অর্ণব আইচ: লোকটিকে প্রথম দেখেছিল সাত বছরের এক বালক। তার কথা শুনেই সিসিটিভির মনিটরের উপর নজর রেখেছিলেন বাঁশদ্রোণী থানার আধিকারিকরা। আবছা ফুটেজে লোকটিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে দেখা গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হল দক্ষিণ কলকাতা ও শহরতলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুরজিৎ অধিকারী ওরফে ল্যাংড়া গৌতম। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ল্যাংড়া গৌতমের স্ত্রী আদালতের মুহুরি। স্বামী গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে আদালত থেকে বারবার জামিন পেয়ে যায় সে। কয়েকদিন আগে জেল থেকে বের হওয়ার পর এবার বাঁশদ্রোণীর একটি ফ্ল্যাটে চুরি করতে ঢুকেছিল সে।
[পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শহরের রাজপথে তৃণমূল]
বাঁশদ্রোণী থানার ওসি অমিতশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে পুলিশের তিনটি টিম তিনদিকে তল্লাশি চালায়। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর প্রথম পক্ষের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা এলাকার আক্রা সন্তোষপুর থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে গৌতমকে।পুলিশ জানিয়েছে, গত ২১ মে কামডহরি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা নিয়াজ হোসেন বাঁশদ্রোণী থানায় অভিযোগ জানান, পরিবারের লোকেদের নিয়ে তিনি সিউড়ি গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, কোলাপসিবল গেটের তালা ও দরজার লক ভেঙে চুরি হয়েছে তাঁর ফ্ল্যাটে। দুষ্কৃতী আলমারি থেকে লুট করেছে প্রায় তিন লাখ টাকার গয়না। পুলিশ তদন্ত শুরু করে বাড়ির বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক সাত বছরের বালক জানায়, সন্ধ্যায় খেলার পর বাড়ি ফেরার সময় সে তিনতলা থেকে এক ‘আঙ্কল’কে নামতে দেখেছে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ আবাসনের সিসিটিভির ফুটেজের উপর নজর রাখে। দেখা যায়, এক ব্যক্তি অল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে গেট দিয়ে বের হচ্ছে। তার চলন দেখেই পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, সে কুখ্যাত দুষ্কৃতী ল্যাংড়া গৌতম। গত মার্চেই সে ধরা পড়েছিল যাদবপুর থানার হাতে। আদালতে লক আপের ভিতর ব্লেড জোগাড় করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল সে। যাদবপুরের পর বাঁশদ্রোণী ও অন্য একটি মামলায় মহেশতলা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তার তৃতীয় স্ত্রী আদালতের মুহুরি। স্ত্রীর সাহায্য নিয়ে অপরাধ করেও বারবার জামিন পেয়ে যায় সে। সেই তৃতীয় স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামী হচ্ছে গৌতম। পুলিশের তিনটি টিম বারুইপুরের খিরিশতলা, সুভাষগ্রামের কলাবাগান ও গড়িয়ার বোয়ালিয়ায় তল্লাশি চালিয়েও তার সন্ধান পায়নি।
[ব্ল্যাকমেল করে ভুল কাগজে সই করানো হচ্ছে, পালটা দাবি মেয়রের]
গৌতমের ৯ জন আত্মীয় ও আত্মীয়াকে জেরা করে তার স্ত্রীর মোবাইলের নম্বর পায় পুলিশ। ওই মোবাইলের সূত্র ধরেই জানা যায়, স্ত্রীকে দু’বার ফোন করেছে গৌতম। সেইমতো পুলিশ জানতে পারে, স্ত্রীর প্রথম স্বামীর মায়ের কাছে লুকিয়ে রয়েছে সে। শুক্রবার সকালে ওই বাড়িটিতে তল্লাশি চালালে ধরা পড়ে সে। তার কাছ থেকে পুরো গয়না উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
কলকাতা, হাওড়ার পর এবার দুর্গাপুর, এক ধাক্কায় বাড়ল ১০টি ওয়ার্ড! কী বলছেন বিধায়ক?
-
বাড়িই যেন মৃত্যুপুরী! মিলল পরিবারের ২৩ সদস্যের দেহ, বিধ্বস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছুঁইছুঁই
-
নতুন করে বর্ষার মরশুম! সেপ্টেম্বরেও বৃষ্টিতে ভাসবে দেশের একাংশ, পূর্বাভাস মৌসম ভবনের
-
দিল্লির বাসে কিশোরীকে গণধর্ষণ! ক্ষোভ উগরে ভূমির প্রশ্ন, ‘কীভাবে বারবার এমন ঘটনা …!’
-
গিয়েছিলেন হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, জাপানে রহস্যমৃত্যু খড়গপুর আইআইটি পড়ুয়ার