প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে উৎসবে মাতবে ওরাও, পুজোয় চমক নলিন সরকার স্ট্রিটের

স্বপ্নের আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলে হুইল চেয়ার।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯, ১৫:২৭

options
link
প্রতিবন্ধকতাকে দূরে ঠেলে উৎসবে মাতবে ওরাও, পুজোয় চমক নলিন সরকার স্ট্রিটের

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীনের পুজো প্রস্তুতি৷

Advertisement

শুভময় মণ্ডল: পুজো মানেই দেদার হুল্লোড়। প্রচুর মজা, অঢেল খানাপিনা, ঠাকুর দেখা। আট থেকে আশির আনন্দোৎসবে শামিল হওয়া। উৎসব তো তার নিজের রং আর ঢঙে চলতে থাকে। মণ্ডপে মণ্ডপে আলোর রোশনাই, প্রতিমার জাঁকজমক, শব্দের তাণ্ডব। কিন্তু এমন উৎসবেও ব্রাত্য থাকে বিশেষ কিছু মানুষ। বিশেষ, কারণ তারা আর পাঁচজনের মতো নয়। তারা প্রতিবন্ধী, অসহায়। তাদের পুজোর কটাদিন কাটে চার দেওয়ালের মধ্যেই। আমরা যারা আশ্বিনের শারদ প্রাতে মায়ের আরাধনায় ব্রতী হই, ভাবি হয়তো মা আমাদের সঙ্গেই রয়েছে। কিন্তু মা আসলে কোথায়? মায়ের মনকে কতটা জানতে পেরেছি আমরা? সমস্ত জাঁকজমক আর হুল্লোড়ে চাপা পড়ে গিয়েছে যাদের কান্না, মায়ের মন পড়ে আছে তাদের কাছেই। এবার সেই বিশেষ মানুষের কাছেই পুজোয় আসবেন দেবী। কারণ, মাকে যে চিঠি লিখেছে ওরা। এবার যেন পুজোর চারদিন তাদের হোমেই আসেন দেবী। অপটু হাতে কৈলাসের ঠিকানায় সেই চিঠি লিখে পোস্টবাক্সে ফেলেছে তারা। শুরু হয় স্বপ্ন দেখা। হুইলচেয়ারে লাগে টান। চাকা গড়িয়ে আসে জানলার কাছে। শান্তির রং চোখে পড়ে। আনন্দ অনুভূত হয় হৃদয়ের প্রতিটি কণায়। হয়তো হয়েছে একটা মাত্র নতুন জামা, তাতে কী! অপেক্ষা তো এবার মায়ের ঘরে আসার। হোমের চার দেওয়ালে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর ফের রঙিন ডানা মেলে ওড়ার। এবার পুজোয় সেই বিশেষ মানুষগুলোর কথা ভেবেই থিম করেছে উত্তরের জনপ্রিয় পুজো নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীন। থিমমেকার রিন্টু দাসের ভাবনায় ৮৫তম বর্ষে তাদের নিবেদন- ‘মা তুমি কার!’

Advertisement

20170904_200310

Advertisement

স্বপ্নের আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলে হুইল চেয়ার। উৎসবে মাতোয়ারা মন আর মানতে চায় না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। দৃষ্টিহীন, শ্রবণশক্তিহীনতা, চলনশক্তিহীন। তবুও মনের জোর রয়েছে। আর সবার মতো সমান অধিকারে বাঁচার অঙ্গীকার রয়েছে। তারাও দুর্গা মায়ের সন্তান। তাই তাদের পুজোর আনন্দ গোটা মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী রিন্টু দাস। স্যাঁতসেতে কাঠের দরজা, তাতে নানান আঁকিবুকি। সেই দরজা ঠেলে হোমে প্রবেশ। সেখানেই দেওয়াল জুড়ে অজস্র চিঠি। তাতে সেই বিশেষ শিশু-কিশোররা নিজের মতো করে মাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। অপটু হাতে লেখা সেই চিঠি কৈলাসের ঠিকানায় পাঠাচ্ছে ওরা। মণ্ডপে থাকছে প্রচুর পোস্টবাক্স। ওদের বিশ্বাস ডাকহরকরা সেই চিঠি ঠিক পৌঁছে দেবে মায়ের কাছে। সেই বিশ্বাস থেকেই তাদের ঘরে আসবেন দেবী। মায়ের স্নেহের পরশ দিয়ে নতুনভাবে বাঁচার ইচ্ছাশক্তি জোগাবেন তিনি। গোটা মণ্ডপেই হুইল চেয়ার, ক্র্যাচ থাকছে। এছাড়াও রঙিন লেটারবক্স, পোস্টবক্স তো থাকছেই। আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ থাকছে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য। তাদের সুবিধার জন্য মণ্ডপের প্রবেশদ্বারে ব়্যাম্পের ব্যবস্থা থাকছে।

20170904_200525

থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী পরিমল পাল। এবার প্রতিমার বিশেষত্ব হল, লক্ষ্মী, গণেশ তো থাকছেই। তবে মায়ের কোলে এক প্রতিবন্ধী শিশুর মূর্তিকে রাখা হচ্ছে। থিমের কথা ভেবেই এমন ভাবনা। আবহ সংগীতের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী দেবজিৎ গাইন। গতবছর থিমশিল্পী রূপক বসুর সৃজনে পুতুল ও প্রতিমায় সেজে উঠেছিল নলিন সরকার স্ট্রিট সার্বজনীনের পুজোমণ্ডপ। এ বছর sangbadpratidin.in -এ অরবিন্দ সরণির এই পুজোর যাবতীয় হালহকিকত জানতে পারবেন। ছবি, ভিডিওর জন্য চোখ রাখতেই হবে এখানে।

20170904_200620

20170904_200556

20170904_201138

কেমন চলছে পুজোর প্রস্তুতি, দেখুন ভিডিওয়-

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.