মুক্ত ভাবনাচিন্তা ও প্রশ্ন তোলার স্বাধীনতার নামে ‘দেশদ্রোহী’ কার্যকলাপের আঁতুড়ঘর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমন অভিযোগে বরাবর সরব গেরুয়াপন্থী ছাত্র সংগঠন। সম্প্রতি তা আরও উসকে উঠেছে যাদবপুরের ছাত্র সংঘর্ষের পর। এবিভিপি বনাম এসএফআই, জুটা, ফেটসুর মধ্যে তুমুল হাতাহাতি, বাকবিতণ্ডার পর মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘‘যাদবপুরের ভিতরে ও বাইরে রাষ্ট্রবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। সবাইকে বন্দে মাতরম গাইতে হবে।” সেইমতো শুক্রবার যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ডাক দেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের পর মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে বাম-অতি বামদের নিশানা করে কড়া বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘‘ফ্রি প্যালেস্টাইন কেন, লিখুন ফ্রি পিওকে, লিখুন পাক অধিকৃত কাশ্মীর চাই।”
আরও পড়ুন:
শুক্রবার যাদবপুরের গেরুয়া-বিরোধী পড়ুয়াদের ‘সবক’ শিখিয়ে সহস্র কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সোজাসুজি বাম, অতি বাম মনস্ক পড়ুয়াদের প্রতি বার্তা দিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন? ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখছেন? কেন? প্যালেস্টাইনের কথা বলার আগে লিখুন না – ফ্রি পিওকে। যখন পহেলগাঁওতে হিন্দুদের ধরে ধরে খুন করা হয়েছিল জঙ্গিরা, আমাদের সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুরে’ তাদের খতম করেছিল, তখন তো আপনারা কিছু বলেননি। জেনে রাখুন, আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করবই।”
আগেই সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে যেসব ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ স্লোগান লেখা, তা অবিলম্বে মুছতে হবে। এবিভিপির অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, মাওবাদী নেতা কিষেণজির সমর্থনে লেখা স্লোগান, ‘আজাদি’ স্লোগান আর চলবে না। এতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে দেশদ্রোহিতার বীজ বপন হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। আর শুক্রবার যাদবপুরের গেরুয়া-বিরোধী পড়ুয়াদের ‘সবক’ শিখিয়ে সহস্র কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সোজাসুজি বাম, অতি বাম মনস্ক পড়ুয়াদের প্রতি বার্তা দিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন? ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখছেন? কেন? প্যালেস্টাইনের কথা বলার আগে লিখুন না – ফ্রি পিওকে। যখন পহেলগাঁওতে হিন্দুদের ধরে ধরে খুন করা হয়েছিল জঙ্গিরা, আমাদের সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুরে’ তাদের খতম করেছিল, তখন তো আপনারা কিছু বলেননি। জেনে রাখুন, আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করবই।”

দিন কয়েক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংঘর্ষের আবহে জুটার ডাকা প্রতিবাদ মিছিলেও শোনা গিয়েছিল ‘আজাদি’ স্লোগান। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি প্রশ্ন, ‘‘আপনারা কীসের আজাদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার আজাদি? ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছেন ক্ষুদিরাম বসু, নেতাজিরা। আবার কীসের আজাদি? জানি তো কে কোথায় কী করছে। ড্রোন ওড়াব। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি। নন্দীগ্রাম থেকে বামেদের সাফাই করেছি, জঙ্গলমহল থেকে কিষেনজিকে সাফাই করেছি। মহরমে অস্ত্র নিয়ে বেরনো বন্ধ করেছি। হয় এরা থাকবে, নাহয় আমরা থাকব।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চাপের মুখে ভারতের সাহায্য নিতে রাজি নেপাল, আটকে পড়া ভারতীয়দের হাল-হকিকত জানাল দিল্লি
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য