বিরল মাকড়সার সংসার বারুইপুরের বাগানে, লেন্সবন্দি করলেন ইঞ্জিনিয়ার

কল্পনার লুকাস-এর দেখা মিলল ভারতে, ধরা পড়ল এই বঙ্গসন্তানের কৃতিত্বে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১৮, ২০১৮, ০৮:৫৯

options
link
বিরল মাকড়সার সংসার বারুইপুরের বাগানে, লেন্সবন্দি করলেন ইঞ্জিনিয়ার

গৌতম ব্রহ্ম: ঘুর্ণায়মান দু’জোড়া চোখ। লোমশ শরীর। চোখের নিমেষে লাফ দিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া।অবিকল জসুয়া স্লাইসের ‘লুকাস দ্য স্পাইডার’। এবার সেই ভুবনজয়ী অ্যানিমেটেড মাকড়সা লুকাসের দেখা মিলল ভারতে। বারুইপুরের একটি ফলের বাগানে গুছিয়ে সংসার করছে একদল ‘লুকাস’। এই বিরল প্রজাতির মাকড়সাটিকে আবিষ্কার করে হইচই ফেলে দিয়েছেন এক বঙ্গসন্তান।
ইন্দ্রনীল বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থায় কর্মরত এই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার গত এক বছর ধরে গবেষণা চালিয়ে এই মাকড়সাকে খুঁজে বের করেছেন। তৈরি করেছেন ইতিহাস। অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে গিয়েছেন কসবার এই যুবক। আবিষ্কার হওয়া প্রজাতির নাম নিওব্রেটাস ওয়ানলেস। জাম্পিং স্পাইডার গোত্রের এই খুদে মাকড়সার সঙ্গে কেউ আবার স্পাইডারম্যানের স্রষ্টা ‘রেডিওঅ্যাকটিভ স্পাইডার’-এর  গঠনগত মিল রয়েছে। তাই, মাকড়সার দুনিয়ায় এই নিওব্রেটাসের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। এই মহার্ঘ মাকড়সা যে বারুইপুরে গুছিয়ে সংসার করছে কে জানত!

Advertisement

[  পঞ্চায়েতে জয় রাজনৈতিক শহিদদের উৎসর্গ মুখ্যমন্ত্রীর, কেন্দ্র ও বিরোধীদের তোপ ]

Advertisement

মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামে এর আগে এই মাকড়সার দেখা মিলেছে। কিন্তু ভারতে এই প্রথম লেন্সবন্দি হল নিওব্রেটাস। ইন্দ্রনীলের এই আবিষ্কারকে মান্যতা দিয়েছে ‘পেখামিয়া’ ম্যাগাজিন। সাফল্যের সঙ্গী হয়েছেন একদল তরুণ গবেষক। জাভেদ আহমেদ, কৃষ্ণ মোহন, রাজশ্রী খালাপ, ডেভিড হিল। ইন্দ্রনীলের আবিষ্কারকে পেপারবন্দি করেছেন এঁরা। অবশেষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে। পতঙ্গবিদ থেকে মাকড়সা নিয়ে কাজ করা ‘আর্চোলজিস্ট’ সবাই উচ্ছ্বসিত। পনেরো মাস এই মাকড়সার পিছনে পড়েছিলেন ইন্দ্রনীল। অবশেষে লেন্সবন্দি করেছেন এর জীবনচক্র। ইন্দ্রনীল জানালেন, “ফেসবুকে মাকড়সাটির একটি ছবি দিয়েছিলাম। তারপরই আমার ইনবক্স মেসেজে উপচে পড়ে। বুঝতে পারি, অজান্তেই একটি আবিষ্কার করে ফেলেছি।”

Advertisement

[  ফার্স্ট বয় তৃণমূলই, তবে দ্বিতীয় স্থানে নজরকাড়া উত্থান বিজেপির ]

গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বারুইপুরের সেই ফলের বাগানে মাকড়সাটির দেখা পান ইন্দ্রনীল। একটি কলাপাতার নিচের অংশে সংসার করছিল নিওব্রেটা পরিবার। ইন্দ্রনীল জানালেন, সপ্তাহান্তে চলে যেতাম ওই বাগানে। গড়ে সাত থেকে ১০ ঘণ্টা টানা বসে থাকতাম। হাতে ক্যামেরা, আর পোকা ধরার টুকটাক সরঞ্জাম। এই পনেরো মাস মাকড়সার বিচিত্র সব কাণ্ড-কারখানা দেখেছেন। জানালেন, “এই মাকড়সা আকারে খুবই ছোট, প্রায় ২.৫ মিমি। নিজের ডিমের উপর লাট্টুর মতো পাক খায়। কখনও ক্লকওয়াইজ, কখনও আবার অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ। ডিমে তা দেওয়ার সময় মা মাকড়সা কোথাও যায় না। শত্রু আক্রমণ করতে এলে প্রাণ দেয়। কিন্তু পালায় না। এমন সন্তানবৎসল মা কিন্তু নিজের ডিম নিজে খেয়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটায়। কখনও আবার অন্য মাকড়সার ডিম চুরি করে নিওব্রেটাস।

ঝড়-জল-বৃষ্টি কিছুই দমাতে পারেনি বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের এই প্রাক্তনীকে।  জানালেন, ৪ বছর ধরে মাকড়সার পিছনে ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। প্রায় ২১০০ ঘণ্টা ‘ফিল্ড ওয়ার্ক’ করেছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় দেড়শো প্রজাতির মাকড়সা লেন্সবিন্দ করেছেন তিনি। কিন্তু এমন আবিষ্কারের আনন্দ পেলেন এই প্রথম।

[  গোড়া থেকেই ছিল চর্চায়, ফলাফলে কতটা দাপট নির্দলদের? ]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.