সুসন্তান লাভের গোপন রহস্য বাতলে দিচ্ছে আরএসএসের শাখা সংগঠন

কীভাবে গর্ভের সন্তান জ্ঞানী, ফর্সা ও লম্বা হবে জানেন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ৭, ২০১৭, ০৯:২৬

options
link
সুসন্তান লাভের গোপন রহস্য বাতলে দিচ্ছে আরএসএসের শাখা সংগঠন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সুসন্তানের স্বপ্ন কে না দেখেন? গর্ভধারণের সময়ই সন্তান ‘সু’ হবে কিনা, তা তো বলা সম্ভব হয় না। কিন্তু যদি কেউ সেই পথ বাতলে দেয়, তবে? হ্যাঁ, কলকাতায় এমনই অভিনব এক কর্মশালার আয়োজন করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের এক শাখা সংগঠন।

Advertisement

গর্ভ বিজ্ঞান সংস্কার নামের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে সংঘের স্বাস্থ্য সেল আরোগ্য ভারতী। জামনগরের গুজরাট আয়ুর্বেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার ডক্টর করিশ্মা নারভিন গর্ভ সংস্কার নিয়ে ওয়ার্কশপে মন্তব্য পেশ করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক চিকিৎসক ডক্টর হিতেশ জানি জানান, গর্ভ সংস্কারের মাধ্যমে জ্ঞানী, ফর্সা ও লম্বা শিশুর জন্ম দিতে পারেন অন্তসত্ত্বা। গর্ভধারণের পর তিন মাসের শুদ্ধিকরণ এবং আচার-নিয়ম মেনে ঈশ্বরের পুজো করলে সুসন্তান লাভ সম্ভব। অন্তসত্ত্বা কী খেলে, কেমন ধরণের গান শুনলে গর্ভের সন্তানের আইকিউ বৃদ্ধি পাবে, তা আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে দম্পতিদের। তবে এসব ছাড়া যে শ্লোক পড়া বা প্রার্থনার কতটা গুরুত্ব রয়েছে, তাও বোঝানো হচ্ছে। দম্পতিদের সুসন্তান লাভের এ সব গোপন রহস্য বলার জন্য তাঁদের কাছ থেকে মাথা পিছু ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়।

Advertisement

arogya-bharati_650x400_61494073640

Advertisement

[বক্স অফিসে ইতিহাস, ১০ দিনে ১০০০ কোটির ক্লাবে ‘বাহুবলী ২’]

গোটা ঘটনায় এ রাজ্যের চিকিৎসকরা বিস্মিত হয়েছেন। এমন কর্মশালাকে অবৈজ্ঞানিক এবং কুসংস্কারোচ্ছন্ন দাবি করে শুক্রবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বাংলার শিশু সুরক্ষা কমিশন। কিন্তু কর্মশালাটি বন্ধ বা বাতিল করে দেওয়ার মতো উপযুক্ত কারণ আদালতের কাছে পেশ করা যায়নি বলে এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি হাই কোর্ট। তবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা এসে পরামর্শ দিতে পারবেন। কিন্তু তার জন্য দম্পতিদের কাছ থেকে কোনও অর্থ চাওয়া যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ওয়ার্কশপ হয়েছে। অনেকেই সুসন্তান জন্মের আশা নিয়ে ভিড় জমান দু’দিনের এই ওয়ার্কশপে। আরোগ্য ভারতীর আইনজীবী প্রণব ঘোষ আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন তাঁরা।

[চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবে ভারত, সম্মতি দিল BCCI]

‘উত্তম সন্ততি’র এই প্রকল্প প্রথম শুরু হয়েছিল গুজরাটে। যা ২০১৫ সালে জাতীয় স্তরে পৌঁছে যায়। এখনও পর্যন্ত ৪৫০ টি সুসন্তান জন্মে সফল হয়েছে ওই সংগঠন। আগামী ৫ বছরে প্রতিটি রাজ্যে এই সংস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, জার্মানির আয়ুর্বেদিক উপাদান ব্যবহারের থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েই এ দেশে এ কাজ শুরু করেছে তারা। কলকাতার আগে রোহতক, গুরগাঁও এবং হরিয়ানাতেও এমন কর্মশালার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.