অর্ণব আইচ: পরনে ঝকঝকে ইউনিফর্ম। মাথায় নীল হেলমেট। কোমরে রিভলভার। শহরের রোমিওরা সাবধান।
এবার থেকে বাইকে করে শহরজুড়ে টহল দেবে কলকাতা পুলিশের প্রমীলাবাহিনী। লালবাজার জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এই বাহিনীর নাম দেওয়া হয়নি। যদিও এই বাহিনীকে ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’ নামে ডাকতে শুরু করেছেন কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। শহরে শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিং কমাতে যেমন রোমিও ধরবে এই মহিলা পুলিশবাহিনী, আবার ট্রাফিকের সমস্যা হলেও প্রমীলারা নেমে পড়বেন রাস্তায়। আর কিছুদিনের মধ্যেই পুরোদমে রাস্তায় নামে এই বাহিনী। পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে গিয়ে এই বাহিনীকে উৎসাহ দেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। কলকাতা পুলিশের অঙ্গ হিসাবে তাঁদের সাহসের সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
[৬০ হাজার টাকায় রফা, কৈখালিতে সিভিক ভলানটিয়ার খুনে গ্রেপ্তার ২ সুপারি কিলার]
পুলিশ জানিয়েছে, এই প্রমীলা বাহিনীতে রয়েছেন ৪০ জন। কলকাতা পুলিশের প্রত্যেকটি ডিভিশনের কয়েকটি বিশেষ এলাকায় বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াবে প্রমীলাবাহিনী। প্রায় দু’মাস ধরে তাঁদের কঠিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের শেখানো হয়েছে, যে কোনও অবস্থায় তাঁরা যেন ভয় না পান। প্রয়োজনে খালি হাতেও দুষ্কৃতীদের সঙ্গে লড়তে পারেন এই মহিলা পুলিশকর্মীরা। আপদকালীন যে কোনও পরিস্থিতিতে এই মহিলা পুলিশবাহিনী পৌঁছে যাবে ঘটনাস্থলে। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, স্কুল ও কলেজের ক্লাস শুরু ও ছুটির সময় মেয়েদের স্কুল ও কলেজের গেটের কাছে পৌঁছে যাবেন এই মহিলা পুলিশকর্মীরা। তাঁদের নজর থাকবে রাস্তায় ‘রোমিও’দের উপর। কারও উপর সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে বা তাদের ধরে জেরা করবে এই স্কোয়াড। বিভিন্ন উৎসবের সময়ও কাজ বাড়বে এই বাহিনীর। বিশেষ করে পুজোর সময় সারা রাত ধরেও রাস্তায় বাইক নিয়ে টহল দেবেন এই মহিলা পুলিশকর্মীরা। সাধারণভাবে ছুটির দিনগুলোয় যেখানে মানুষের ভিড় বেশি থাকে, সেখানে যাতে ইভটিজিং বা শ্লীলতাহানি না হয়, সেদিকে নজর থাকবে তাঁদের। আবার পার্ক স্ট্রিট ও শেক্সপিয়র সরণি এলাকায় ইভটিজিং রুখতেও টহল দেবেন তাঁরা। বড়দিন বা বর্ষবরণের উৎসবে মহিলাদের হেনস্তা রুখতে রাস্তায় থাকবে এই প্রমীলাবাহিনী।
[হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের পর কেমন আছেন দিলচাঁদ? জানালেন চিকিৎসকরা]
এদিকে, কলকাতা পুলিশ অ্যাথলেটিক ক্লাবে আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ চলছে শহরের সাড়ে তিনশো মহিলার। যদি কোনও মহিলাকে ঘরের ভিতর আটকে রেখে অত্যাচার চালানো হয়, কীভাবে তাঁরা পালটা সেই ব্যক্তিকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নিজেকে রক্ষা করবেন, সেই পদ্ধতি তাঁদের ইতিমধ্যেই শেখানো হয়েছে। এছাড়াও রাস্তায় ইভটিজার ও রোমিওদের হাত থেকে বাঁচার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে তাঁদের। বুধবার এই প্রশিক্ষণের শেষ দিনে পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার অংশগ্রহণকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সর্বশেষ খবর
-
গিয়েছিলেন হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে, জাপানে রহস্যমৃত্যু খড়গপুর আইআইটি পড়ুয়ার
-
‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়ানো রাহুলকে তোপ! জিডিপির আশাতীত সাফল্যে ভিডিও বার্তা মোদির
-
সাতসকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পানাগড়ে, আগুনে পুড়ে ছাই শোরুমের সমস্ত স্কুটি
-
দ্বিতীয় বিয়েতেও মিলল না সুখ! ছ’মাস পেরনোর আগেই তাল কাটল র্যাপার বাদশার দাম্পত্যে
-
‘অনেক যুদ্ধ, অনেক ক্ষত’, বিদায়বার্তায় মেসির সঙ্গী ‘ব্রিন্দিস’, গানেই লড়াইয়ের কাহিনি শোনালেন লিও