা মাত্রা জুড়েছে।
ঘটনাটা এরকম। এসজি-৮৩ বিমানে চড়ে দু’জন যাত্রীর সোমবার রাতে ব্যাংকক যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বিমান ছাড়ার নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে কলকাতা বিমানবন্দরে চলেও আসেন তাঁরা। কিন্তু ব্যাগ কাঁধে চাপিয়ে ইতস্তত ঘোরাফেরা করতে দেখে তাৎক্ষণিক সন্দেহ হয় বিমানবন্দরের শুল্ক বিভাগের অফিসারদের। প্রথম ওই দুই ব্যক্তির গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখেন আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি কোথায় যাচ্ছে, কী খাচ্ছে, কী কথা বলছে তা নজর রাখতে সাদা পোশাকে লোকও নিয়োগ করা হয়। তাদের উপর যে নজরদারি চলছে, এটা কোনওভাবেই বুঝতে দেননি আধিকারিকরা।
[রাজ্য পুলিশের নয়া ডিজি হচ্ছেন বীরেন্দ্র, নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে সুরজিৎ করপুরকায়স্থ]
সন্দেহটা গাঢ় হয় ল্যাগেজ ব্যাগ স্ক্যান করার সময়ই। শুল্ক বিভাগ জানাচ্ছে, ব্যাগ যখন এক্স-রে হচ্ছিল, তখনই নজরে আসে বিকট আকৃতির একাধিক জিনিস রয়েছে ব্যাগের ভিতরে। আর ব্যাগ খুলে তাজ্জব বনে যান শুল্ক কর্তারা। দেখা যায়, ব্যাগ ভর্তি সবুজ কচি পটল। কিন্তু তা নিয়ে বিদেশ যাত্রা? ভাবায় সকলকে। কর্তারা বলছেন, প্রথম দু-একটা পটল হাতে নিয়ে চিপে কিছু বুঝতে পারা যায়নি। পটল ভাঙতেই যাবতীয় রহস্য ভেদ। দেখা মেলে, বিদেশি টাকার। শুল্ক বিভাগের আধিকারিকরা বলছেন, পটল ভেঙে পাওয়া যায় ইউরো ও ইউএস ডলার। ৫০০ ইউরোর নোট ছিল ১১০টি এবং ১০০-র ৫০টি ইউএস ডলার ছিল। সব মিলিয়ে ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। এই বিদেশি নোট কার কাছে, কোথায় পাচার করা হচ্ছিল তার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে শুল্ক বিভাগ। পাচারকারীদের নাম-পরিচয় গোপন রেখেছেন শুল্ক কর্তারা। মনে করা হচ্ছে, বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে এই চক্রের যোগ রয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
গিয়েছিলেন হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, জাপানে রহস্যমৃত্যু খড়গপুর আইআইটি পড়ুয়ার
-
‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়ানো রাহুলকে তোপ! জিডিপির আশাতীত সাফল্যে ভিডিও বার্তা মোদির
-
সাতসকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পানাগড়ে, আগুনে পুড়ে ছাই শোরুমের সমস্ত স্কুটি
-
দ্বিতীয় বিয়েতেও মিলল না সুখ! ছ’মাস পেরনোর আগেই তাল কাটল র্যাপার বাদশার দাম্পত্যে
-
‘অনেক যুদ্ধ, অনেক ক্ষত’, বিদায়বার্তায় মেসির সঙ্গী ‘ব্রিন্দিস’, গানেই লড়াইয়ের কাহিনি শোনালেন লিও