অর্ণব আইচ: ফের রবিনসন স্ট্রিটের কঙ্কাল কাণ্ডের ছায়া কলকাতায়। এবার বৃদ্ধের পচাগলা প্রায় কঙ্কাল হয়ে যাওয়া দেহ আগলে বসে রইলেন স্ত্রী ও মেয়ে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর কলকাতার বাগবাজারে নিয়োগী ঘাট স্ট্রিটে।
পুলিশের ধারণা, প্রায় দু’মাস আগে মৃত্যু হয়েছে দিগ্বিজয় ঘোষ (৭৮) নামে ওই বৃদ্ধের। তিনতলা বাড়ির উপরের তলার বাসিন্দা ছিলেন দিগ্বিজয়বাবু। যিনি প্রাক্তন নাট্যকর্মী। বাড়ির দরজা, জানালা ভিতর থেকে বন্ধই ছিল। কাউকে ঢুকতে দেওয়া হত না। ফলে প্রতিবেশীরাও কোনও খোঁজখবর পেতেন না। তবে উলটোদিকের বাসিন্দাদের নাকে মঙ্গলবার পচা গন্ধ ভেসে আসে। সন্দেহ হওয়ায় তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন।
[আরও পড়ুন: ময়দানে প্রাতঃভ্রমণকারীর উপর হামলা, ছুরির কোপ মেরে ছিনতাই]
রাতে পুলিশ গিয়ে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। এরপর একপ্রকার জোর করেই বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে পুলিশ। দেখে, বিছানায় পড়ে রয়েছে বৃদ্ধের পচাগলা কঙ্কাল। আর তা আগলে রয়েছেন মেয়ে ও বৃদ্ধা স্ত্রী। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া মেয়ে মায়ের সঙ্গেই সে বাড়িতে থাকছিলেন বলে জানতে পারে পুলিশ। অদ্ভুতভাবে ওই ঘরে পচাগলা দেহ রেখেই তাঁরা খাওয়া-দাওয়াও করেছেন দীর্ঘদিন। প্রায় জোর করেই বৃদ্ধের দেহ বের করে এনে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। কীভাবে সেই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে পরিষ্কার হবে। মানসিক কোনও রোগের বশেই মেয়ে ও স্ত্রী এভাবে দিনের পর দিন মৃতদেহ আগলে রেখেছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কলকাতার (Kolkata) রবিনসন স্ট্রিটে প্রায় ছ’মাস ধরে দিদির মৃতদেহ আগলে বসেছিলেন পার্থ দে। যে ঘটনায় শিউরে উঠেছিল গোটা কলকাতা। মঙ্গলবারের বাগবাজারের ঘটনায় সেই স্মৃতিই ফের উসকে গেল।
[আরও পড়ুন: রাজ্যের ৫টি বিধানসভার উপনির্বাচন দ্রুত করানোর দাবি, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে TMC]
সর্বশেষ খবর
-
রোগীর পরিজনদের ‘সাহায্য’ করার নামে প্রতারণা! এসএসকেএম থেকে পুলিশের জালে মহিলা দালাল
-
সীমান্তে সন্ত্রাসবাদীদের ডেরা, চলছে জাল আইডি তৈরি চক্র! শমীকের হুঙ্কার, ‘যে কোনও মূল্যে বন্ধ করবই’
-
মহিলা যাত্রী তুলতে অনীহা-হেনস্তা! অভিযোগ শুনতে চালু হেল্পলাইন, আর কী নির্দেশ অর্জুনের?
-
যেন মেয়েদের শচীন! এক ইনিংসেই জোড়া সর্বকালীন রেকর্ড স্মৃতির, এশিয়া কাপের সেমিতে ভারত
-
‘নো এন্ট্রি’ অথচ শহরে ঢুকছে বেআইনি ট্রাক! পুলিশের জালে সিন্ডিকেটের পান্ডা, নেপথ্যে কারা?