অর্ণব আইচ: বউদি, মাল চাই। অজয়নগরে আমার ফ্ল্যাটে পৌঁছে দাও। ড্রাগস-অন-কল। অথবা, মাদকের ‘হোম ডেলিভারি’। যাদবপুরের রংকলে বৌদির চায়ের দোকানে ফোনে অর্ডার। ‘বৌদি’ ছবি দাসের ছেলে হুলো দাস পৌঁছে যায় ফ্ল্যাট অথবা কোনও রাস্তার মোড়ে। হাত মুঠো করে পুরিয়া তুলে দেয় ক্রেতার হাতে। টাকা নিয়ে ফের চায়ের দোকানে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন জায়গার ছাত্র-ছাত্রী ছিল বৌদির খদ্দের। বহু ছাত্র-ছাত্রী চা খাওয়ার নাম করে আসত। কিনে নিয়ে যেত মাদক। প্রায় সারারাত খোলা থাকত দোকান। বেশি রাতে অত্যাধুনিক বাইকে করে আসত বহু যুবক। অনেকেই রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে ফোন করত। ছবি পাচারের কাজে লাগাত তার পাঁচ বছরের নাতিকেও। ওই শিশুটি গিয়ে খদ্দেরকে দিয়ে আসত মাদক।
‘পাতা’ অর্থাৎ হেরোইন বা ব্রাউন সুগারের সঙ্গে সঙ্গে ছবির চায়ের দোকান থেকে পাচার হওয়া শুরু হয়েছিল মাদক ইঞ্জেকশন। মাদক পাচারের মাথা ছবি, তার ছেলে হুলো ও পুত্রবধূ খুকু সিরিঞ্জের নেশা ধরাতে শুরু করেছিল এলাকার বহু যুবককে। রংকল ছাড়াও পাশের পাড়া মাদারতলা, পাইপবস্তি, ঝিলমিল বস্তির বহু যুবকের রাতের ঠিকানা হয়ে উঠেছে বউদির চায়ের দোকান।
[বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের দরজায় ধরনা, পুড়ে মরার হুমকি মহিলার]
পাঁচদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে মাদারতলার মাদকাসক্ত যুবক আমির আলি পিয়াদার। কেরলের চাকরি ছেড়ে এসে সে পড়ে থাকত বউদির দোকানে। আমিরের ক্ষুব্ধ স্ত্রী জিনাত বিবি জানান, স্বামীকে জোর করে কাজে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক বছর ধরে আমির কোনও কাজই করতেন না। হেরোইন ছেড়ে ধরেছিলেন সিরিঞ্জের নেশা। ধীরে ধীরে বিকল হয়ে পড়েছিল শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। তাঁর চিকিৎসা চলছিল বাঙুর হাসপাতালে। তবুও বাঁচেননি তিনি। পরপর দুই যুবক আমির ও অমিত মাদকের বলি হওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। মাদারতলারই অন্য এক যুবক সাহেব আলি মোল্লা বছরখানেক ধরেই ধরেছিলেন সিরিঞ্জের নেশা। তাঁর দিদি বিউটি পার্লারে চাকরি করে কোনওমতে সংসার চালান। আর সাহেব দিদির কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে ছবি বউদির দোকান থেকে নিয়ে আসত মাদকের ইঞ্জেকশন। দিনের পর দিন একই সুচ ফোটাতেন নিজের ডান পায়ে। সুচে জং ধরে গিয়েছিল। তবুও নেশার ঘোরে সাহেব সেই সুচই ফোটাতেন। তার ফল পেয়েছেন সাহেব। পায়ের যন্ত্রণা নিয়ে বাঙুর হাসপাতালে যান। চিকিৎসকরা জানান, তাঁর পায়ে ‘গ্যাংরিন’ হয়েছে। ডান পা কেটে বাদ দিতে হবে। এখন সাহেব মাঝেমাঝেই তাকিয়ে থাকেন নিজের ব্যান্ডেজবাঁধা পায়ের দিকে। কিছুদিন বাদে এই পা আর থাকবে না।
[শহরে মহিলা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার অটোর স্টিয়ারিংয়ে হাত প্রমীলাদের]
জানা গিয়েছে, ছবি দোকান ও মাদকের কারবার চালালেও তার মূল সহযোগী ছিল তার ছেলে সঞ্জীব ওরফে হুলো ও তার স্ত্রী খুকু। হুলোই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘুটিয়ারি শরিফ থেকে চোরাপথে নিয়ে আসত হেরোইনের পুরিয়া ও মাদক ইঞ্জেকশনের অ্যাম্পুল। পাচার করার সময় একাধিকবার সে জেলা পুলিশ ও রেল পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। পরে জামিন পেয়ে ফের শুরু করেছে মাদকের কারবার।
সর্বশেষ খবর
-
ফের রণক্ষেত্র মণিপুর, স্কুলের প্রধানশিক্ষক-সহ ৫ জনের রক্তে লাল হল মাটি!
-
‘বেঁচে আছে তো?’ বেড়াতে গিয়ে বিধ্বস্ত নেপালে নিঁখোজ কলকাতার ৬! উৎকণ্ঠায় পরিবার
-
মুহূর্তে ‘জলরাক্ষস’ গ্রাস করল স্ত্রী-পুত্রকে! নেপালের ব্যবসায়ীর দু’চোখে এখনও আতঙ্ক ও বিষাদ
-
ক্যামাক স্ট্রিটে ফের ঝুলল ‘বেআইনি’ হোর্ডিং! ‘যতদূর যেতে হয়, যাব’ পুলিশের সঙ্গে গাজোয়ারির পর হুঁশিয়ারি অভিষেকের
-
মহারাষ্ট্র পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ‘ফাঁস’! ব্যর্থ প্রেমকাহিনিতেই প্রকাশ্যে কেলেঙ্কারি