নিবেদিতা-টেরেজার কর্মভূমিতে এই ঘটনা লজ্জার, মন্তব্য বিচারকের

রানাঘাটের ঘটনা বেপরোয়া মানসিকতার ফল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯, ১৮:০৭

options
link
নিবেদিতা-টেরেজার কর্মভূমিতে এই ঘটনা লজ্জার, মন্তব্য বিচারকের

রাহুল চক্রবর্তী: সেবার মধ্যে দিয়ে বাংলার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সিস্টার নিবেদিতা, মাদার টেরেজারা। তাঁদের কর্মভূমে মানুষের জন্য কাজ করতে এসে ধর্ষণের শিকার হলেন এক সন্ন্যাসিনী। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক। রানাঘাট মামলার রায় শোনাতে নগর দায়রা আদালতের বিচারক কুমকুম সিংহ এভাবেই বুঝিয়ে দেন এই ঘটনার গুরুত্ব আলাদা।

Advertisement

[রানাঘাট সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ৬ অভিযুক্ত]

Advertisement

RANAGHAT-CASE.jpg-3

Advertisement

বিচারক মনে করেন এটি বেপরোয়া মানসিকতা। এদিন বেনজিরভাবে ইংরেজি নয়, বাংলাতে রায় ঘোষণা করেন কুমকুম সিংহ। অভিযুক্তরা যেহেতু ইংরেজি বোঝে না তাই জন্য তিনি রায় বাংলায় পড়ে শোনান। এই নিয়ে তিনি আদালতকক্ষে বলেন, এ বাংলায় সিস্টার নিবেদিতা, মাদার টেরেজারা কাজ করেছেন। রানাঘাটের কনভেন্ট স্কুলের সন্ন্যাসিনীরা গরিব, অসহায়দের সেবা করেন। সেখানে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। এমন একটা জায়গায় ৭২ বছরের এক প্রবীণতম সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দুঃখের। তবে এদিন গণধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে দেন বিচারক। তাঁর বক্তব্য, ৪৬ জন যাঁরা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তাঁদের বয়ানের ভিত্তিতে জানা যায় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। নজরুলই ধর্ষণ করেছিল। তবে প্রত্যেককেই দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। রানাঘাটের কনভেন্ট স্কুলের একদল প্রতিনিধি এদিন আদালতে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন বিচারক। এজলাসের মধ্যে রায়ের  বিষয়টি তাদেরকে ইংরেজিতে আলাদা করে পড়ে শোনানো হয়।

[নদীপথে রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা, জারি সতর্কবার্তা]

তবে দোষী ৬ জনের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী অনিন্দ্য রাউত। তিনি দোষীদের যাবজ্জীবনের আরজি জানিয়েছেন। আইনজীবী সূত্রে জানা গিয়েছে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে রানাঘাট কাণ্ডে বিচারকের এই পর্যবেক্ষণ এবং মন্তব্য বুঝিয়ে দেয় ঘটনার গুরুত্ব কত গভীরে। যারা দুঃস্থ, অভাবীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের উপর এমন বর্বরোচিত ঘটনা বাংলার পক্ষে লজ্জার। এই ঘটনার কিছুদিন পর নির্যাতিতা সন্ন্যাসিনীকে নিয়ে যান ভ্যাটিক্যানের প্রতিনিধিরা। তিনি এখন কোথায় আছেন তা জানে না রানাঘাট। বিপুল লাঞ্ছনা নিয়ে অন্তরালে থাকা সন্ন্যাসিনী কি দোষীদের মাফ করে দিলেন? তা অবশ্য না জানা গেলেও তাঁর সহকর্মী এবং এলাকার বাসিন্দারা মনে করেন দোষীদের কঠোর শাস্তি পাওয়া উচিত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.