‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর কনসেপ্ট তখনও গহীনে। তার বহু আগে আটের দশকে দেশ মাতিয়েছিল একটা বিজ্ঞাপনী জিঙ্গল– ‘বুলন্দ ভারত কি বুলন্দ তসবির’। হিসাব বলছে তারও ৫০-৬০ বছর আগে স্বাবলম্বী, দক্ষ, মজবুত ভারতবর্ষ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)। সেই স্বপ্ন আর দরিদ্রনারায়ণ সেবার দৃঢ়চেতা বিশ্বাস থেকে ১৯২৪-এ তিনি শুরু করলেন দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম। একমাত্র উদ্দেশ্য পরিবার হারানো ছেলেদের এক জায়গায় রেখে শিক্ষায়, কর্মদক্ষতায় দৃঢ়চেতা মানসিকতার একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ যুবসমাজ, একটা ‘আর্মি’ গড়ে তোলা। যাদের কোনও কাজের অভাব হবে না, এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, যার প্রভাব তার পরবর্তী প্রজন্মের উপরও পড়বে। ১০২ বছর পেরিয়ে সেই প্রতিষ্ঠান এবার একযোগে মেতেছে একই দিনে নেতাজির জন্মজয়ন্তী পালন আর সরস্বতী পুজোর আয়োজনে।.
আরও পড়ুন:
‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর কনসেপ্ট তখনও গহীনে। তার বহু আগে আটের দশকে দেশ মাতিয়েছিল একটা বিজ্ঞাপনী জিঙ্গল– ‘বুলন্দ ভারত কি বুলন্দ তসবির’। হিসাব বলছে তারও ৫০-৬০ বছর আগে স্বাবলম্বী, দক্ষ, মজবুত ভারতবর্ষ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
ভবানীপুরের শরৎ বোস রোডের উপর মাথা তুলে দঁাড়িয়ে এই দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম। যার সম্পাদক শুভেন্দ্র মৌলিকের কথায়, “দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম কোনও প্রতিষ্ঠান নয়। এটা নেতাজির অনেক কাজের মধে্য একটা কাজ।” তঁার ‘শেষ কাজ’ হিসাবে সিঙ্গাপুরে রামকৃষ্ণ মিশনের দ্বারোদ্ঘাটনে ৫০ হাজার পাউন্ড দান করেছিলেন নেতাজি। কোন ভাবনা থেকে এই সেবাশ্রম গড়েছিলেন তা উল্লেখ করে সুভাষচন্দ্রের এককালের সহকর্মী অমৃতলাল চট্টোপাধ্যায়ের লিখেছেন, ‘অনাথ আশ্রম কথাটায় সুভাষচন্দ্রের সায় ছিল না। তঁাহার মতে অনাথ কথাটায় বালকদের মনে কোনও প্রকার ব্যথা আনিতে পারে।’ তাই সেবাশ্রম। তার আগে মুষ্টিভিক্ষা করে নেতাজি তৈরি করে ফেলেছেন দক্ষিণ কলিকাতা সেবক সমিতি, দরিদ্রনারায়ণ সেবা করবেন বলে।

সেবাশ্রম গড়ার সিদ্ধান্ত হল ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে বসে। প্রথম সভাপতি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সম্পাদক নেতাজি। বর্তমানে ৫৬ জন আবাসিককে নিয়ে হইহই করে চলছে সেবাশ্রম। বর্তমানে যার সভাপতি প্রাক্তন বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, সহ-সভাপতিদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিচারক শম্ভু চক্রবর্তী, ডা. অশোককুমার ঘোষ, অরবিন্দ ভবনের কর্তা বিশ্বজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, প্রাক্তন বিচারক সৌমিত্র পাল। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত স্কুলেই রয়েছে প্রাইমারি শিক্ষার ব্যবস্থা। তার পর যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক ভর্তি হয় নানা স্কুলে। থাকার সুবিধা রয়েছে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত পড়ুয়াদের। সরকারের নানা শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে, নানা প্রতিযোগিতায় বারবার সেরার শিরোপা পেয়েছে তারা। এবার ঠিক হয়েছে, নেতাজির মাতৃসাধনা, মায়ের প্রতি ভালোবাসা, দেশমায়ের প্রতি ত্যাগ-সেবার বোধ থেকে লেখা নানা চিঠি নিয়ে একটি গীতি আলেখ্য পড়ে শোনানো হবে ২৩ জানুয়ারি। দায়িত্বে স্বস্তিক, সৃজন, দেবজিৎদের কিশোরবাহিনী। সরস্বতী পুজোর সাজে-আলপনায় মাতাচ্ছে মোহিত, গোপীনাথরা। থাকবে গান-নাটক, আলাপচারিতা। আসবেন প্রাক্তন আবাসিকরাও।
সেবাশ্রম গড়ার সিদ্ধান্ত হল ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে বসে। প্রথম সভাপতি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সম্পাদক নেতাজি। বর্তমানে ৫৬ জন আবাসিককে নিয়ে হইহই করে চলছে সেবাশ্রম। বর্তমানে যার সভাপতি প্রাক্তন বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়।

পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষায় কেউ যেতে চাইলে বা ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ে যেতে চাইলে তারও ব্যবস্থা করে দেয় সেবাশ্রম। চিঠিপত্রে জানা যায়, মান্দালয়ের কারাবাসে থাকাকালীনও সেবাশ্রমের ছাত্র সংখ্যা, বাগান, রান্না, বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটির খবর নিচ্ছেন নেতাজি, বলে দিচ্ছেন কারা কী ধরনের কাজে যুক্ত হতে পারে। একবার লিখলেন, ‘আমি কংগ্রেসের কাজ ছাড়িতে পারি, তবুও সেবাশ্রমের কাজ ছাড়া আমার পক্ষে অসম্ভব।’ সম্পাদক শুভেন্দ্র মৌলিকের কথায়, “নেতাজি কীভাবে মারা গিয়েছেন, কবে মারা গিয়েছেন, কী খেতেন, এসব নিয়েই বেশিরভাগে মেতে। তাঁর চিঠি পড়লে, করে যাওয়া কাজ দেখলে, তিনি কী চেয়েছেন জানলে জীবনের অর্থ বদলে যায়। নেতাজি কখনও চাননি বেকার হয়ে কেউ বসে থাকুক। বলতেন প্রতে্যককে নূ্যনতম এমন শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে যার জেরে সে স্বাবলম্বী হয়, তবেই দেশ এগোবে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল
-
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর
-
গাড়িতে বোমা, প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করে ‘সহমরণে’র ফাঁদ, তারপর…