Nabanna

বেআইনিভাবে বাংলার বাড়ির সুবিধা, অর্থ ফেরাবেন ১০ হাজার উপভোক্তা

এক আধিকারিকের কথায়, প্রথম ধাপের থেকে দ্বিতীয় ধাপে বেআইনিভাবে বাড়ি প্রাপকের সংখ্যা বেশি।

Advertisement
নব্যেন্দু হাজরা
নব্যেন্দু হাজরা

শেষ আপডেট: জুন ১৫, ২০২৬, ১৫:০৫

options
link
বেআইনিভাবে বাংলার বাড়ির সুবিধা, অর্থ ফেরাবেন ১০ হাজার উপভোক্তা
ফাইল ছবি।

তালিকা তৈরির কাজ চলছে জেলায় জেলায়। নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, প্রায় হাজার দশেক উপভোক্তা ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছেন। তাঁদের কেউ সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি নিয়েছেন, কোথাও আবার একজনের নামে একাধিক বাড়ি হয়েছে। গোটা তালিকাই এবার ঝাড়াই-বাছাই হচ্ছে। আর উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে ১২ লক্ষ উপভোক্তা এই প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। আর দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৬ লক্ষ মানুষকে এই বাড়ি দেবে বলে প্রথম ধাপের ৬০ হাজার টাকা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের বেআইনিভাবে সুবিধা নিয়েছেন যাঁরা তাঁদের এবার সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। পালাবদলের পর গোটা প্রক্রিয়া নিয়েই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে।

Advertisement

এক আধিকারিকের কথায়, প্রথম ধাপের থেকে দ্বিতীয় ধাপে বেআইনিভাবে বাড়ি প্রাপকের সংখ্যা বেশি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বেআইনিভাবে সুবিধা নিয়েছেন যাঁরা তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিবকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ দেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে বহু অযোগ্য উপভোক্তা অন্যায়ভাবে সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ। আরও অভিযোগ, একজনের নামে একাধিক বাড়িও রয়েছে। তা ছাড়া যাঁর পাকা বাড়ি রয়েছে, তিনিও এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন। তার ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই কারণে নতুন করে উপভোক্তাদের তালিকা যাচাই করতে হবে। পরে আবার চিঠি দিয়ে জানানো হয়, প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সুবিধাভোগীদের পুনরায় যাচাই (রি-ভেরিফিকেশন) করতে হবে।

Advertisement

নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে, যেসব সুবিধাভোগী পুনরায় যাচাইয়ের সময় অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের তথ্য আবারও পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে যাঁদের অযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে প্রকল্পের অর্থ অবিলম্বে ফেরত (রিকভারি) নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
দপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধার করা অর্থ নির্দিষ্ট ট্রেজারি হেড অফ অ্যাকাউন্টে (2216-03-002-001-70-01) টি.আর. ফর্ম-৭-এর মাধ্যমে জমা করতে হবে। অর্থ ফেরতের পর সংশ্লিষ্ট ব্লককে রিকভারি মডিউলে সুবিধাভোগীর আইডির বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ নথিভুক্ত করতে হবে এবং টি.আর. ফর্ম-৭-এর কপি আপলোড করতে হবে।

Advertisement

জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই পুনরায় যাচাই ও অর্থ উদ্ধারের কাজ সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলায় যথাযথ ও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে বলে একটি প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে। উল্লেখ্য, আগের সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে বারবার। একাধিকবার কেন্দ্রীয় টিম রাজ্যে আসে তদন্ত করে আবাসের। এই প্রকল্পে আর টাকা বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। তারপর আগের তৃণমূল সরকার বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালু করে। তাতেই বাড়ি পান উপভোক্তারা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.