যান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বোধের মিলন এবার সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোয়

শিল্পী শিবশঙ্কর দাসের ভাবনায় সেজে উঠছে মণ্ডপ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯, ১৬:৩১

options
link
যান্ত্রিক বিচ্ছিন্নতা থেকে বোধের মিলন এবার সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজোয়

পুজো প্রায় এসেই গেল৷ পাড়ায় পাড়ায় পুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে৷ সেরা পুজোর লড়াইয়ে এ বলে আমায় দেখ তো ও বলে আমায়৷ এমনই কিছু বাছাই করা সেরা পুজোর প্রস্তুতির সুলুকসন্ধান নিয়ে হাজির Sangbadpratidin.in৷ আজ পড়ুন সন্তোষপুর লেক পল্লির পুজো প্রস্তুতি৷

Advertisement

সরোজ দরবার: বিচ্ছিন্নতা মানুষকে বরাবর ভাবিয়েছে। কখনও সে তার মনের মানুষ থকে বিচ্ছিন্ন। তাই লালন সাঁই গেয়ে উঠেছেন, মিলন হবে কতদিনে! কখনও আবার উদ্দিষ্ট থেকে বহু দূরে মানুষের পদচারণা। ফলত সেই বিচ্ছিন্নতা। এই অ্যালিয়েনেশনকে সঙ্গী করেই এগোয় সভ্যতা। এবং সময়ের নিরিখে তার রূপ বদলায়। বর্তমান সময়ে এই বিচ্ছিন্নতা যেন তুমুল যান্ত্রিকতা আর মানবিক বৃত্তির দূরত্বে প্রতিভাত। এই ভাবনা থেকে এবার সন্তোষপুর লেক পল্লির মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছেন শিল্পী শিবশঙ্কর দাস।

Advertisement

20170913_21220320170913_212203

Advertisement

প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের হাতে এসেছে বহু যন্ত্র। তার উপকারিতা কম নয়। অনেক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে মানুষের জীবনযাপন সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই যন্ত্র একটা গোপন উদ্দেশ্যও সাধিত করেছে। যন্ত্রের প্রতি মানুষের নির্ভরতা যত বেড়েছে, মানুষকে সে তত যান্ত্রিক করে তুলেছে। যন্ত্রসভ্যতা মানব সভ্যতার আশীর্বাদ বটে। কিন্তু তার অভিশাপও বইতে হবে মানুষকেই। আর তাই যন্ত্র আছে, সুযোগ সুবিধের জীবন আছে, কিন্তু কোথাও যেন মানবিক কোমল বৃত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে মানুষ। হারিয়ে ফেলছে সহজ সম্পর্ককে। যে কোনও কিছুই আজ যন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। গড়া থেকে ভাঙা সব কিছুতেই যন্ত্র। এমনকী সম্পর্কও তার ব্যতিক্রম নয়। স্মার্টফোন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া আজ অহরহ সম্পর্ক গড়ে দিচ্ছে। আবার এমন অসহিষ্ণুতা উপহার দিচ্ছে যে তা ভেঙেও যাচ্ছে। সহজ সরল মানুষের নিজস্ব জীবন থেকে মানুষকেই এভাবে আলাদা করে দিয়েছে যন্ত্র। শিল্পীর চোখে বিচ্ছিন্নতার এটাই বর্তমান ও প্রাসঙ্গিক রূপ।

পুজোয় বিভাজনহীন মার্গের ভাবনায় সেজে উঠছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘ ]

20170913_212118

তবু তাঁর মতে, মানবিক বোধ আজও শেষ হয়ে যায়নি। মানুষ রোবট হয়ে গেলে আজও স্বপ্ন দেখত না, একটা ফুল দেখে বিহ্বল হয়ে পড়ত না। ফলে যান্ত্রিকতার কঠোর আস্তরণের নিচে কোথাও বেঁচে আছে এক সহজ সরল মানুষ। প্রযুক্তিতে হেলাফেলা করার উপায় নেই। আবার মানুষ তার ওই সত্তাটিকেও মেরে ফেলতে পায় না। এ আমির আবরণ উন্মোচন করে তাকে খুঁজে পেতেই হবে। তাই এই সময়ে দরকার এই দুইয়ের মিলন। সেই মিলন ভাবনাতেই সেজে উঠছে সন্তোষপুর লেক পল্লির মণ্ডপ। বহু লোহা লক্কড় মণ্ডপে। আদতে যেন একটা যান্ত্রিক খাঁচা। কিন্তু এর মধ্যেই শিল্পী তুলে রেখেছেন এক চলমানতা, এক মাটির সুর। যন্ত্র আর সেই প্রাণের সুরের মেলবন্ধনে দর্শকও হয়তো উপলব্ধি করবেন এই মিলন। হয়তো গেয়ে উঠবেন, মিলন হবে কতদিনে…। সাঁইয়ের গান এভাবেই হয়ে উঠবে প্রাসঙ্গিক ও সমসাময়িক, বিশ্বাস শিল্পীর।

৩০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরের প্রতিষ্ঠা এবার বড়িশা যুবক বৃন্দের পুজোয়  ]

ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী অরুণ পাল। আলোয় সাজিয়ে তুলবেন নারায়ণ কণ্ঠ। গতবছর সোনার দুর্গা করে দর্শনার্থীদের চমকে দিয়েছিলেন উদ্যোক্তারা। এবার এই ভাবনা কতটা মোহিত করে, তার অপেক্ষাতেই প্রহর গোনা।

দেখুন প্রস্তুতির ভিডিও:

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.