স্টাফ রিপোর্টার: নারী পাচার চক্র ও দেহব্যবসায় জড়িত সন্দেহে বাগুইআটি এলাকার এক পানশালার মালিককে গ্রেফতার করল পুলিশ৷ তার বিরুদ্ধে অন্য রাজ্য থেকে মেয়ে পাচার করে এনে কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে দেহ ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে৷ গত ২০ আগস্ট কেষ্টপুরের এক গেস্ট হাউস থেকে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগে ৩ জন মহিলাকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ৷ তাঁদের জেরা করার সময় আজমল সিদ্দিকির নাম উঠে আসে৷ জানা যায় পানশালার মালিক সিদ্দিকি চাকরি দেওয়ার নাম করে এই মহিলাদের নিয়ে এসে দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছে৷ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হলে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷
এয়ারপোর্টের কাছে ‘বে ওয়াচ’ নামের এক পানশালার অন্যতম মালিক আজমল সিদ্দিকি৷ জানা গিয়েছে, ভিআইপি রোডের উপরে আরও অনেকগুলি পানশালায় তার অংশীদারিত্ব আছে৷ এই সবকটি জায়গায় পানশালার ব্যবসার আড়ালে দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগ আগেও উঠেছে সিদ্দিকির বিরুদ্ধে৷ ২০১৫ সালে বিধাননগর কমিশনারেটের তৎকালীন এসিপির নেতৃত্বে এক বিশেষ দল ‘বে ওয়াচ’ পানশালাতে অভিযান চালায়৷ সেই সময়ও ওই পানশালায় অর্ধনগ্ন নাচ চলছিল৷ তাছাড়া ওই পানশালার উপরে কয়েকটি ঘর রয়েছে বলে জানা যায়৷ ওই ঘরেই দেহব্যবসা হয় বলে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ৷ সেবারও গ্রেফতার করা হয় আজমলকে৷ পরে সে জামিন পেয়ে যায়৷ দেহব্যবসাই শুধু নয়, আজমল তোলাবাজি ও মাদক পাচারের সঙ্গেও যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে খবর৷
বুধবার রাতে সল্টলেকের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় আজমল সিদ্দিকিকে৷ পুলিশ সূত্রে খবর, পাঞ্জাব থেকে এই তিনজন মেয়েকে এনেছিল সে৷ চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিয়ে এসে জোর করে তাদের দেহব্যবসায় নামতে বাধ্য করেছিল সিদ্দিকি৷ গত মাসের ২৮ তারিখে কেষ্টপুর রবীন্দ্রপল্লির এক গেস্ট হাউসে দেহব্যবসা চলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান সাধারণ মানুষ৷ গেস্ট হাউস থেকে ৩ জন মহিলা ও একজন পুরুষকে হাতেনাতে ধরা হয়৷ পুলিশ আসা পর্যন্ত তাদের আটকে রাখেন এলাকার মানুষ৷ পরে তাদের উদ্ধার করে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ৷ এই মহিলাদের জেরা করে উঠে আসে আজমল সিদ্দিকির নাম৷ পুলিশের এক সূত্র অনুযায়ী, পাঞ্জাব থেকে এই মহিলাদের আনার মূল কারিগর আজমল সিদ্দিকি৷ পুলিশের সন্দেহ আন্তর্জাতিক নারী পাচারের সঙ্গে যোগ আছে সিদ্দিকির৷ শুধু তাই নয়, হাওড়া অঞ্চলে লোহার ছাঁটের ব্যবসা-সহ হাওয়ালা ব্যবসার সঙ্গেও তার নাম জড়িয়ে আছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ৷ এর আগেও একবার দেহব্যবসা চালানোর অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল তার মালিকানাধীন একটি পানশালা৷ তবে উঁচু মহলে যোগাযোগের সৌজন্যে বারবার ছাড় পেয়ে গেছে সিদ্দিকি৷ তবে এবার সরাসরি মহিলাদের মুখ থেকে অভিযোগ উঠে আসায় তাকে গ্রেফতার করা সহজ হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ৷
সর্বশেষ খবর
-
হিরো মচ্ছরকে কুর্নিশ, ‘বাংলা থেকেও তৈরি হবে রাষ্ট্রবাদী পাইলট’, বললেন শুভেন্দু
-
প্রেমিকার সঙ্গে মোমো ডেট! হাতেনাতে ধরতে সটান স্বামীর গাড়ির বনেটে স্ত্রী, তারপর যা হল…
-
ভারতের সঙ্গে ব্রাজিলের নির্বাচন গুলিয়ে ফেললেন ট্রাম্প! মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভীমরতি’তে হাসির রোল
-
‘১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসুন’, দল ভাঙার পরও ‘গদ্দার’দের জন্য দরজা খোলা মমতার!
-
টিম ইন্ডিয়ায় ব্রাত্য! এবার অন্য ভারতীয় দলে এন্ট্রি ভুবনেশ্বরের, এই টুর্নামেন্টে দেবেন নেতৃত্ব