Alipore Zilla Parishad

ছাই বন্যপ্রাণীর দেহাংশ! চোরাশিকারিদের ডেটাবেস ‘উধাও’ করতে আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে আগুন?

বন্যপ্রাণী হত্যার দায়ে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদেরও প্রথমে এখানে এনে রাখা হত। তারপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হত। উপযুক্ত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির থাকত আলিপুরের এই জেলা পরিষদের ভবনের তৃতীয় তলে। আর সেই সমস্ত সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই সাজা হত বন্যপ্রাণী হত্যাকারীদের বা জঙ্গল ধ্বংসকারী সমাজবিরোধীদের।

দেবব্রত মণ্ডল
দেবব্রত মণ্ডল

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২৬, ১৪:২৩

options
link
ছাই বন্যপ্রাণীর দেহাংশ! চোরাশিকারিদের ডেটাবেস ‘উধাও’ করতে আলিপুরের জেলা পরিষদ ভবনে আগুন?

আলমারিতে সাজিয়ে রাখা ছিল বাঘের চামড়া। লকারে ছিল হরিণের শিং। তার পাশেই আরেকটি লকারে ছিল হরিণের চামড়া থেকে কুমিরের দাঁত। সবই উদ্ধার হয়েছিল চোরাশিকারিদের কাছ থেকে। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গোপন তল্লাশি চালিয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে উদ্ধার করেছিলেন এই সমস্ত বন্যপ্রাণীর দেহাংশ। সেইমতো আসামিদের গ্রেপ্তার করে কেস সাজানো হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে। আলাদা করে এখানে ছিল একটি ল সেল। যেখানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন দ্বীপের বিভিন্ন জায়গার চোরাশিকারিদের ডেটাবেস রাখা হত।

Advertisement

তাছাড়া, বিভিন্ন সময়ে বন্যপ্রাণী হত্যার দায়ে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তাদেরও প্রথমে এখানে এনে রাখা হত। তারপর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হত। উপযুক্ত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ হাজির থাকত আলিপুরের এই জেলা পরিষদের (Alipore Zilla Parishad) ভবনের তৃতীয় তলে। আর সেই সমস্ত সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই সাজা হত বন্যপ্রাণী হত্যাকারীদের বা জঙ্গল ধ্বংসকারী সমাজবিরোধীদের। কিন্তু কয়েক মিনিটে আগুনের গ্রাসে চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে দুষ্প্রাপ্য এবং দুর্মূল্য সমস্ত নথি ও তথ্য প্রমাণ। আর, এতেই মাথায় হাত জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের।

Advertisement

বুধবার সকালে সাড়ে নটা নাগাদ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার আলিপুরের নবপ্রশাসন ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের করাল গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে জেলা পরিষদের একের পর এক অফিস। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই বিল্ডিংয়েই থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিস। এখান থেকেই জেলার সমস্ত রেঞ্জ অফিসগুলি নিয়ন্ত্রিত হত। শুধু তাই নয়, ১৯৭৩ সালে যখন আলাদাভাবে টাইগার প্রোজেক্টকে ঘোষণা করা হয়নি তার আগে থেকেই এই অফিসটি ছিল। ফলে শুধুমাত্র বনদপ্তর নয়, সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্পেরও অজস্র নথি এখানে সংরক্ষিত ছিল। বুধবারের ভয়াল আগুনে অবিভক্ত সুন্দরবনের সেই সমস্ত ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণ সমস্ত কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।

Advertisement

বনদপ্তরের এক অফিসারের কথায়, “ছটি বাঘের চামড়া। চারটি হরিণের চামড়া এবং বেশ কয়েকটি হরিণের শিংয়ের অংশ এখানে ছিল। ছিল কয়েকটি কুমির ও শূকরের দাঁতের অংশ। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোথায় কত জমি আছে তার সমস্ত ঐতিহাসিক ম্যাপ যা ব্রিটিশ আমল থেকেই সংরক্ষিত করা ছিল তা সব শেষ হয়ে গেছে আগুনে পুড়ে। এর সঙ্গে আগুনে পুড়ে গিয়েছে কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র।” চিন্তিত বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ। তিনি বলেন, “পুরো বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকদের দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পরিসংখ্যান বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এই ক্ষতি একেবারেই ঐতিহাসিক।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.